প্রতিমন্ত্রী
সন্ধ্যা থেকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬, ০৩:২৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, বুধবার সন্ধ্যা থেকে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে।
বুধবার (১২ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, গ্যাসের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে জ্বালানি সংকট তৈরি হবে। বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার একটি কৌশল গ্রহণ করেছে, যা মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে কার্যকর করা হয়েছে।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকায় সামিটের টার্মিনালে কার্গো খালাস করা সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালটি বর্তমানে আংশিক সক্ষমতায় চলছে।
তিনি জানান, টার্মিনালটি পুরো সক্ষমতায় চালাতে হলে প্রায় ৭২ ঘণ্টার জন্য সেটি বন্ধ রাখতে হবে। এটি সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এ বিষয়ে এক্সিলারেট এনার্জির সঙ্গে আলোচনা চলছে। কখন টার্মিনাল বন্ধ রাখলে মানুষের ভোগান্তি সবচেয়ে কম হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও এ নিয়ে আলোচনা চলছে।
আরও পড়ুন: ডিবিপ্রধানকে পদ থেকে সরানোর নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটে মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে, এ বিষয়ে কোনো দ্বিমত নেই। এ কারণে সরকার বারবার জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে অনেক সময় মানুষের নিয়ন্ত্রণ থাকে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে গ্যাস খালাস করা সম্ভব হবে। তখন গ্যাসের সরবরাহও স্বাভাবিক হওয়ার আশা রয়েছে।
গ্যাস সংকট মোকাবিলায় মালয়েশিয়ার সঙ্গেও আলোচনা চলছে বলে জানান অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, একটি প্রতিনিধি দল মালয়েশিয়ায় গেছে এবং দেশটির দেওয়া প্রস্তাব নিয়ে কাজ চলছে। সেখান থেকে অন্তত এক কার্গো এলএনজি পাওয়ার আশা করা হচ্ছে।
তার মতে, এটি হবে সংকট মোকাবিলায় একটি মধ্যমেয়াদি সমাধান। সরকারের হাতে থাকা সব বিকল্প নিয়েই কাজ চলছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সার্বিকভাবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি পুরোপুরি কবে স্বাভাবিক হবে, তা নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। তবে জনদুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ইউএস-বাংলাদেশ চেম্বারের কাছেও এলএনজি সরবরাহের বিষয়ে সহায়তা চাওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: আ.লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে যা বললেন তথ্যমন্ত্রী
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত অভিযোগ করেন, আগের সরকারগুলো মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের দিকে গুরুত্ব না দিয়ে তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবিলার পথ বেছে নিয়েছিল। ফলে একসময় এ ধরনের সংকট তৈরি হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়।
তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে গ্রীষ্মকালেই এই সংকটের মুখোমুখি হতে হয়েছে। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের চেষ্টার ঘাটতি নেই।
