সরস্বতী পূজার দিন নির্বাচন নয়
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৫ জানুয়ারি ২০২০, ০৯:৫৫ এএম
সরস্বতী পূজার দিন নির্বাচন কমিশন (ইসি) ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তারিখ (৩০ জানুয়ারি) ঘোষণার পরই তা পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে আসছেন সংখ্যালঘু নেতারা। এ ছাড়া ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশসহ (টিআইবি) বিভিন্ন সংগঠনও এই তারিখ পরিবর্তনের দাবি করেছে। কিন্তু ইসি এখনো পর্যন্ত তাদের নির্ধারিত দিনেই নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে। তবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতারা বলছেন, নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তন না হলে কঠোর কর্মসূচি দেবেন তারা। বিষয়টি গড়াতে পারে উচ্চ আদালত পর্যন্তও। বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদ নামে একটি সংগঠন এ বিষয়ে উচ্চ আদালতে রিট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট রানা দাশগুপ্ত ভোরের কাগজকে বলেন, পূজানুষ্ঠান ও নির্বাচন একই সঙ্গে হতে পারে না। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সাক্ষাতের অনুমতি চেয়ে ইতোমধ্যে ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে একটি চিঠি দেয়া হয়েছে। সেই সাক্ষাতের পরই আমরা আমাদের কর্মসূচি ঘোষণা করব।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নির্মল কুমার চ্যাটার্জী বলেন, উদ্ভ‚ত পরিস্থিতিতে আমরা বৈঠক করেছি। বিবৃতি দিয়ে নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তনের দাবিও জানিয়েছি। কিন্তু কোনো ইতিবাচক সাড়া পাইনি। বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
ইসিকে ‘সাম্প্রদায়িক’ আখ্যা দিয়েছে হিন্দু পরিষদ। পরিষদের মুখপাত্র এডভোকেট সুমন কুমার রায় বলেন, তারিখ পরিবর্তনের অনুরোধ জানিয়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে আমরা দেশের বড় তিনটি রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টিকে (জাপা) স্মারকলিপি দিয়েছি। গত ২৪ ডিসেম্বর সিইসি’র কাছে চিঠি দিয়েছিলাম। কিন্তু সুফল মিলেনি। তারিখ পরিবর্তন না করলে নির্বাচন কমিশন অভিমুখে পদযাত্রা কর্মসূচি ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে পদত্যাগে বাধ্য করা হবে।
যুব পরিষদের সভাপতি গোপাল কর্মকার বলেন, নতুন তারিখ নির্ধারণ না করলে সারাদেশে গণআন্দোলন গড়ে তুলে দাবি আদায় করা হবে।
নেতারা বলছেন, নির্বাচন কমিশন ইতোপূর্বেও শারদীয় দুর্গোৎসবে সপ্তমী পূজার দিন (৫ অক্টোবর ২০১৯) জাতীয় সংসদের রংপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনের দিন ধার্য করেছিল এবং জোরালো প্রতিবাদ সত্তে¡ও তা উপেক্ষা করে সপ্তমী পূজার দিনই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আর এবারও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন।
