×

জাতীয়

বিলুপ্ত হচ্ছে র‌্যাব, আসছে ‘এসআরবি’

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৬, ০৬:০১ পিএম

বিলুপ্ত হচ্ছে র‌্যাব, আসছে ‘এসআরবি’

ছবি : সংগৃহীত

এলিট ফোর্স র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) বিলুপ্ত করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) নামে নতুন একটি বিশেষায়িত বাহিনী গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। খসড়া আইনের ওপর জনসাধারণের মতামতও আহ্বান করা হয়েছে।

খসড়া আইনে বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে র‌্যাবের বিদ্যমান কাঠামোকে আইনি ভিত্তি দিয়ে নতুন ইউনিট গঠনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এতে বাহিনীর দায়িত্ব, অভিযান পরিচালনার ক্ষমতা, মামলা তদন্ত, সদস্যদের শৃঙ্খলা এবং নাগরিক অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য পৃথক কমিটি গঠনের বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (পুলিশ অধিশাখা) মোহাম্মদ আবু নাঈম বলেন, র‌্যাবের পরিবর্তে এসআরবি গঠনের জন্য আইনের খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। খসড়াটি চূড়ান্ত হওয়ার পর পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু হবে।

যা থাকছে খসড়া আইনে

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, খসড়াটি চূড়ান্ত হওয়ার পর বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামত নিয়ে মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। পরে জাতীয় সংসদে পাসের মাধ্যমে এটি আইনে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। নতুন আইন কার্যকর হলে র‌্যাব-সংক্রান্ত বিদ্যমান আইনি ভিত্তি বিলুপ্ত হবে। তবে নতুন বিধিমালা প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আগের কিছু বিধান কার্যকর থাকবে।

নতুন বাহিনীর নিজস্ব প্রতীক (লোগো), পতাকা ও নির্ধারিত পোশাক থাকবে।

খসড়া অনুযায়ী, এসআরবি হবে বাংলাদেশ পুলিশের অধীন একটি বিশেষায়িত ইউনিট। এর নেতৃত্বে থাকবেন অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদার একজন মহাপরিচালক। প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাটালিয়ন, কোম্পানি, প্লাটুন ও সেকশন গঠন করা যাবে। সদর দপ্তর থাকবে ঢাকায়, তবে দেশের যেকোনো স্থানে ইউনিট স্থাপনের সুযোগ রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ফ্যামিলি কার্ডের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন কবে? যা জানা গেল

শুধু পুলিশ নয়, অন্যান্য শৃঙ্খলা বাহিনী থেকেও সদস্যদের প্রেষণে এনে এ ইউনিটে নিয়োগ দেওয়া যাবে। সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী নির্ধারিত শর্তে সদস্যদের প্রেষণে বা অস্থায়ীভাবে সংযুক্ত করা যাবে এবং প্রেষণের মেয়াদ ন্যূনতম দুই বছর রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

খসড়া আইন অনুযায়ী, ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসরণ করে এসআরবির সদস্যরা নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেফতারের ক্ষমতা পাবেন। মাদক, অস্ত্র, গোলাবারুদ, বিস্ফোরক, সন্ত্রাসী আস্তানা, মানবপাচার, সংঘবদ্ধ অপরাধ, সাইবার অপরাধ এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাবিরোধী অপরাধের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করতে পারবে বাহিনীটি।

এছাড়া আদালত, সরকার বা পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) নির্দেশে ফৌজদারি অপরাধের তদন্ত পরিচালনার সুযোগও রাখা হয়েছে। তদন্ত করবেন অন্তত সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার কর্মকর্তা এবং পুরো প্রক্রিয়ায় ফৌজদারি কার্যবিধি ও পুলিশ রেগুলেশন অনুসরণ বাধ্যতামূলক হবে।

সুষ্ঠু তদন্ত পরিচালনার জন্য এসআরবির নিজস্ব হাজতখানা, মালখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ থাকবে। জব্দ করা মালামাল আদালতের আদেশ বা সরকারি বিধি অনুযায়ী নিষ্পত্তি করতে হবে।

অভিযোগ প্রতিকার কমিটি

খসড়া আইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হলো অভিযোগ প্রতিকার কমিটি। অতীতে র‌্যাবের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষাপটে নতুন বাহিনীর জবাবদিহি নিশ্চিত করার উদ্যোগ হিসেবে এই কমিটি গঠনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

কমিটির সভাপতি হবেন এসআরবির একজন অতিরিক্ত মহাপরিচালক। সদস্য হিসেবে থাকবেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, পুলিশ সদর দপ্তরের একজন কর্মকর্তা, পরিচালক (লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া) এবং মানবাধিকার, আইন বা বিচার প্রশাসনে অন্তত ১০ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সরকার মনোনীত একজন ব্যক্তি।

