জুলাইয়ের রক্তমাখা পতাকা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ ছাত্রদল নেতার
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৯ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৃহস্পতিবার তার কার্যালয়ে দেখা করেছেন ছাত্রদল নেতা শেখ আজিজুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত
জুলাই আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে মাথার ক্ষতস্থানে যে রক্তমাখা জাতীয় পতাকা বেঁধেছিলেন ছাত্রদল নেতা শেখ আজিজুর রহমান, সেই পতাকা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয় বলে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা জানিয়েছেন।
শেখ আজিজুর রহমান ঢাকার সরকারি বাঙলা কলেজের সমাজকর্ম বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। তার বাড়ি নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায়।
আরো পড়ুন: কুড়িগ্রামে এনসিপির প্রতিবাদ মিছিলে হামলা
উপ-প্রেস সচিব জানান, জুলাই আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হন আজিজুর রহমান। তার মাথায় গুলির ক্ষতচিহ্ন এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ৩৬টি বুলেট স্প্লিন্টারের চিহ্ন এখনও রয়েছে। আহত হওয়ার পর মাথার রক্তপাত বন্ধ করতে তিনি যে জাতীয় পতাকা ব্যবহার করেছিলেন, সেই রক্তমাখা পতাকাই তিনি প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে মিরপুর-১০ ফ্লাইওভারে জাতীয় পতাকা হাতে আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। পরে মাথার ক্ষতস্থানে জাতীয় পতাকা বেঁধে আন্দোলন চালিয়ে যান বলে জানান তিনি।
সাক্ষাতে আজিজুর রহমান বলেন, “মাথা থেকে রক্ত ঝরছিল, জাতীয় পতাকাও রক্তে ভিজে গিয়েছিল। তারপরও আমি রাজপথ ছাড়িনি। ১৯ জুলাই আমাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং রিমান্ডে নেওয়া হয়। ছাত্রদল করার কারণে আমার নাম জুলাই যোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি।”
সম্প্রতি ‘গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরও ছাত্রদল করায় জুলাই যোদ্ধার স্বীকৃতি পাননি’—এমন খবর প্রকাশের পর তাকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আমন্ত্রণ জানানো হয়।
সুজাউদ্দৌলা জানান, সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী আজিজুর রহমানের পড়াশোনা, চিকিৎসা এবং ব্যক্তিগত জীবনসংগ্রামের খোঁজখবর নেন। বর্তমানে সিএনজি চালিয়ে নিজের পড়াশোনার খরচ বহন করছেন আজিজুর।
সাক্ষাৎ শেষে আবেগাপ্লুত আজিজুর রহমান বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি দেখা হয়েছে। আমার দীর্ঘদিনের ইচ্ছা ছিল রক্তমাখা জাতীয় পতাকাটি তার হাতে তুলে দেব। আজ সেই ইচ্ছা পূরণ হয়েছে। দিনটি আমার জীবনের অন্যতম স্মরণীয় দিন হয়ে থাকবে।”
