×

জাতীয়

‘জ্বালানি খাত বড় সমস্যায় পরিণত হয়েছে’

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৭ পিএম

‘জ্বালানি খাত বড় সমস্যায় পরিণত হয়েছে’

ছবি : সংগৃহীত

দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের বর্তমান পরিস্থিতিকে কেবল ‘চ্যালেঞ্জ’ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি ধীরে ধীরে বড় সমস্যায় রূপ নিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ গবেষণা কাউন্সিলের (বিইপিআরসি) সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) ড. রফিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, এ সংকট কোনো একক প্রতিষ্ঠান বা শুধু সরকারের পক্ষে সমাধান করা সম্ভব নয়। সরকার, শিল্পখাত, বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের (আইইউবি) ডিএমকে লেকচার গ্যালারিতে ‘ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তরের প্রমাণভিত্তিক পথ: নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণ ও ইনভেন্টরি স্টাডির ফলাফল’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

ড. রফিকুল ইসলাম বলেন, অতীতে সরকারের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সীমাবদ্ধতার মধ্যে আটকে থাকার সুযোগ নেই। প্রায় ১৮ থেকে ২০ কোটি মানুষের দেশের বিশাল জ্বালানি বাজার এখন অনেকটাই আমদানিনির্ভর। ২০২৪ সালে দেশের মোট আমদানির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের পণ্য ছিল। বর্তমানে পেট্রোলিয়ামের প্রায় ৯৫ শতাংশ এবং প্রাকৃতিক গ্যাসেরও একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হচ্ছে।

আরও পড়ুন: এসসিও সম্মেলনে বন্ধুত্বের বার্তা মোদি-পুতিন-শির

তিনি বলেন, ২০১৫ সালে দেশের প্রাথমিক জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা ১০ শতাংশেরও নিচে ছিল। বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ৬৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এই নির্ভরতা কমাতে দেশীয় সম্পদ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনাকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে।

জ্বালানি খাতের উন্নয়নে কৃষি খাতকে উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বাধীনতার সময় প্রায় সাড়ে সাত কোটি মানুষের খাদ্য চাহিদা পূরণ করাই ছিল বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। গবেষণা, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং মাঠপর্যায়ে কৃষিবিদদের কাজের মাধ্যমে দেশ বর্তমানে খাদ্য উৎপাদনে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণতার পর্যায়ে পৌঁছেছে। একইভাবে জ্বালানি খাতেও গবেষণানির্ভর ও বাস্তবমুখী উদ্যোগ প্রয়োজন।

তার মতে, বাংলাদেশে প্রাকৃতিক সম্পদের পাশাপাশি বড় মানবসম্পদ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্পখাত ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোরও উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা আছে। তবে এসব খাতের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে। পাশাপাশি নির্ভরযোগ্য ও সমন্বিত তথ্যের অভাব নীতিনির্ধারণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণকে বাধাগ্রস্ত করছে।

এই সমস্যা দূর করতে আন্তর্জাতিক মানের একটি সমন্বিত কেন্দ্রীয় জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ডেটা সেন্টার গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। পরিকল্পনা অনুযায়ী, খাতসংশ্লিষ্ট প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি প্রতিষ্ঠান থেকে তথ্য সংগ্রহ করে একটি কেন্দ্রীয় উৎসের মাধ্যমে মানসম্মত তথ্য সরবরাহ করা হবে।

আরও পড়ুন: বেসরকারি শিক্ষকদেরও দেওয়া হবে পে-স্কেল

বিইপিআরসির সদস্য বলেন, জ্বালানি খাতের দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার সমাধানে গবেষণা ও স্টাডিনির্ভর নীতি প্রণয়ন জরুরি। বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে গবেষণার জন্য বরাদ্দ অর্থ অনেক সময় যথাযথভাবে কাজে লাগানো যায় না। প্রয়োজনীয় গাইডলাইনের অভাবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে বরাদ্দ অর্থ ফেরতও যায়।

তিনি বলেন, দেশের বাস্তবতা বিবেচনায় স্থানীয় গবেষক ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তুলনামূলক কম ব্যয়ে কার্যকর গবেষণা করতে সক্ষম। তাই বিদেশি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে গবেষণা করানোর পরিবর্তে দেশীয় গবেষকদের দক্ষতা ও সক্ষমতাকে বেশি কাজে লাগানো উচিত। এ উদ্দেশ্যে গবেষণা ও স্টাডি পরিচালনার জন্য একটি নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গবেষণার ফলাফল এবং বাস্তব প্রয়োজনকে ভিত্তি করে নীতি প্রণয়ন করা গেলে তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত, সমন্বয়হীনতা ও বাস্তবায়নের বিভিন্ন জটিলতা কমানো সম্ভব হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ড. রফিকুল ইসলাম বলেন, একাডেমিক গবেষণাকে শুধু আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশনা কিংবা ব্যক্তিগত ক্যারিয়ার উন্নয়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। দেশের বাস্তব সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোর সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, গবেষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী ল্যাবরেটরি সুবিধা, বিশেষজ্ঞ সহায়তা ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত করে একটি কার্যকর গবেষণা পরিবেশ তৈরি করা দরকার। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সৌরবিদ্যুৎসহ সম্ভাবনাময় বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞদের নির্দিষ্ট সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে।

সরকারের প্রয়োজন, শিল্পখাতের বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং একাডেমিয়ার গবেষণা সক্ষমতার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় তৈরি করা গেলে জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে বর্তমান সংকট কাটিয়ে দেশের জ্বালানি খাতকে আরও টেকসই ও কার্যকর ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে নেওয়া যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক এম তামিম। ‘রিনিউয়েবল এনার্জি ইনভেন্টরি অব বাংলাদেশ’ বিষয়ে উপস্থাপনা করেন আইইউবির লেকচারার মোহাম্মদ রেজওয়ান উদ্দিন। ‘রিনিউয়েবল এনার্জি এক্সপেনশন স্টাডি’ বিষয়ে উপস্থাপনা করেন প্রফেসর খসরু মোহাম্মদ সেলিম।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, জলবায়ু ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, উন্নয়ন সহযোগী, শিক্ষাবিদ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

বোয়িং আপনাকে হতাশ করবে না: তারেক রহমানকে ট্রাম্প

বোয়িং আপনাকে হতাশ করবে না: তারেক রহমানকে ট্রাম্প

সামরিক স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের উত্থান ঠেকাতে কাজ চলছে

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সামরিক স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের উত্থান ঠেকাতে কাজ চলছে

শরীর-পোশাক আমার, সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারও আমার: উর্বী

শরীর-পোশাক আমার, সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারও আমার: উর্বী

নতুন পে-স্কেলকে ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা, সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা

নতুন পে-স্কেলকে ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা, সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App