নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় ইরানের ১৩০ মিলিয়ন ডলার জব্দ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৮ এএম
ছবি : সংগৃহীত
ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ দফায় দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। একই সঙ্গে ১৩০ মিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি জব্দের ঘোষণা দিয়েছে ওয়াশিংটন। বুধবার (১৫ জুলাই) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছে।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি-সংক্রান্ত সমঝোতা ভেঙে যাওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসন তেহরানের বিরুদ্ধে চাপ আরো বাড়িয়েছে। এর অংশ হিসেবে নতুন নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি সামরিক তৎপরতাও জোরদার করা হয়েছে। মঙ্গলবার ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে বিমান হামলাও চালানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে অভিযোগ থাকা একাধিক ডিজিটাল ওয়ালেটের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এর ফলে সেসব ওয়ালেটে থাকা সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে আর্থিক লেনদেনে জড়িত একটি নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৫০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠানকেও কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে যুক্ত একাধিক ডিজিটাল ওয়ালেটের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ১৩০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের সম্পদ জব্দ করা হয়েছে।
আরো পড়ুন : মার্কিন আগ্রাসন চললে কখনই খুলবে না হরমুজ প্রণালি
তিনি বলেন, ডিজিটাল সম্পদের অপব্যবহারসহ ইরানের অবৈধ আর্থিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত করতে যুক্তরাষ্ট্র বদ্ধপরিকর। তিনি আরো বলেন, আমরা অর্থের উৎস শনাক্ত করার কাজ অব্যাহত রাখব এবং ইরানি শাসকগোষ্ঠীকে তাদের অবৈধ আয়ের উৎস থেকে বঞ্চিত করব।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় বিশ্বের অন্যতম ক্রিপ্টো লেনদেনসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান টেথারও রয়েছে। এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলে ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ৩৪৪ মিলিয়ন ডলার মূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি জব্দ করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন।
এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, চীন, ইরাক, কাতার ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশে ইরানের কয়েক বিলিয়ন ডলারের সম্পদ আটকে রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা, মূল্যস্ফীতি এবং দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় অন্তত ২৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়ের দাবি জানিয়েছে তেহরান। ইরানের দাবি, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তাদের প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার আটকে রয়েছে, যদিও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী এ অঙ্ক কিছুটা কম।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের আটকে থাকা অর্থের সবচেয়ে বড় অংশ রয়েছে চীনে। বিভিন্ন সূত্রের হিসাব অনুযায়ী, সেখানে ২০ থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ অর্থ আটকে আছে, যার বেশিরভাগই তেল রপ্তানির আয়। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও চীন এখনও ইরানি তেলের অন্যতম প্রধান ক্রেতা।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যে ডলারভিত্তিক লেনদেনের কারণে তেহরান এসব অর্থে সরাসরি প্রবেশাধিকার পাচ্ছে না। এর একটি অংশ চীনা পণ্য ও যন্ত্রপাতি কেনায় ব্যবহার হলেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ এখনও অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।
