শুধু ওষুধ দিয়ে জাতিকে রোগমুক্ত রাখা সম্ভব নয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩৮ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
শুধু ওষুধের ওপর নির্ভর করে একটি জাতিকে রোগমুক্ত রাখা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, রোগের চিকিৎসার পাশাপাশি এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে রোগ প্রতিরোধে। এজন্য জন্মের পর থেকেই উদ্ভাবনী ও কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকালে রাজধানীর মহাখালীতে জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান (নিপসম)-এ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের রাজস্বখাতে পরিচালিত গবেষণা কার্যক্রমের ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে নিপসমের পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসরিন সুলতানার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এম এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল, বাংলাদেশ মেডিক্যাল রিসার্চ কাউন্সিলের (বিএমআরসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সায়েবা আক্তার এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস।
চিকিৎসকদের উদ্দেশে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, একজন চিকিৎসকের আন্তরিক হাসি ও মানবিক আচরণ একজন রোগীকে অনেকটাই মানসিকভাবে সুস্থ করে তুলতে পারে। চিকিৎসকরাই অসুস্থ মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল। তাই তাদের দায়িত্ব শুধু চিকিৎসা দেওয়া নয়, রোগীর পাশে মানবিকভাবে দাঁড়ানোও।
তিনি আরও বলেন, চিকিৎসা কেবল ওষুধ বা ট্যাবলেটের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। রোগীর সঙ্গে ভালো ব্যবহার, সাহস জোগানো এবং যথাযথ পরামর্শও চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একজন অসুস্থ ব্যক্তি চিকিৎসকের কথার ওপর পূর্ণ আস্থা রাখেন। তাই চিকিৎসকদের এমন ব্যক্তিত্ব গড়ে তুলতে হবে, যাতে তাদের আচরণও রোগীর সুস্থতায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।
দেশে ক্যানসার ও কিডনি রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এসব রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সীমাহীন শারীরিক ও মানসিক কষ্ট সহ্য করতে হয়। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, উন্নয়ন এখন আর শুধু সেতু বা সড়ক নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। মানুষের মৌলিক প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। বিশেষ করে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে গবেষণা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেছে সরকার। কোনো নাগরিক যেন স্বাস্থ্যসেবার বাইরে না থাকে, সেটিই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
সভায় প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এম এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, স্বাস্থ্য গবেষণায় বাংলাদেশের দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ ঐতিহ্য রয়েছে। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি)-এর গবেষণা বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। বিশেষ করে ডায়রিয়া ও কলেরা বিষয়ে বাংলাদেশের গবেষণা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।
তিনি গবেষকদের মাঠপর্যায়ে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো তথ্য বা গবেষণা উপস্থাপনের আগে উপজেলা হাসপাতালগুলোতে গিয়ে বাস্তব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে প্রকৃত সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে একটি উপজেলার সফল উদ্যোগ অন্য উপজেলায় ছড়িয়ে দেওয়া গেলে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার সামগ্রিক উন্নয়ন আরও দৃশ্যমান হবে।
