সর্বজনীন পেনশন স্কিমে গ্রাহকদের সুখবর দিল সরকার
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
সর্বজনীন পেনশন স্কিমের গ্রাহকদের জন্য মুনাফার হার বাড়িয়েছে সরকার। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিনিয়োগ করা অর্থের বিপরীতে গ্রাহকদের মুনাফার হার ১১ দশমিক ৬৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১১ দশমিক ৭২ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পেনশনারের মৃত্যুর পর নমিনি বা স্পাউসের পেনশন পাওয়ার বয়সসীমা ৭৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ৮০ বছর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) অর্থ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের চতুর্থ সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সভা পরিচালনা করেন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ও বোর্ডের সদস্য সচিব মো. সুরাতুজ্জামান।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সভায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিনিয়োগ করা অর্থের বিপরীতে সর্বজনীন পেনশন স্কিমের গ্রাহকদের মুনাফা নিয়ে আলোচনা শেষে নির্ধারিত হার অনুমোদন করা হয়। ফলে ওই অর্থবছরের বিনিয়োগের বিপরীতে গ্রাহকদের হিসাবে ১১ দশমিক ৭২ শতাংশ হারে মুনাফা যুক্ত হবে।
নমিনি বা স্পাউসের বয়সসীমা বাড়ল
সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাকে আরও জনবান্ধব ও অংশগ্রহণমূলক করার লক্ষ্যে পেনশনারের মৃত্যুর পর নমিনি বা স্পাউসের পেনশন পাওয়ার বয়সসীমা ৭৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ৮০ বছর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অর্থাৎ, পেনশনার আজীবন পেনশন পাবেন। তার মৃত্যুর পর নমিনি বা স্পাউস সর্বোচ্চ ৮০ বছর বয়স পর্যন্ত পেনশন সুবিধা পাবেন।
নিবন্ধিত প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার
চালুর প্রায় তিন বছরে সর্বজনীন পেনশনের চারটি কর্মসূচিতে এখন পর্যন্ত ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৯২০ জন নিবন্ধন করেছেন। এসব গ্রাহকের বিপরীতে মোট আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৮৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা।
চালুর প্রস্তাব শরিয়াহভিত্তিক সংস্করণ
সভায় সর্বজনীন পেনশন স্কিমের শরিয়াহভিত্তিক সংস্করণ চালুর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। প্রবাস, প্রগতি, সুরক্ষা ও সমতা—এই চার স্কিমের শরিয়াহভিত্তিক সংস্করণ চালুর জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শরিয়াহসম্মত বিনিয়োগের মাধ্যমে এসব স্কিম পরিচালনার সুযোগ তৈরি হলে দেশের মুসলিম জনগোষ্ঠীর একটি অংশকে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার আওতায় আরও সম্পৃক্ত করা সম্ভব হতে পারে।
বিশেষ পরিস্থিতিতে অর্থ উত্তোলনের সুযোগ
চাঁদাদাতাদের জন্য বিশেষ পরিস্থিতিতে অর্থ উত্তোলনের সুযোগ রাখার বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়েছে। ন্যূনতম পাঁচ বছর চাঁদা দেওয়ার পর শারীরিক বা আর্থিক অক্ষমতার মতো বিশেষ পরিস্থিতিতে নির্ধারিত শর্তে অর্থ উত্তোলনের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব নিয়ে সুনির্দিষ্ট সুপারিশসহ প্রস্তাব তৈরির সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এ ছাড়া গ্রাহক নিবন্ধন বাড়াতে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারগুলোকে দেওয়া কমিশন বাড়ানোর প্রস্তাবও আলোচনায় আসে। বর্তমানে ১৫ টাকা কমিশনের পরিবর্তে তা ২৫ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংক, ডাক বিভাগ ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসসহ অন্যান্য অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের কমিশন নির্ধারণের বিষয়েও আলোচনা হয়।
চালু হতে পারে স্বাস্থ্যবীমা
সর্বজনীন পেনশন স্কিমের আওতায় স্বাস্থ্যবীমা চালুর বিষয়টিও সভায় আলোচিত হয়েছে। তবে কী ধরনের মডেলে এটি চালু করা যায়, সম্ভাব্য আর্থিক ঝুঁকি বা ক্ষতির পরিমাণ এবং তা কীভাবে সমন্বয় করা হবে—এসব বিষয়ে আরও বিশ্লেষণ করা হবে।
জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তার আওতায় আনার লক্ষ্যেই সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা পরিচালিত হচ্ছে। গ্রাহকদের আস্থা বাড়ানো, বিনিয়োগের সুফল দেওয়া এবং নতুন সুযোগ-সুবিধা যুক্ত করার মাধ্যমে স্কিমটির পরিধি আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সভায় অর্থ সচিবসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের প্রতিনিধি, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান এবং এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
