হজক্যাম্পে রিয়াল চুরির ঘটনায় গ্রেপ্তার ২
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ মে ২০২৬, ০৯:৫৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর আশকোনা হজক্যাম্পে হজযাত্রী দম্পতির সৌদি রিয়াল চুরির ঘটনায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এসময় তাদের কাছ থেকে চুরি হওয়া ২২ হাজার সৌদি রিয়ালের মধ্যে ১৭ হাজার ৫০০ রিয়াল এবং নগদ ৯০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
শুক্রবার (১ মে) রাজধানীর আশকোনায় হজক্যাম্পে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন- হজ অফিসের পরিচালক মো. লোকমান হোসেন, ডিএমপির উত্তরা উপবিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মির্জা তারেক আহমেদ বেগ ও মতলব সার্কেল এএসপি জাবীর হুসনাইন সানীবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- হাবিবুর রহমান ও নাদিম।
জানাযায়, গত ২২ এপ্রিল হজক্যাম্পে অবস্থানকালে হজযাত্রী মো. ইমান আলীর ব্যাগ থেকে ২২ হাজার সৌদি রিয়াল ও ১০ হাজার টাকা চুরি হয়।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, পাজামা-পাঞ্জাবি পরিহিত এক ব্যক্তি হজযাত্রীর ছদ্মবেশে অভিনব কায়দায় ব্যাগ থেকে টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ইমান আলীর ছেলে বাদী হয়ে ঢাকার বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার পর হজযাত্রী দম্পতি মানসিকভাবে ভেঙে পড়লেও ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে তাদের দুই হাজার রিয়াল সহায়তা দেন। এরপর তারা নির্ধারিত ফ্লাইটে সৌদি আরব গমন করেন।
তদন্তের ধারাবাহিকতায় সিটি এসবি’র ডিআইজি মীর আশরাফ আলীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান শুরু হয়। মতলব সার্কেলের এএসপি জাবীর হুসনাইন সানীব এবং সিটি এসবি (উত্তর) বিশেষ এসপি মো. রেজাউল করিমের নেতৃত্বে যৌথ আভিযানিক দল মাঠে নামে।
রেডিও লোকেশন ব্যবহার করে আসামিদের পিছু ধাওয়া করে পুলিশ। মতলব থেকে শুরু করে কুমিল্লার দাউদকান্দি, মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া হয়ে অভিযান পৌঁছায় রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকায়। রাত ২টা ৪০ মিনিটে একাধিক ভবনে তল্লাশি চালিয়ে প্রথম আসামি হাবিবুর রহমানকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যে টঙ্গীর স্টেশন রোড থেকে গ্রেফতার করা হয় নাদিমকে।
গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ঘটনার মূল মাস্টারমাইন্ড আব্দুল মান্নানের বিভিন্ন বাসায় তল্লাশি চালানো হয়। মান্নানের বড় মেয়ের জামাইয়ের বাসা থেকে ১৭,৫০০ সৌদি রিয়াল এবং তার দ্বিতীয় স্ত্রীর বাসা থেকে নগদ ৯০ হাজার টাকা জব্দ করা হয়। তবে মূল পরিকল্পনাকারী আব্দুল মান্নান বর্তমানে পলাতক রয়েছে; তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।
মক্কা থেকে রিয়াল উদ্ধারের খবর শুনে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ভুক্তভোগী ইমান আলী ধর্মমন্ত্রী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি এই অপরাধের সাথে জড়িত সকলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
