আখেরি চাহার শোম্বা কী, কেন পালন করা হয়?
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬, ১০:৪৮ এএম
ছবি : সংগৃহীত
হিজরি সনের সফর মাসের শেষ বুধবারকে আখেরি চাহার সোম্বা বলা হয়। ‘আখেরি’ আরবি শব্দ, যার অর্থ শেষ। আর ‘চাহার সোম্বা’ ফারসি শব্দ, যার অর্থ বুধবার। অর্থাৎ, সফর মাসের শেষ বুধবারই আখেরি চাহার সোম্বা নামে পরিচিত।
ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলিম সমাজে দিনটি দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। প্রচলিত বর্ণনা অনুযায়ী, মহানবি হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনের শেষ দিকে সফর মাসে অসুস্থতার সময় এই দিনে তিনি সাময়িকভাবে সুস্থতা অনুভব করেছিলেন।
বর্ণিত আছে, ওই সময় নবিজি (সা.) গোসল করেন এবং মসজিদে গিয়ে নামাজে অংশ নেন। এই ঘটনাকে স্মরণ করে উপমহাদেশের অনেক মুসলমান আখেরি চাহার সোম্বায় আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেন।
কী কী আমল করা হয়?
আখেরি চাহার সোম্বা উপলক্ষে অনেকে নফল নামাজ আদায়, দোয়া, জিকির-আজকার ও কোরআন তিলাওয়াত করেন। পাশাপাশি গরিব ও অসহায় মানুষের মধ্যে খাবার, অর্থ বা প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণের প্রচলনও রয়েছে।
আরও পড়ুন: কেন জুম্মার দিনকে সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন বলা হয়?
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আখেরি চাহার সোম্বার জন্য ইসলামে নির্দিষ্ট কোনো ফরজ বা ওয়াজিব আমল নির্ধারিত নেই। তাই এদিন সাধারণ নফল ইবাদত, দোয়া, জিকির ও দান-সাদকা করা যেতে পারে। কিন্তু এসব আমলকে আখেরি চাহার সোম্বার জন্য বাধ্যতামূলক বা নির্দিষ্ট সুন্নত হিসেবে গণ্য করার বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।
কেন পালন করা হয়?
মূলত সফর মাসের শেষ বুধবারে মহানবি (সা.)-এর অসুস্থতার সময় সাময়িক সুস্থতা লাভের প্রচলিত বর্ণনাকে কেন্দ্র করেই উপমহাদেশে দিনটির বিশেষ গুরুত্ব তৈরি হয়েছে। অনেক মুসলমান এ উপলক্ষে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং নফল ইবাদত করেন।
তাই দিনটিকে কেন্দ্র করে কোনো নির্দিষ্ট বাধ্যতামূলক আমল পালনের পরিবর্তে সাধারণ ইবাদত, দোয়া, জিকির ও সাদকার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করা যেতে পারে।
