×

জাতীয়

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

‘শেখ হাসিনা রাজনৈতিক বক্তব্য দেবে কি না, ভারতকেই স্পষ্ট করতে হবে’

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৪০ পিএম

‘শেখ হাসিনা রাজনৈতিক বক্তব্য দেবে কি না, ভারতকেই স্পষ্ট করতে হবে’

ছবি: সংগৃহীত

ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেখানে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে অবস্থান স্পষ্ট করা ভারত সরকারের দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার দুই দেশের সম্পর্ককে ইতিবাচক ধারায় এগিয়ে নিতে চায় এবং এমন কোনো কর্মকাণ্ড প্রত্যাশা করে না, যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সোমবার (৩ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তথ্য অনুযায়ী, ৫ আগস্ট দিল্লিতে একটি অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। এ বিষয়ে আয়োজক ক্লাবের সভাপতি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে এতে ভারত সরকারের কোনো আপত্তি নেই—এ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনা একজন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি এবং কার্যক্রম-নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রধান। তিনি কোথায় কী বলছেন, সেটির জবাব দেওয়া বাংলাদেশ সরকারের কাজ নয়।

আরো পড়ুন: বেনজীরের কাছে অন্য দেশের পাসপোর্ট থাকার সন্দেহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, ভারত সরকার আগেও জানিয়েছে, তারা আশা করে না যে তাদের দেশে অবস্থানরত কোনো পলাতক ব্যক্তি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হবেন। এখন আলোচিত অনুষ্ঠান বা এ ধরনের অন্য কোনো আয়োজন সম্পর্কে ভারত সরকারের অবস্থান কী, সেটি তাদেরই স্পষ্ট করা উচিত।

তিনি আরও বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে ভারতকে জানিয়ে আসছে, ভারতে অবস্থানরত পলাতক ব্যক্তিরা যদি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেন বা বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করেন, তাহলে তা দুই দেশের সম্পর্কের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।

সম্প্রতি বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনারের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ বৈঠকের কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত ভবিষ্যতমুখী সম্পর্ক গড়ে তুলতে কাজ করছে। এ সম্পর্ক কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হোক, তা বাংলাদেশ চায় না এবং ভারতও একই অবস্থান নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ভারত সরকারের কাছে এ বিষয়ে আবারও আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা চাওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অনুষ্ঠানটি ভারত সরকার আয়োজন করছে না। তবে প্রয়োজন হলে কূটনৈতিক মাধ্যমে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।

আরো পড়ুন: দেশে ফিরলে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কী হতে পারে আইনি প্রক্রিয়া?

তিনি জানান, অতীতেও বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ও কূটনৈতিক যোগাযোগে বাংলাদেশ এ বিষয়টি লিখিত ও মৌখিকভাবে ভারতের নজরে এনেছে। যেহেতু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ভারতে অবস্থান করছেন, তাই এ বিষয়ে ভারত সরকারের অবস্থানই গুরুত্বপূর্ণ।

এ ধরনের কর্মসূচি দুই দেশের সম্পর্কের উন্নয়নকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে কি না— জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সে সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বাংলাদেশ বা বাংলাদেশের মানুষ কেউই ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি চায় না। বরং সম্পর্ক আরও উন্নত হোক, সেটিই সরকারের প্রত্যাশা। ভারতও সেই বিষয়টি বিবেচনায় রেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এদিকে, ভারতের সংসদীয় কমিটির এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে ভারত, চীনসহ সব দেশের সঙ্গে বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার নীতি অব্যাহত থাকবে।

ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত যথাসময়ে নেওয়া হবে। তিনি জানান, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রীকে পরিবারসহ ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। পাশাপাশি ব্রিকস সম্মেলনেও যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ এসেছে। তবে সফরের সময় ও সূচি প্রধানমন্ত্রীই নির্ধারণ করবেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতা আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশের স্বার্থে যেকোনো দেশের সঙ্গে গঠনমূলক সহযোগিতা বাড়াতে সরকার আগ্রহী।

তিনি আরও বলেন, ইন্দো-প্যাসিফিক ইস্যুতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংলাপ চলমান রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। সিভিল এভিয়েশনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্ভাব্য চুক্তিও জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় মূল্যায়ন করা হবে।

সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন মুসলিম দেশগুলোর সামরিক জোটে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই ওআইসি ও বিভিন্ন বহুপক্ষীয় প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে। জাতীয় স্বার্থ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার বিষয় বিবেচনায় সরকার নীতিগতভাবে এ উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছে। তবে কী মাত্রায় সম্পৃক্ততা থাকবে, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।


সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

মহানবী (সা.) যে ৭ কাজ করতে বলেছেন

মহানবী (সা.) যে ৭ কাজ করতে বলেছেন

জেমসের গানে নস্টালজিয়ায় ভাসল প্যারিস, উৎসবে মাতলেন প্রবাসীরা

জেমসের গানে নস্টালজিয়ায় ভাসল প্যারিস, উৎসবে মাতলেন প্রবাসীরা

সরকারি কর্মচারীরা সামাজিক মাধ্যমে যা করতে পারবেন, যা পারবেন না

সরকারি কর্মচারীরা সামাজিক মাধ্যমে যা করতে পারবেন, যা পারবেন না

গাজায় শান্তির কোন ইচ্ছা ইসরায়েলের নেই: তুরস্ক

গাজায় শান্তির কোন ইচ্ছা ইসরায়েলের নেই: তুরস্ক

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App