বাংলাদেশকে দুঃসংবাদ দিল কাতার
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩৪ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল ব্যাহত থাকায় বাংলাদেশ, পাকিস্তানসহ এশিয়ার কয়েকটি দেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের স্থগিতাদেশ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়েছে কাতার। দেশটির রাষ্ট্রীয় জ্বালানি কোম্পানি কাতারএনার্জি ‘ফোর্স ম্যাজিউর’ বা অনিবার্য পরিস্থিতির নোটিশের মেয়াদ বাড়ানোর পর এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
ইতালির জ্বালানি কোম্পানি এডিসন ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সূত্রের বরাতে রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
কাতারএনার্জির এই ‘ফোর্স ম্যাজিউর’ নোটিশ প্রথম জারি করা হয় এপ্রিলে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে এলএনজি পরিবহনে বিঘ্ন ঘটার পর সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় কয়েক দফায় নোটিশের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।
এশিয়ার দুটি বাণিজ্যিক সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানসহ কয়েকটি এশীয় ক্রেতাকে নভেম্বর পর্যন্ত সরবরাহ স্থগিত থাকার বিষয়টি জানানো হয়েছে। একই সময়ে ইউরোপের বড় ক্রেতা এডিসন জানিয়েছে, তারা ডিসেম্বরের শুরু পর্যন্ত কাতার থেকে এলএনজি কার্গো পাবে না।
সংঘাত ও হরমুজ প্রণালিতে পরিবহন সংকটের কারণে কাতারের এলএনজি রপ্তানি ব্যাপকভাবে কমেছে। রয়টার্সের হিসাবে, আগস্টের শেষ নাগাদ দেশটির এলএনজি রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৯৬ শতাংশ কমে যায়।
বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান আইসিআইএসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের আগস্টের শেষ পর্যন্ত কাতার মাত্র ১৮টি এলএনজি কার্গো রপ্তানি করতে পেরেছে। গত বছরের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ৫০৯টি।
কাতারএনার্জির সরবরাহ স্থগিতের প্রভাব পড়েছে ইতালির জ্বালানি কোম্পানি এডিসনের ওপরও। কোম্পানিটি জানিয়েছে, আরও কয়েকটি চালান বাতিল হওয়ায় কাতার থেকে না পাওয়া কার্গোর সংখ্যা বেড়ে ৩৫টিতে দাঁড়িয়েছে। সরবরাহ ঘাটতি পূরণে প্রতিষ্ঠানটি বিকল্প উৎস, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহকারীদের ওপর নির্ভর করছে।
এডিসনের সঙ্গে কাতারএনার্জির দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ চুক্তি রয়েছে। তবে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতির কারণে ওই চুক্তির আওতায় নিয়মিত সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালিতে কাতার-সংযুক্ত কিছু এলএনজি ট্যাংকারের চলাচল সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা বাড়লেও সরবরাহ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।