এই কমিটি নাগরিকদের অভিযোগ তদন্ত করতে পারবে, প্রয়োজনে পৃথক অনুসন্ধান দল গঠন করতে পারবে এবং অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করবে। বাহিনীর কার্যক্রমে অবৈধ প্রভাব, হয়রানি, অনিয়ম, পদোন্নতি, পদায়ন কিংবা বিভাগীয় শাস্তি-সংক্রান্ত অভিযোগও কমিটি পর্যালোচনা করতে পারবে।

এছাড়া কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ইউনিটের আইনানুগ কার্যক্রমে বেআইনিভাবে প্রভাব বিস্তার করলে এবং তা অনুসন্ধানে প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করার ক্ষমতাও থাকবে কমিটির।

শৃঙ্খলা ও আচরণবিধি

খসড়া আইনে সদস্যদের জন্য বিস্তারিত শৃঙ্খলা ও আচরণবিধি নির্ধারণ করা হয়েছে। দায়িত্ব পালনকালে মাদকাসক্ত থাকা, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশ অমান্য করা, দায়িত্বে অবহেলা, বেআইনিভাবে অর্থ আদায়, সরকারি অস্ত্র বা সরঞ্জামের অপব্যবহার, অপরাধীকে পালাতে সহায়তা কিংবা জুয়া ও অন্যান্য অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার মতো অপরাধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মিললে সংশ্লিষ্ট সদস্যকে নিজ বাহিনীতে ফেরত পাঠিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

খসড়া অনুযায়ী, এসআরবির কোনো সদস্য শৃঙ্খলাভঙ্গ বা অন্য কোনো ফৌজদারি অপরাধ করে পালিয়ে গেলে ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক তাকে গ্রেফতার করে সংশ্লিষ্ট ব্যাটালিয়নে সোপর্দ করবেন।

পলাতক সদস্যের স্থায়ী বা বর্তমান ঠিকানার আওতাধীন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানানো হবে এবং ওই অনুরোধ ম্যাজিস্ট্রেটের জারি করা পরোয়ানার সমতুল্য হিসেবে গণ্য করে সংশ্লিষ্ট সদস্যকে ব্যাটালিয়নে হস্তান্তর করতে হবে।

খসড়ায় আরও বলা হয়েছে, নতুন আইন কার্যকর হলে র‌্যাবের সব সম্পদ, জনবল, তহবিল, দায়-দায়িত্ব, চলমান মামলা, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও বিদ্যমান চুক্তি এসআরবির অধীনে স্থানান্তরিত হবে। নতুন বিধিমালা কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত র‌্যাবের বিদ্যমান বিভাগীয় কার্যবিধিও প্রয়োজনীয় অভিযোজনসহ বহাল থাকবে।

আইনের খসড়া বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠার পর বিভিন্ন সময়ে র‌্যাবের বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। সেই প্রেক্ষাপটে নতুন নামে বাহিনী গঠনের উদ্যোগকে সরকারের একটি কাঠামোগত সংস্কার হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে বাহিনীর নাম ও সাংগঠনিক কাঠামো পরিবর্তন হলেও অভিযান পরিচালনা, তল্লাশি, গ্রেফতার এবং তদন্তের মৌলিক ক্ষমতার বড় অংশ বহাল রাখা হয়েছে। নতুন সংযোজন হিসেবে যুক্ত হয়েছে অভিযোগ প্রতিকার কমিটি এবং সদস্যদের জন্য আরও স্পষ্ট শৃঙ্খলা বিধি।

উল্লেখ্য, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) ২০০৪ সালের ২৬ মার্চ গঠিত হয় এবং একই বছরের ১৪ এপ্রিল আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করে। গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বাহিনীটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করেছে। বিভিন্ন বিতর্কের প্রেক্ষাপটে বর্তমান বিএনপি সরকার র‌্যাব বিলুপ্ত করে নতুন নামে বাহিনী গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

পেটাও না কেন ওদের: সাদ্দামকে কাদের

পেটাও না কেন ওদের: সাদ্দামকে কাদের

পুলিশের ৭ কর্মকর্তাকে বদলি

পুলিশের ৭ কর্মকর্তাকে বদলি

ভারত আবারও শেখ হাসিনাকে ‘টুলস’ হিসেবে ব্যবহার করছে: রিজভী

ভারত আবারও শেখ হাসিনাকে ‘টুলস’ হিসেবে ব্যবহার করছে: রিজভী

সব স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে চলতি অর্থবছরেই: মীর শাহে আলম

সব স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে চলতি অর্থবছরেই: মীর শাহে আলম

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App