বর্ষায় যে ৬ সবজি খাওয়া থেকে বিরত থাকবেন
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৯ এএম
ছবি: সংগৃহীত
তীব্র গরম থেকে স্বস্তি মেলে বর্ষাকালে। কারণ বর্ষাকালে উচ্চ আর্দ্রতা ও স্যাঁতসেঁতে অবস্থা ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ও পরজীবীর বৃদ্ধিকে উৎসাহিত করে। যার ফলে কিছু খাবার থেকে পেটের সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই বর্ষায় শাক-সবজি খাওয়ার আগে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা অবশ্যই প্রয়োজন।
চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক, যে ৬ সবজি কেনার বিষয়ে সতর্ক থাকবেন—
শাকসবজি
বর্ষাকালে শাক-সবজি কেনার আগে সতর্কতা অবলম্বন করা খুবই জরুরী বিষয়। বর্ষাকালে পালং শাক, লেটুস, মেথি, ধনে পাতাসহ অন্যান্য শাকসবজি আর্দ্রতা, কাদা এবং পোকামাকড় আটকে রাখে। এই স্যাঁতসেঁতে অবস্থার কারণে এই ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকের সংক্রমণ আরো বৃদ্ধি পায়। ভালোভাবে ধুয়ে রান্না না করলে পেটের সংক্রমণ ঝুঁকি আরো অধিক পরিমাণে বৃদ্ধি পায়।
বাঁধাকপি
বর্ষায় বাঁধাকপি একেবারেই এড়িয়ে চলা প্রয়োজন। কারণ বাঁধাকপির পাতার স্তরগুলোতে পোকামাকড় ও ময়লা লুকিয়ে থাকে। অতিরিক্ত আর্দ্রতা ছত্রাকের বৃদ্ধিকেও উৎসাহিত করে। ফলে রান্নার আগে এটি পুরোপুরি পরিষ্কার করা আরো কঠিন হয়ে পড়ে।
আরো পড়ুন: মানসিক স্বাস্থ্যে খাদ্যাভ্যাসের গুরুত্ব
বেগুন
বর্ষাকালে বেগুনে পোকার উপদ্রব অনেক বেশি বেড়ে যায়, তাই বর্ষাকালে বেগুন এড়িয়ে চলুন। বাইরের খোসা দেখতে একদম ঠিক মনে হলেও, এর ভেতরে প্রায়ই ছোট ছোট পোকা পাওয়া যায়। রান্না করার আগে সবসময় এটি কেটে সাবধানে পরিষ্কার করে নিন।
ফুলকপি
বর্ষায় ফুলকপি খাওয়া থেকেও বিরত থাকন। কারণ এটি এমন একটি সবজি, যার ফুলের মধ্যে বর্ষাকালে ক্ষুদ্র পোকামাকড় বাসা বাঁধে। আর্দ্র আবহাওয়া পোকামাকড়ের জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করে। তাই যদি আপনি এটি কেনেন, তবে ভালোভাবে পরিষ্কার করা উচিত।
ব্রকোলি
ফুলকপিএ মত ব্রকোলি এর ঘন ও বন্ধ ফুলগুলোর ভেতরে আর্দ্রতা, ময়লা ও পোকামাকড় সহজে আটকে থাকে, যা থেকে ছত্রাক ও ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া জন্মায়। তাই বর্ষাকালে ব্রকোলি খাওয়া এড়িয়ে চলাই ভালো। বর্ষায় স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়াযর কারণে এ সবজির গায়ে ও ভেতরে খুব সহজেই মল বা ছত্রাক জন্মায়, যা পেটের সমস্য বা ইনফেকশনের কারণ হতে পারে। আর বর্ষাকালে আমাদের হজমশক্তি এমনিতেই দুর্বল থাকে। তাই ব্রকোলির মতো ভারি ও গ্যাস সৃষ্টিকারী সবজি হজম করতে সমস্যা হতে পারে।
ক্যাপসিকাম
ক্যাপসিকামের পাতলা খোসা ও উচ্চ জলীয় উপাদানের কারণে আর্দ্র পরিবেশে এটি দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার প্রবণতা থাকে। এটি ছত্রাক সংক্রমণ ও নরম পচনের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে যখন ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা হয়। সঠিকভাবে পরিষ্কার ও রান্না করা না হলে নষ্ট ক্যাপসিকাম থেকে বমি বমি ভাব বা ডায়রিয়ার মতো খাদ্যবাহিত অসুস্থতা হতে পারে।
মাশরুম
বর্ষাকালে মাশরুম এড়িয়ে চলুন। কারণ তাজা মাশরুমে পানির পরিমাণ বেশি থাকায় তা দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। বর্ষাকালে আর্দ্রতা ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকের বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করে। ফলে এগুলোর সংরক্ষণকাল কমে যায়। যদি না আপনি কোনো বিশ্বস্ত বিক্রেতার কাছ থেকে কিনে সঙ্গে সঙ্গে খেয়ে ফেলেন, তবে এগুলো এড়িয়ে চলাই ভালো।
বর্ষায় এ সবজি গুলি খাওয়া উচিত নয়, তবে আপনি চাইলে আপনার বিশ্বস্ত বিক্রেতাদের কাছ থেকে তাজা সবজি কিনতে পারেন। রান্নার আগে পানির নিচে সবজিগুলো ভালোভাবে ধুয়ে নিন এবং ১৫-২০ মিনিটের জন্য লবণপানি কিংবা ভিনিগারের দ্রবণে ভিজিয়ে রাখুন।
বর্ষাকালে কাঁচা খাওয়ার পরিবর্তে সবজি ভালোভাবে রান্না করে খান। লাউ, ঝিঙ্গা, কুমড়ো ও চালকুমড়োর মতো মৌসুমি সবজি বেছে নিন। যেগুলো এ সময়ে সাধারণত বেশি নিরাপদ বলে মনে করা হয়।
