গ্রেপ্তারের ক্ষমতা পাচ্ছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দেওয়ার সুপারিশ করেছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬-এর খসড়া পর্যালোচনা শেষে পাঁচটি বিষয়ে সংশোধন এনে বিলটি সংসদে পাসের সুপারিশ করেছে কমিটি।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করার কথা রয়েছে।
সংসদীয় কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কমিশনের তদন্তের সময় কোনো আমলযোগ্য অপরাধের ঘটনা ধরা পড়লে এবং ওই ঘটনায় থানায় মামলা হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট আসামিকে গ্রেপ্তার করে থানায় হস্তান্তর করতে পারবে কমিশন। পাশাপাশি কমিশন প্রয়োজন মনে করলে যেকোনো ঘটনার তদন্ত করতে পারবে। সেই তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে।
অনুমতি ছাড়াই আটককেন্দ্র পরিদর্শন
প্রস্তাবিত আইনে জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী প্রটোকলের আলোকে জাতীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাপনা ইউনিট (এনপিএম) গঠনের কথা বলা হয়েছে। ইউনিটটি দেশের যেকোনো স্থানে, বিশেষ করে আটককেন্দ্র, হাজতখানা ও সেইফ হোমে পরিদর্শন চালাতে পারবে।
আরও পড়ুন: খেলাপি ঋণ ছাড়াল ৬ লাখ কোটি টাকা
এসব পরিদর্শনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আগাম অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন হবে না। যদিও খসড়া বিলে পরিদর্শনের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছিল। এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনাও হয়েছিল।
কমিশনে নারী ও নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধি
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে নিয়োগের ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, কমিশনে একজন নারী এবং একজন নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিকে রাখা বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এর আগে গত ২৭ আগস্ট আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬ জাতীয় সংসদে উত্থাপন করেন। পরে বিলটি পরীক্ষা ও যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। ডেপুটি স্পিকার কমিটিকে দুই কার্যদিবসের মধ্যে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেন।
গত ৩০ আগস্ট সংসদীয় কমিটির বৈঠকে বিলটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও পর্যালোচনা করা হয়। বৈঠক শেষে প্রয়োজনীয় সংশোধনসহ বিলটি সংসদে পাসের সুপারিশ করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় বুধবার সংসদে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হবে।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০০৯ বাতিল করে নতুন আইনি কাঠামো প্রণয়নের উদ্দেশ্যেই জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬ আনা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নতুন আইনের মাধ্যমে কমিশনকে আরও কার্যকর ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রতিরোধ ও প্রতিকারের ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হবে।
