চার ধাপে নবম পে স্কেল, কোন ধাপে কত বাড়বে বেতন
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৩ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম জাতীয় বেতন স্কেলের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। নতুন বেতন কাঠামোয় বিভিন্ন গ্রেডে মূল বেতনে বড় ধরনের বৃদ্ধি আনা হলেও পুরো সুবিধা একসঙ্গে পাবেন না চাকরিজীবীরা। সরকারের আর্থিক সক্ষমতা ও অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ বিবেচনায় নিয়ে চার ধাপে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নতুন কাঠামো অনুযায়ী প্রথম থেকে ১১তম গ্রেড পর্যন্ত চাকরিজীবীদের প্রারম্ভিক মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে। অন্যদিকে ১২ থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরিজীবীদের মূল বেতন বাড়বে ১১৫ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত।
মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত প্রস্তাব অনুসারে, বর্তমানে ২০তম গ্রেডে ৮ হাজার ২৫০ টাকা প্রারম্ভিক মূল বেতন নতুন কাঠামোয় বেড়ে ২০ হাজার টাকা হবে। অন্যদিকে প্রথম গ্রেডের সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়াবে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকায়।
যদিও নতুন পে স্কেল ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে, বর্ধিত বেতনের পুরো অংশ একবারে দেওয়া হবে না। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ধাপে ধাপে মূল বেতন বৃদ্ধি করা হবে। নতুন এই কাঠামোর সরাসরি সুবিধা পাবেন প্রায় ২৪ লাখ সরকারি চাকরিজীবী এবং প্রায় ৯ লাখ পেনশনভোগী।
সরকারি হিসাবে, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে বছরে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা ব্যয় হবে।
প্রথম থেকে নবম গ্রেডে যেভাবে বাড়বে বেতন
প্রথম থেকে নবম গ্রেডের চাকরিজীবীদের বর্ধিত মূল বেতন তিন ধাপে যুক্ত করা হবে।
প্রথম ধাপ—১ জুলাই ২০২৬: বর্ধিত মূল বেতনের ৪০ শতাংশ যোগ হবে।
দ্বিতীয় ধাপ—জানুয়ারি ২০২৭: আরও ৩০ শতাংশ যুক্ত হবে।
তৃতীয় ধাপ—জুলাই ২০২৭: অবশিষ্ট ৩০ শতাংশ যোগ হবে।
এর মাধ্যমে ২০২৭ সালের জুলাই থেকে এসব গ্রেডের চাকরিজীবীদের নতুন নির্ধারিত মূল বেতন পুরোপুরি কার্যকর হবে।
দশম থেকে ২০তম গ্রেডে বেতন বৃদ্ধির হার
দশম থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রেও তিন ধাপে বেতন বাড়ানো হবে। তবে তাদের প্রথম ধাপেই বর্ধিত বেতনের তুলনামূলক বেশি অংশ যুক্ত হবে।
প্রথম ধাপ—১ জুলাই ২০২৬: বর্ধিত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ যুক্ত হবে।
দ্বিতীয় ধাপ—জানুয়ারি ২০২৭: আরও ২৫ শতাংশ যোগ হবে।
তৃতীয় ধাপ—জুলাই ২০২৭: বাকি ২৫ শতাংশ যুক্ত হবে।
এই গ্রেডের চাকরিজীবীরা ২০২৮ সালের জানুয়ারি থেকে নতুন মূল বেতনের ভিত্তিতে বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য ভাতার সুবিধা পাওয়ার কথা রয়েছে।
উদাহরণে বোঝা যাক নবম গ্রেডের বেতন বৃদ্ধি
বিষয়টি সহজভাবে বোঝার জন্য নবম গ্রেডের একজন কর্মকর্তার উদাহরণ নেওয়া যেতে পারে। ২০১৫ সালের জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী নবম গ্রেডে একজন কর্মকর্তার প্রারম্ভিক মূল বেতন ছিল ২২ হাজার টাকা।
নতুন পে স্কেলে তার মূল বেতন ১০০ শতাংশ বেড়ে ৪৪ হাজার টাকা হবে। তবে এই অতিরিক্ত ২২ হাজার টাকা একসঙ্গে যোগ হবে না।
১ জুলাই ২০২৬: বর্ধিত ২২ হাজার টাকার ৪০ শতাংশ অর্থাৎ ৮ হাজার ৮০০ টাকা যোগ হবে। ফলে মূল বেতন দাঁড়াবে ৩০ হাজার ৮০০ টাকা।
জানুয়ারি ২০২৭: আরও ৩০ শতাংশ বা ৬ হাজার ৬০০ টাকা যুক্ত হয়ে মূল বেতন হবে ৩৭ হাজার ৪০০ টাকা।
জুলাই ২০২৭: অবশিষ্ট ৩০ শতাংশ বা ৬ হাজার ৬০০ টাকা যোগ হওয়ার পর মূল বেতন দাঁড়াবে ৪৪ হাজার টাকা।
এরপর ২০২৮ সালের জানুয়ারি থেকে নতুন মূল বেতনকে ভিত্তি ধরে বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক ভাতা নির্ধারণ করা হবে।
তবে এই হিসাব শুধু প্রারম্ভিক মূল বেতনের একটি উদাহরণ। বাস্তবে একজন সরকারি চাকরিজীবীর মোট প্রাপ্তি আরও বেশি হতে পারে। কারণ প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী মূল বেতনের সঙ্গে বার্ষিক ৫ শতাংশ হারে ইনক্রিমেন্ট যুক্ত হয়।
ফলে নবম পে স্কেল পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে নতুন মূল বেতন, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট এবং সংশোধিত ভাতা মিলিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের মোট আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
