‘ঐতিহ্য রক্ষায় হরিয়ান সুগার মিলের আধুনিকায়ন দরকার’
রাজশাহী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২৬ পিএম
ছবি: ভোরের কাগজ
বিপুল সম্পদ ও সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনায় ধুঁকছে রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী হরিয়ান সুগার মিল। সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ, আধুনিকায়ন ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে চিনিকলটিকে আবারও লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার আহ্বান জানিয়েছেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন।
একই সঙ্গে মৌসুমি শ্রমিকদের চাকরি স্থায়ীকরণ এবং অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিকদের পাওনা, ফান্ড ও চিকিৎসাসংক্রান্ত সমস্যা দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার সকালে রাজশাহী সুগার মিলস লিমিটেডের রাচিক ট্রেনিং কমপ্লেক্সে আয়োজিত আখচাষি সমাবেশ ও ২০২৬-২৭ রোপণ মৌসুমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের (বিএসএফআইসি) অধীন সব চিনিকলে একযোগে জুম পদ্ধতিতে আখ রোপণ মৌসুমের উদ্বোধন করা হয়।
আরও পড়ুন: মব অনেকাংশেই নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
এমপি মিলন বলেন, হরিয়ান সুগার মিল সরকারের এমন একটি প্রকল্প, যা সঠিকভাবে পরিচালনা করা গেলে এখান থেকে উল্লেখযোগ্য লাভ করা সম্ভব। কিন্তু যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকির অভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানটি ধ্বংসের মুখে পড়তে পারে। তাই মিলটির অবকাঠামো, উৎপাদনব্যবস্থা ও ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় আধুনিকায়ন জরুরি।
তিনি বলেন, রাজশাহীর ঐতিহ্যের সঙ্গে এই চিনিকল ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ঐতিহ্য রক্ষার পাশাপাশি মিলটিকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
মৌসুমি শ্রমিকদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বছরের পর বছর কাজ করেও অনেক শ্রমিক চাকরি স্থায়ী করতে পারেন না। অবসরে যাওয়ার পরও অনেকে ফান্ড, পাওনা অর্থ ও চিকিৎসাসুবিধা না পেয়ে আর্থিক সংকটে পড়েন। এসব সমস্যা দ্রুত সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএসএফআইসির চেয়ারম্যান মো. শামছুজ্জামান (সুরুজ)। বক্তব্য দেন সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুমা আক্তার জাহান, পরিচালক (সিডিআর) আব্দুল আলীম ও প্রধান (সিপিই) ড. জেবুন নাহার।
সমাবেশে আখচাষিরা উন্নত জাতের আখবীজ ও সময়মতো সার সরবরাহ, আখের দাম বাড়ানো, মৌসুমের শুরুতে ভর্তুকি এবং কৃষিঋণের সুদের হার কমানোর দাবি জানান। চাষিরা বলেন, আখের সঙ্গে একই জমিতে মুলা, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন সাথি ফসল চাষ করা যায়। চিনিকল আধুনিকায়ন করা হলে আখের উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি উন্নতমানের চিনি উৎপাদন সম্ভব হবে। এতে একদিকে চিনিকলের উৎপাদনশীলতা বাড়বে, অন্যদিকে আখচাষিরাও ন্যায্য ও অধিক লাভের সুযোগ পাবেন।
