দীর্ঘ সংগ্রামের পর দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছি : প্রধানমন্ত্রী
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৪১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মী গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন এবং লাখো নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা করা হয়েছে। তবে সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে সুসংহত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) সেক্রেটারি আন্দা ফিলিপ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন সাংবাদিকদের জানান, সাক্ষাৎকালে আইপিইউ সেক্রেটারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর নিয়মিত জাতীয় সংসদের অধিবেশনে অংশগ্রহণকে সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রতি তার দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য দীর্ঘ সময় ধরে সংগ্রাম করতে হয়েছে। এই আন্দোলনের পথে বিএনপির বহু নেতাকর্মী গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন। পাশাপাশি প্রায় ৪০ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে মামলা দেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও সুগম করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। গণতন্ত্রের জন্য দীর্ঘ আন্দোলন ও ত্যাগের পর জনগণের প্রত্যাশা পূরণে এখন দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় বিএনপির ভূমিকার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পাশাপাশি সংসদীয় গণতন্ত্রের বিকাশেও বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
তিনি বলেন, গণতন্ত্রের পথচলায় এখনো কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে সরকার এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আশাবাদী এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জনগণের গণতন্ত্র নিয়ে যে প্রত্যাশা রয়েছে, তা পূরণে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, তার সরকার দেশের প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষা এবং জনগণের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে গুরুত্ব দিচ্ছে।
এ সময় আইপিইউ সেক্রেটারি আন্দা ফিলিপ জানান, তিনি বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার পর্যালোচনা করেছেন। ইশতেহারে শিক্ষা খাতের উন্নয়ন এবং কমিউনিটিভিত্তিক বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন তিনি।
বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের অগ্রগতির প্রশংসা করে আন্দা ফিলিপ বলেন, এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে জনগণের মধ্যে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি আস্থা আরও শক্তিশালী হবে। তিনি আরও জানান, ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী।
তানজানিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য আইপিইউর ১৫৩তম সম্মেলনে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকারের অংশগ্রহণের মাধ্যমে আইপিইউ ও বাংলাদেশের সংসদের মধ্যকার সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন আন্দা ফিলিপ। সাক্ষাৎকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ উপস্থিত ছিলেন।
