×

জাতীয়

নদী রক্ষায় স্থানীয় পর্যায়ে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে

Icon

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৪:৫৮ পিএম

নদী রক্ষায় স্থানীয় পর্যায়ে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা

নদী রক্ষায় স্থানীয় পর্যায়ে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে

‘প্রতিটি নদী রক্ষায় স্থানীয় পর্যায়ে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। নদী দখল, বালু ও পাথর উত্তোলনের সঙ্গে প্রভাবশালী, জনপ্রতিনিধি ও সরকারী দপ্তরের লোকজন জড়িত রয়েছে। দেশের নদীগুলো এখন বালুমহল, পাথরমহল, বর্জ্য ও ময়লার ভাগাড়ে পরিনত হয়েছে। গত ২০ বছরে পাথর ও বালু উত্তোলনের ফলে সরকারের যে টাকা আয় হয়েছে, তার চেয়ে অনেক বেশি টাকার জমি ও পরিবেশ ধ্বংস হয়েছে।’

সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে ‘বালু-পাথর উত্তোলন ও দখল দূষণে নদ-নদীর জীর্ণদশা এবং পরিবেশ সংকট ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন। বেসরকারী সংগঠন এএলআরডি, বেলা ও পানি অধিকার ফোরাম যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বেসরকারী সংগঠনের প্রতিনিধি ও গণমাধ্যম কর্মীরাও নদী রক্ষার আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবি সমিতির নির্বাহী পরিচালক এডভোকেট রিজওয়ানা হাসান বলেন, নদী দখল ও দূষণের অত্যাচার সহ্যের বাইরে চেলে গেছে। বালু উত্তোলনকারীরা আইনের উর্ধ্বে বলেই মনে হয়। বালু উত্তোলনে বাঁধা দিতে গিয়ে সর্বশেষ চট্টগ্রামে ৭ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। ২০১০ সালের আইন দিয়ে বালু উত্তোলন কিছু নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পরিবেশগত সমস্যা থাকলে বালুমহল লীজ দেয়া যাবে না বলেও নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু এসব মানা হচ্ছে না। চাঁদপুরের সেলিম খানকে হাইকোর্ট নদী থেকে বালু উত্তোলনের অনুমতি দিয়েছে। পরে আপীল বিভাগ হাইকোর্টের এই আদেশ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। ট্যানারীর দূষণে বুড়িগঙ্গা নষ্ট হয়ে গেছে। অথচ ট্যানারি শিল্প অনেক সৃষ্টি করা যাবে, কিন্তু একটি বুড়িগঙ্গা নদী সারা জীবনেও সৃষ্টি করা যাবে না। আইনে নদী রক্ষার কথা বলা আছে। কিন্তু বাস্তবে সরকারের সংশ্লিষ্টরা এই ব্যাপারে জোড়ালো ভূমিকা নিচ্ছে না। বালু উত্তোলনে বাঁধা দিতে গেলেই হামলা আর হুমকির শিকার হতে হচ্ছে।

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্বিবিদ্যালয়ের অধ্যাপক তুহিন ওয়াদুদ বলেন, দেশে নদীর সংখ্যা কত তা কেউ বলতে পারে না। এটা থেকেই বোঝা যায় নদীর প্রতি আমরা কতটা যত্নশীল। রংপুর বিভাগের বিভিন্ন নদী থেকে জনপ্রতিনিধিরা বালু উত্তোলন করছে। জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান কোনো অভিযোগই আমলে নেন না। বালু ও পাথর উত্তোলন চক্র বেপরোয়া। এদের সঙ্গে প্রশাসনের লোকজনও বেপরোয়া অবস্থায় রয়েছে। দখলদারদের বিরুদ্ধে থানা পুলিশ একটি জিডিও নেয় না। সরকার চাইলে ১ বছরের মধ্যে দেশের সব নদী থেকে বালু ও পাথর উত্তোালন বন্ধ করতে পারে। কিছু নদী দখল মুক্ত হয়েছে। নদী দখলমুক্ত করতে পারে। আমাদের দাবি কেউ নদী দখল করলেই তাকে শাস্তি দিতে হবে। দখল-দূষণের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

সাভারের বশিরউদ্দিন বলেন, দখল ও দূষণে ধলেশ্বরী, বংশী, তুরাগ নদী একেবারেই শেষ অবস্থায় পৌঁছেছে। সুনামগঞ্জের সালেহীন শুভ বলেন, সিলেট এলাকার নদীগুলো বালু ও পাথর উত্তলনের কারণে করুন অবস্থায় পৌছেছে। শুধু পরিবেশ আইন দিয়ে নদীর দখল, দূষণ বন্ধ হবে না। অন্য আইনও ব্যবহার করতে হবে।

বান্দরবানের সাংবাদিক উসি থোয়াই মারমা বলেন, বান্দরবানের ৭টি স্থান থেকে পাথর উত্তোলনের ফলে নদী, ঝিরি, ঝর্না ও পরিবেশ ভয়াবহভাবে নষ্ট হচ্ছে। পাথর বহন করে নেয়ার জন্য অপরিকল্পিতভাবে পাহাড় ও গাছ কেটে রাস্তা বানাচ্ছে। এসব কাজে প্রভাবশালী চক্রের সঙ্গে স্থানীয় সাংবাদিকরাও জড়িত রয়েছে। সাতক্ষীরার মাধব চন্দ্র দত্ত বলেন, সাতক্ষীরার ছোট-বড় ২৭টি নদী থেকে প্রভাবশালী ও সরকারী দপ্তরের লোকজন বালু তুলে নিচ্ছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

কাফরুলে যুবদল কর্মীকে হত্যা, মামলা দায়ের

কাফরুলে যুবদল কর্মীকে হত্যা, মামলা দায়ের

সন্ধ্যার মধ্যে দেশের ৬ জেলায় ঝড়ের পূর্ভাবাস

সন্ধ্যার মধ্যে দেশের ৬ জেলায় ঝড়ের পূর্ভাবাস

দ্বিতীয় দিনেই মুখ থুবড়ে পড়ল বিজয়ের ‘জনা নায়াগান’

দ্বিতীয় দিনেই মুখ থুবড়ে পড়ল বিজয়ের ‘জনা নায়াগান’

সেমিকন্ডাক্টর খাতে বড় বিনিয়োগ পরিকল্পনা সরকারের

সেমিকন্ডাক্টর খাতে বড় বিনিয়োগ পরিকল্পনা সরকারের

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App