প্রধানমন্ত্রী
‘সরকারি হাসপাতালই যেন মানুষের একমাত্র ভরসার জায়গা হয়’
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৯ পিএম
ফাইল ছবি
প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা আরো উন্নত এবং সহজ প্রাপ্তি নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালে গিয়ে কোনো ভোগান্তি ছাড়া খুব সহজে যেন সবাই চিকিৎসা পায়। গ্রামের মানুষের চিকিৎসার জন্য যেন অন্য কোথাও যেতে না হয়। সরকারি হাসপাতালই যেন একমাত্র ভরসার জায়গা হয়। একইসঙ্গে চিকিৎসকরা যেন রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে আরো আন্তরিক হন, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার (২০ জুলাই) বিকেলে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করে এই নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। এই প্রথম প্রধানমন্ত্রী নিজে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অডিটোরিয়ামে গিয়ে বৈঠক করলেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) এ তথ্য জানান।
আরো পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী-আইএলও মহাপরিচালকের সাক্ষাৎ
তিনি জানান, বৈঠকের শুরুতে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত পাঁচ মাসে স্বাস্থ্য খাতে কী কী অগ্রগতি হয়েছে, সে বিষয়ে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিব ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত জানতে চান প্রধানমন্ত্রী। জবাবে তারা জানান, আগের সরকারের সময় স্বাস্থ্য খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সেই অবস্থা থেকে উত্তরণে বর্তমান সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।
বৈঠকে উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসক থাকা সত্ত্বেও রোগীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়ার অভিযোগ নিয়েও আলোচনা হয়। চিকিৎসকদের দায়িত্বে অবহেলার বিষয়ে প্রয়োজনীয় তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, গ্রামের মানুষের জন্য সন্তোষজনক চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি হাসপাতালই যেন মানুষের চিকিৎসার প্রধান ভরসার জায়গা হয়ে ওঠে।
আরো পড়ুন: হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য ১০ শতাংশ শয্যা সংরক্ষণের নির্দেশ
কিডনি রোগীদের চিকিৎসা সহজ করতে জেলা পর্যায়ের ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টারগুলো পর্যায়ক্রমে ৫০ শয্যায় উন্নীত করার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশের সব উপজেলায় ধাপে ধাপে ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এ জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল তৈরি ও লজিস্টিক সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ৫১ শয্যা থেকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও জনবল নিশ্চিত করার পরিকল্পনা তুলে ধরেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ সময় গণপূর্ত বিভাগের প্রকৌশলীরা অবকাঠামোগত নকশা ও প্রকল্পের বিভিন্ন দিক উপস্থাপন করেন।
বৈঠকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এম এ মুহিত, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের পরিচালক ও শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: বাসস।
