আদিবাসী পরিচয়কে বিভাজনের চোখে দেখার সুযোগ নেই : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৫৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
আদিবাসী পরিচয়কে কেন্দ্র করে দেশের নাগরিকদের বিভাজনের সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের বাস্তবতায় আদিবাসী পরিচয় অপ্রাসঙ্গিক’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের সব মানুষই বাংলাদেশি। তাই কাউকে আদিবাসী পরিচয়ের ভিত্তিতে বিভাজনের দৃষ্টিতে দেখার সুযোগ নেই।
দেশের সব নাগরিকের সমান অধিকারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ধর্ম, বর্ণ, সংস্কৃতি ও ভাষার ভিন্নতা থাকলেও সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের সাংবিধানিক অধিকার সমান। এই পরিচয়কে সামনে রেখেই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অতীতে এ অঞ্চলে যেমন ভিনদেশি উসকানি ছিল, তেমনি এখনো বাংলাদেশের পূর্ব সীমান্ত ও আশপাশের এলাকায় আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মহল নিজেদের স্বার্থে ষড়যন্ত্রমূলক পরিকল্পনা করছে।
তিনি বলেন, এই ভূখণ্ডের ইতিহাস বহু পুরোনো। লক্ষণ সেন কিংবা পাল বংশেরও আগে থেকে এ দেশের মানুষ নিজেদের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের জন্য সংগ্রাম করে আসছে। ১৯৭১ সালে স্বাধীন রাষ্ট্র ও আধুনিক নেশন স্টেট হিসেবে বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হলেও এ দেশের নিজস্ব জাতিসত্তার ইতিহাস অনেক পুরোনো।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, কে নদীর অববাহিকায় বসবাস করছে আর কে পাহাড়ি উপত্যকায় থাকছে- এ পার্থক্যের ভিত্তিতে কোনো নেশন স্টেটের পরিচয় নির্ধারণ করা যায় না। তাই সবাই বাংলাদেশের অধিবাসী হবেন, কেউ আদিবাসী হবেন না।
জুলাই চার্টার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসেবে জুলাই চার্টারে সবাই স্বাক্ষর করেছে। দলগুলোর মধ্যে যেসব বিষয়ে কোনো দ্বিমত বা নোট অব ডিসেন্ট ছাড়াই ঐকমত্য হয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো- বাংলাদেশের ভূখণ্ডে বসবাসকারী সব নাগরিকের মূল পরিচয় হবে বাংলাদেশি।
তিনি আরও বলেন, এটি সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর ভাষা। একই ভাষা আগামী অষ্টম সংশোধনীতেও অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে রাজনৈতিক সমঝোতা ও অঙ্গীকার রয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ভূখণ্ডে বসবাসকারী প্রত্যেক নাগরিকের সাংবিধানিক পরিচয় হবে বাংলাদেশি। তাই কোনো ভুল বা বিভ্রান্তিকর প্রশ্নের পেছনে না ছুটে দেশের সবাইকে আদিবাসী না হয়ে অধিবাসী হতে হবে।
পাহাড়ি অঞ্চলে দীর্ঘদিনের বিভেদ ও ষড়যন্ত্রের পেছনে ভিনদেশি উসকানি এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মহলের স্বার্থ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বাংলাদেশের জননীতিকে অভিবাসীদের দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে দেখা যাবে না। কারও তৈরি করা ফাঁদেও পা দেওয়া উচিত নয়। দেশের সব নাগরিক সমান এবং বাংলাদেশে বিভাজনের কোনো সুযোগ নেই।
সিএইচটি রিসার্চ ফাউন্ডেশন এ গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, এনসিপি নেতা সারজিস আলম, আইনজীবী তাজুল ইসলাম, ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান আহমেদ, প্রতিদিনের বাংলাদেশের সম্পাদক মারুফ কামাল খান, সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনি, ড. হাসাহাব এনাম খান, লে. জে. (অব.) আবদুল্লাহিল আযমী, ড. আবদুল্লাহ আল ইউসুফ, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী উপদেষ্টা মোহাম্মদ রাশেদ খান, লে. জেনারেল (অব.) মাফফুজুর রহমান, ড. সুফি মোস্তাফিজুর রহমান, ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী ও ড. মাহমুদ পারভেজসহ অনেকে।
