রিয়াদে হামলায় আহত ২৪ বাংলাদেশির পরিচয় মিলেছে
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৬ এএম
ছবি : সংগৃহীত
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের বাদশা খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আহত ২৪ বাংলাদেশির পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১১ জন প্রবাসী কর্মী এবং ১৩ জন ওমরাহ ভিসাধারী। আহত ব্যক্তিরা রিয়াদের অন্তত ১১টি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আহত বাংলাদেশিদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় সময় শনিবার বিকেল সোয়া ৩টার দিকে বিমানবন্দরের ৩ নম্বর টার্মিনালের ওপর একটি ক্ষেপণাস্ত্র বিস্ফোরিত হয়। এতে দুই বাংলাদেশিসহ ১৩ জন নিহত এবং ৩০৮ জন আহত হন।
এর আগে হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশির পরিচয় জানিয়েছিল প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়। তাঁদের একজন বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামের শাহেদ আহম্মেদ। তিনি রিয়াদের সাদ আল ঈসা কন্ট্রাক্টিং কোম্পানির জেদ্দা প্রকল্পে প্লাম্বার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ভাইয়ের মৃত্যুর পর ছুটিতে দেশে এসে রিয়াদ হয়ে কর্মস্থলে ফিরছিলেন তিনি।
অন্যজন কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদরপুর গ্রামের নাসরুল্লাহ বদরপুরি। তিনি ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরব গিয়ে ট্রানজিটে রিয়াদ থেকে জেদ্দায় যাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন।
১১ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত বাংলাদেশিরা
সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের বরাত দিয়ে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে আহতদের চিকিৎসার বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়েছে।
কিং আব্দুল্লাহ হাসপাতাল (আইসিইউ): এখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের ওমরাহযাত্রী হাফেজ হাসান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের কাজী নুরুল্লাহ এবং প্রবাসী কর্মী মো. ওমর ফারুক। দূতাবাসের প্রতিনিধিরা তাঁদের সঙ্গে দেখা করে খোঁজখবর নিয়েছেন। বর্তমানে তাঁদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে।
ন্যাশনাল গার্ড হাসপাতাল: অচেতন অবস্থায় ভর্তি রয়েছেন নওগাঁর রাণীনগরের সাফফাত রহমান এবং কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের দাউদুল ইসলাম। তাঁরা দুজনই ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরব গিয়ে ট্রানজিটে ছিলেন।
রিয়াদ মেডিকেল হাসপাতাল: চিকিৎসাধীন রয়েছেন ঢাকার লালবাগের সাইদুল ইসলাম সৌরভ এবং মিরপুরের আবুল মনসুর মো. রিয়াজ উদ্দীন। তাঁরা দুজনই ওমরাহ ভিসায় গিয়ে জেদ্দায় যাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন।
প্রিন্স সুলতান মিলিটারি হাসপাতাল: এখানে ভর্তি রয়েছেন ঢাকার ডেমরার ওমরাহযাত্রী আব্দুল্লাহ।
সুলাইমান আলহাবিব হাসপাতাল (তাখাসসুসি শাখা): চিকিৎসাধীন আছেন ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের ওমরাহযাত্রী আরমান হোসেন এবং প্রবাসী কর্মী মোহাম্মদ ও ফয়সাল আহমদ আব্দুল হক।
কিংডম হাসপাতাল: এখানে ভর্তি রয়েছেন প্রবাসী কর্মী রফিক মিয়া।
কিং ফাহাদ মেডিকেল সিটি হাসপাতাল: চিকিৎসাধীন রয়েছেন ওমরাহযাত্রী ইসমাইল হোসাইন ও মিসবাহ উদ্দীন হীরক এবং প্রবাসী কর্মী মো. রায়হানুল ইসলাম।
প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ হাসপাতাল: এখানে চিকিৎসাধীন পাঁচ প্রবাসী কর্মী হলেন সালমা আক্তার, শাহাদাত হোসেন, মোশাহিদ আহমেদ সৈকত, জাহিদ আহমেদ ও সোবহে সাদেক মো. শাহজাহান সরকার।
এস্টার সনদ হাসপাতাল: চিকিৎসাধীন রয়েছেন প্রবাসী কর্মী আসাদুল ইসলাম ও ওমরাহযাত্রী জামাল।
সুলাইমান ফকিহ হাসপাতাল: এখানে ভর্তি রয়েছেন ওমরাহযাত্রী নাজমা আক্তার।
সুলাইমান আলহাবিব হাসপাতাল (আলসাহাফা শাখা): চিকিৎসাধীন রয়েছেন ওমরাহযাত্রী উমায়ের ও আব্দুল্লাহ কামিল।
আটকে পড়া প্রায় ৫০০ বাংলাদেশি যাত্রীকে সহায়তা
হামলার পর বিমানবন্দর ও সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ রুটে আটকে পড়া প্রায় ৫০০ বাংলাদেশি যাত্রীকে সহায়তা করেছে রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস।
দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, বিমানবন্দরের ৩ নম্বর টার্মিনালে সৌদিয়া এয়ারলাইন্স, রিয়াদ এয়ার ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের যাত্রী এবং সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ গন্তব্যে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা ১০০ জনের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাঁদের রিয়াদের ম্যারিয়ট হোটেল, রেডিসন হোটেল ও প্রিন্সেস নূরা ইউনিভার্সিটির ডরমিটরিতে রাখা হয়।
এ ছাড়া এহরাম পরা ৬৭ জন ওমরাহযাত্রীকে বিশেষ বাসে রিয়াদ থেকে জেদ্দায় পাঠানো হয়েছে। সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের বাতিল হওয়া এসভি-৮০৪ ফ্লাইটের প্রায় ৪০০ যাত্রীকে দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বাহরাইনগামী দুই বাংলাদেশি কর্মীকে স্থলবন্দর দিয়ে যেতে সহায়তা করেছে দূতাবাস।
রিয়াদ বিমানবন্দরে ফের হামলার খবর
এদিকে রোববার রিয়াদ বিমানবন্দরে চতুর্থবারের মতো হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের হুথিরা। হামলায় বিমানবন্দরে আগুন ধরে যাওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।
ইরান-সমর্থিত হুথিরা বিমান সংস্থা ও যাত্রীদের সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলো এড়িয়ে চলার সতর্কবার্তা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর এ হামলার খবর আসে।
ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সৌদি আরবের বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা বাদশা খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছাকাছি একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
শনিবারের হামলার আগে গত এক সপ্তাহে বিমানবন্দরটি আরও দুবার হামলার শিকার হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই হামলাগুলোতে চারজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হন। হামলায় সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বাংলাদেশ-সৌদি রুটে ফ্লাইট বাতিল
হামলার পর বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবগামী অন্তত আটটি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। রিয়াদ বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ ওঠানামা বন্ধ থাকায় বাতিলের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাতের মধ্যে হামলা ও সাধারণ মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। একই সঙ্গে রাজনৈতিক সংঘাত এড়িয়ে শান্তি ও সংলাপের পথে ফিরে আসার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছে ঢাকা।
