পে স্কেল চালু হলেই বাতিল হবে যেসব ‘সুবিধা’
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রস্তাবিত নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন শুরু হলে বর্তমানে চালু থাকা ১০ থেকে ১৫ শতাংশ ‘বিশেষ সুবিধা’ বাতিল হতে পারে। তবে নতুন বেতন কাঠামোয় বিভিন্ন গ্রেডে মূল বেতন ১০০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
নতুন পে স্কেল ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, বর্ধিত মূল বেতন কার্যকর শুরু হবে ১ জুলাই থেকে। আর নতুন কাঠামো অনুযায়ী সব ধরনের ভাতা যুক্ত হবে ২০২৮ সালের জানুয়ারি থেকে।
বর্তমানে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীরা মূল বেতনের সঙ্গে ১৫ শতাংশ বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন। অন্যদিকে ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের জন্য এই সুবিধার হার ১০ শতাংশ। তবে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যমান বিশেষ সুবিধা বাতিল হয়ে যাবে।
প্রথম থেকে নবম গ্রেডের চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে চলতি বছরের জুলাই থেকে নতুন বর্ধিত মূল বেতনের ৪০ শতাংশ কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে আরও ৩০ শতাংশ এবং একই বছরের জুলাই থেকে বাকি ৩০ শতাংশ কার্যকর হবে। সব মিলিয়ে তিন ধাপে পুরো বর্ধিত মূল বেতন বাস্তবায়ন করা হবে।
অন্যদিকে স্বল্প আয়ের সরকারি কর্মচারীদের অগ্রাধিকার দিয়ে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের জন্য তুলনামূলক দ্রুত বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এসব গ্রেডে প্রথম ধাপে জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বর্ধিত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ কার্যকর হবে।
পরবর্তী ধাপে ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত আরও ২৫ শতাংশ এবং ২০২৭ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত অবশিষ্ট ২৫ শতাংশ কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরিজীবীরা প্রথম ধাপে ৫০ শতাংশ, দ্বিতীয় ধাপে মোট ৭৫ শতাংশ এবং তৃতীয় ধাপে শতভাগ বর্ধিত মূল বেতন পাবেন।
তবে সব গ্রেডের চাকরিজীবীদের জন্য নতুন হারে ভাতা কার্যকর হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।
প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামোয় ১ম থেকে ১১তম গ্রেড পর্যন্ত প্রারম্ভিক মূল বেতন ১০০ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থাৎ এসব গ্রেডে মূল বেতন দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা হবে। দ্বিতীয় গ্রেডে বেতন ৬৬ হাজার টাকা থেকে শুরু হয়ে নতুন কাঠামোয় ১ লাখ ৩২ হাজার টাকায় উন্নীত হবে।
তৃতীয় গ্রেডে প্রারম্ভিক বেতন ৫৬ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ১৩ হাজার টাকা এবং চতুর্থ গ্রেডে ৫০ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ টাকা হওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
পঞ্চম গ্রেডে প্রারম্ভিক মূল বেতন ৪৩ হাজার টাকা থেকে ৮৬ হাজার টাকা, ষষ্ঠ গ্রেডে ৩৫ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৭১ হাজার টাকা এবং সপ্তম গ্রেডে ২৯ হাজার টাকা থেকে ৫৮ হাজার টাকা করার কথা বলা হয়েছে।
অষ্টম গ্রেডে মূল বেতন ২৩ হাজার টাকা থেকে ৪৬ হাজার টাকা এবং নবম গ্রেডে ২২ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৪৪ হাজার টাকা হবে। একইভাবে দশম গ্রেডে ১৬ হাজার টাকা থেকে ৩২ হাজার এবং একাদশ গ্রেডে ১২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ২৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।
১২তম গ্রেড থেকে নিচের গ্রেডগুলোতে বেতন বৃদ্ধির হার আরও বেশি রাখা হয়েছে। ১২তম গ্রেডে প্রারম্ভিক মূল বেতন ১১৫ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। এ গ্রেডে ১১ হাজার ৩০০ টাকার বেতন বেড়ে ২৪ হাজার টাকা হতে পারে।
১৩তম গ্রেডে বৃদ্ধির হার ১১৮ শতাংশ। ১৪তম গ্রেডে এই হার ১৩০ শতাংশ পর্যন্ত নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে।
১৫তম ও ১৬তম গ্রেডে প্রারম্ভিক মূল বেতন বাড়বে ১৩৫ শতাংশ। ১৭তম গ্রেডে বৃদ্ধির হার ১৩৮ শতাংশ, ১৮তম গ্রেডে ১৩৯ শতাংশ এবং ১৯তম গ্রেডে ১৪১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি রাখা হয়েছে ২০তম গ্রেডে। এ গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা হওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা বর্তমানের তুলনায় প্রায় ১৪২ শতাংশ বেশি।
নতুন পে স্কেল বাস্তবায়িত হলে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। তবে এর সঙ্গে বর্তমানে চালু থাকা বিশেষ সুবিধা বাতিল হওয়ায় চাকরিজীবীদের প্রকৃত আয় ও নতুন বেতন কাঠামোর সামগ্রিক প্রভাব নিয়ে আলোচনা চলছে।
