সাদ্দাম-ইনানকে ফোনে হামলার নির্দেশ দেন ওবায়দুল কাদের
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৬, ১২:৩৩ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং তৎকালীন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের একটি ফোনালাপের রেকর্ড উপস্থাপন করেছে প্রসিকিউশন। প্রসিকিউশনের দাবি, ওই ফোনালাপে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চে মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় প্রসিকিউশন এই কল রেকর্ড দাখিল করে।
প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১১ জুলাই ওবায়দুল কাদের তৎকালীন ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। ওই আলাপচারিতায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অবস্থান এবং তাদের কর্মসূচি সম্পর্কে জানতে চান তিনি।
ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপিত রেকর্ডে প্রসিকিউশনের দাবি, সাদ্দাম হোসেন জানান যে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন এবং সন্ধ্যায় পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর ফোনালাপে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে কথোপকথন হয় বলে প্রসিকিউশন আদালতে উল্লেখ করে।
এ সময় সাদ্দাম হোসেনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, তারা রাজনৈতিকভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে চাইলেও পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশের কারণে আন্দোলনস্থলের দিকে যেতে পারেননি। কল রেকর্ডে এ বিষয়ে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনার কথাও উঠে এসেছে বলে প্রসিকিউশন জানায়।
মামলায় ওবায়দুল কাদের ছাড়াও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, তৎকালীন ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান আসামি হিসেবে রয়েছেন।
প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক। তাদের বিরুদ্ধে মামলার যুক্তিতর্ক পর্ব চলমান রয়েছে।
চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনাল-২ সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। পরে গত ২ আগস্ট মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৮ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।
