বিমানবন্দর এলাকায় অ্যান্টি ড্রোন সিস্টেম স্থাপনের উদ্যোগ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৩৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কমিটির (এনসিএএসসি) পুনর্গঠনের পর প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী, সমন্বিত ও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদর দপ্তরে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় কমিটির সভাপতি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম এবং সহসভাপতি প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে আফরোজা খানম বলেন, দেশের বিমান খাতের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ও সমন্বয়কারী কমিটির ১৩তম সভার সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। শিগগিরই আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (ICAO) অডিট অনুষ্ঠিত হবে। ওই অডিটের পর্যবেক্ষণের সঙ্গে দেশের ভাবমূর্তি জড়িত। তাই যেসব বিষয়ে আইকাওর পর্যবেক্ষণ থাকতে পারে, সেগুলোর কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, ভিআইপি ও সিআইপিসহ সবার জন্য নিরাপত্তা প্রোটোকল সমান। তাই বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সবাইকে একই প্রোটোকল অনুসরণ করতে হবে। যাত্রীসেবা নিশ্চিত করাই সরকারের অগ্রাধিকার। বিশেষ করে প্রবাসী যাত্রীদের উন্নত সেবা নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, বিমানবন্দর এলাকায় ড্রোন উড্ডয়ন বন্ধে অ্যান্টি ড্রোন সিস্টেম স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রায় তিন বছর পর অনুষ্ঠিত হওয়া এ সভার কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে হবে। নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি ও স্ক্যানার প্রয়োজনীয় সংখ্যার চেয়েও বেশি মজুত রাখার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় প্রতিমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের আইনের ব্যত্যয় ঘটলে কঠোর অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দেন।
সভায় দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কার্যকর, সমন্বিত ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডসম্মত করতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়। সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে তথ্য বিনিময় ও সমন্বয় জোরদার, জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কর্মসূচির কার্যকর বাস্তবায়ন, আইকাওর নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ, বিমানবন্দরে আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি সংযোজন, বিদ্যমান নিরাপত্তা নীতিমালা পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে মতবিনিময় হয়।
সভায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রবেশপথে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা, গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথে স্থাপিত আন্ডার ভেহিকল স্ক্যানিং সিস্টেম (ইউভিএসএস) কার্যকর রাখা এবং দেশের সব বেসামরিক বিমানবন্দরে কনটিনজেন্সি ও ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এ ছাড়া হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ল্যান্ডসাইড এলাকায় যানজট, অনিয়ন্ত্রিত লোকসমাগম, ভিক্ষুকের উপদ্রব এবং অবৈধ লাগেজ র্যাপিং নিয়ন্ত্রণে বেবিচক, এপিবিএন, পুলিশ, আনসার ও বিমানবন্দর ম্যাজিস্ট্রেটসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও সুপারিশ করা হয়, যাতে যাত্রীসেবা, শৃঙ্খলা ও বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা আরও উন্নত হয়।
