ইফতেখারুজ্জামান
সরকারনিয়ন্ত্রিত মানবাধিকার কমিশন চাপিয়ে দিলে তা আত্মঘাতী হবে
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৩:০৪ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
জনগণের ওপর একটি অকার্যকর ও সরকারনিয়ন্ত্রিত মানবাধিকার কমিশন চাপিয়ে দিলে তা শেষ পর্যন্ত সরকারের জন্যই আত্মঘাতী হবে বলে মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান।
বৃহস্পতিবার (২ জুন) রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে ‘খসড়া জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন ২০২৬: হিউম্যান রাইটস ফোরাম বাংলাদেশ (এইচআরএফবি) ও টিআইবির পর্যালোচনা ও সুপারিশ’ শীর্ষক অধিপরামর্শ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এ ধরনের প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর করতে ব্যর্থ হলে তার নেতিবাচক পরিণতি শেষ পর্যন্ত সরকারকেই ভোগ করতে হয়। নিজেদের জন্য ‘ফ্র্যাঙ্কস্টাইন’ তৈরি করার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। কারণ, ক্ষমতা কখনোই চিরস্থায়ী নয়। আজ দলীয় প্রভাবে একটি প্রতিষ্ঠানকে অকার্যকর করা হলে ভবিষ্যতে সেই ব্যবস্থার ক্ষতিকর প্রভাব সংশ্লিষ্টদেরই মোকাবিলা করতে হবে।
আরো পড়ুন : নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ ৫ মন্ত্রী
সভায় খসড়া আইন পর্যালোচনা করে ১৯টি সুপারিশ তুলে ধরেন ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, এসব প্রস্তাব বাস্তবায়ন না হলে সরকার প্রমাণ করবে যে, দেশে একটি স্বাধীন ও কার্যকর জাতীয় মানবাধিকার কমিশন প্রতিষ্ঠায় তাদের আন্তরিকতা নেই। বিএনপির ৩১ দফা রাষ্ট্রসংস্কার কর্মসূচি, নির্বাচনী ইশতেহার এবং জুলাই সনদে দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করা হলে সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে একটি স্বাধীন মানবাধিকার কমিশন গঠন সম্ভব।
এক প্রশ্নের জবাবে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, বাংলাদেশে ক্ষমতাসীনরা প্রায়ই স্বল্পমেয়াদি সুবিধার জন্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করে দেন। বিশ্বের অনেক দেশে কর্তৃত্ববাদী সরকার থাকলেও জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে এভাবে দলীয়করণ ও অকার্যকর করার নজির খুব কম। এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসা জরুরি।
তিনি বলেন, সরকারের ভেতরে এখনো ‘পরিবর্তনবিরোধী শক্তি’ সক্রিয় রয়েছে। এই শক্তি রাজনৈতিক হতে পারে, তবে অনেক ক্ষেত্রে আমলাতন্ত্রই বেশি প্রভাবশালী। মানবাধিকার কমিশন আইনের খসড়ায় সেই প্রবণতারই প্রতিফলন দেখা গেছে।
