সর্বজনীন পেনশন স্কিমে সুযোগ-সুবিধা বেড়েছে, সেগুলো কী
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
সর্বজনীন পেনশন স্কিমের গ্রাহকদের জন্য বেশ কিছু সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ (এনপিএ)। এর মধ্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বিনিয়োগের বিপরীতে মুনাফার হার ১১ দশমিক ৭২ শতাংশ নির্ধারণ, পেনশনারের মৃত্যুর পর নমিনি বা স্পাউসের পেনশন পাওয়ার বয়সসীমা ৮০ বছর করা এবং শরিয়াহভিত্তিক স্কিম চালুর অনুমোদন রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ের অর্থ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের চতুর্থ সভায় এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত ও আলোচনা হয়। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সভা পরিচালনা করেন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ও বোর্ডের সদস্য সচিব ড. মো. সুরাতুজ্জামান।
মুনাফা ১১.৭২ শতাংশ
২০২৫-২৬ অর্থবছরে সর্বজনীন পেনশন কর্তৃপক্ষের বিনিয়োগ করা অর্থের বিপরীতে গ্রাহকদের মুনাফার হার ১১ দশমিক ৬৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১১ দশমিক ৭২ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। সভায় এ মুনাফা প্রদানের অনুমোদন দেওয়া হয়। ফলে সংশ্লিষ্ট অর্থবছরের বিনিয়োগের বিপরীতে গ্রাহকদের হিসাবে নির্ধারিত হারে মুনাফা যুক্ত হবে।
নমিনি বা স্পাউস পাবেন ৮০ বছর পর্যন্ত
পেনশনারের মৃত্যুর পর তার নমিনি বা স্পাউসের পেনশন পাওয়ার বয়সসীমা ৭৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ৮০ বছর করা হয়েছে। অর্থাৎ পেনশনার আজীবন পেনশন পাবেন এবং তার মৃত্যুর পর যোগ্য নমিনি বা স্পাউস ৮০ বছর বয়স পর্যন্ত পেনশন সুবিধা পাবেন।
শরিয়াহভিত্তিক স্কিম চালুর অনুমোদন
সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় শরিয়াহভিত্তিক বা ইসলামিক ভার্সন চালুর অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে। প্রবাস, প্রগতি, সুরক্ষা ও সমতা—এই স্কিমগুলোর শরিয়াহভিত্তিক সংস্করণ চালুর জন্য কাঠামো ও পরিচালনপদ্ধতি তৈরির কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে। প্রয়োজনীয় অ্যাকচুয়ারিয়াল বিশ্লেষণ ও বিধিমালা প্রণয়নের পর এটি চালু করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
বিশেষ পরিস্থিতিতে অর্থ উত্তোলনের সুযোগ
ন্যূনতম পাঁচ বছর চাঁদা দেওয়ার পর শারীরিক বা আর্থিক অক্ষমতার মতো বিশেষ পরিস্থিতিতে নির্ধারিত শর্তে অর্থ উত্তোলনের সুযোগ দেওয়ার বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সুপারিশসহ প্রস্তাব তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ এটি এখনো চূড়ান্তভাবে কার্যকর সুবিধা হিসেবে চালু হয়নি।
নিবন্ধনে কমিশন বাড়ানোর প্রস্তাব
সর্বজনীন পেনশনে নতুন গ্রাহক বাড়াতে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন কমিশন বাড়ানোর প্রস্তাবও আলোচনায় এসেছে। বর্তমানে ১৫ টাকা কমিশনের পরিবর্তে ২৫ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে। ব্যাংক, ডাক বিভাগ ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসসহ অন্যান্য অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের কমিশন নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
স্বাস্থ্যবীমা নিয়েও আলোচনা
সর্বজনীন পেনশন স্কিমের আওতায় স্বাস্থ্যবীমা চালুর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সম্ভাব্য আর্থিক ঝুঁকি ও প্রয়োজনীয় মডেল বিশ্লেষণের পর এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এ ছাড়া পরিচালনা পর্ষদের সভায় আগের সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাকে আরও টেকসই, কার্যকর ও গ্রাহকবান্ধব করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তার আওতায় আনার লক্ষ্যেই সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা পরিচালিত হচ্ছে। গ্রাহকদের আস্থা বাড়ানো, বিনিয়োগের সুফল দেওয়া এবং নতুন সুযোগ-সুবিধা যুক্ত করার মাধ্যমে এ ব্যবস্থার পরিধি আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
