×

জাতীয়

পে-স্কেলের খসড়া পায়নি আইন মন্ত্রণালয়

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৭ পিএম

পে-স্কেলের খসড়া পায়নি আইন মন্ত্রণালয়

ছবি : সংগৃহীত

মন্ত্রিসভায় নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো অনুমোদনের প্রায় দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনো প্রজ্ঞাপন (গেজেট) জারি হয়নি। এ নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, প্রজ্ঞাপন প্রকাশের আগে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির কারণেই কিছুটা সময় লাগছে।

মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর নতুন পে-স্কেলের খসড়া অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে—এমন খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলেও বাস্তবে খসড়াটি এখনো আইন মন্ত্রণালয়ে পৌঁছেনি। এটি বর্তমানে অর্থ মন্ত্রণালয়েই রয়েছে।

আইন মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, গত সপ্তাহে তারা শুনেছিলেন, এক-দুই দিনের মধ্যে অনুমোদিত পে-স্কেলের খসড়া ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে। তবে এখন পর্যন্ত সেটি তাদের হাতে পৌঁছায়নি।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা অবশ্য বিষয়টিকে ‘আটকে থাকা’ হিসেবে দেখতে নারাজ। তার ভাষ্য, গেজেট প্রকাশের আগে যেসব প্রস্তুতি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়, সেগুলো শেষ করতে সময় লাগছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বর্তমানে সামরিক ও বেসামরিক বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনাসহ প্রজ্ঞাপনের খসড়া প্রস্তুতের কাজ চলছে।

গেজেট প্রকাশে কেন সময় লাগে

সাবেক আমলাদের মতে, মন্ত্রিসভায় পে-স্কেল অনুমোদনের পর সরাসরি গেজেট প্রকাশ করা হয় না। এর আগে বেশ কিছু প্রশাসনিক ও আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়।

সাবেক সচিব ড. মো. আনোয়ার উল্ল্যাহ বলেন, মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য যে খসড়া পাঠানো হয়, সেখানে মূলত কোন গ্রেডে কত বেতন-ভাতা বাড়ানো হবে, তার একটি সামগ্রিক প্রস্তাব থাকে। অনুমোদনের পর প্রজ্ঞাপনের জন্য বিস্তারিত নির্দেশনাসহ নতুন খসড়া তৈরি করতে হয়।

এই খসড়ায় জনপ্রশাসনের পাশাপাশি সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), পুলিশ, সরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা কীভাবে কার্যকর হবে, তার বিস্তারিত উল্লেখ থাকে।

খসড়া প্রস্তুত হওয়ার পর সেটি আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়। সেখানে প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো সংবিধান ও সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী সঠিক কি না, তা যাচাই করা হয়। পাশাপাশি প্রজ্ঞাপনে ব্যবহৃত শব্দ, বাক্য ও আইনি পরিভাষায় কোনো অস্পষ্টতা বা দ্ব্যর্থতা রয়েছে কি না, সেটিও পরীক্ষা করা হয়।

ভেটিং শেষে চূড়ান্ত খসড়া অর্থ মন্ত্রণালয়ে ফেরত পাঠানো হয়। এরপর অর্থ মন্ত্রণালয় সেটি সরকারি মুদ্রণালয় বা বিজি প্রেসে পাঠায়। মুদ্রণ শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

আগের পে-স্কেলে সময় লেগেছিল কয়েক মাস

সর্বশেষ ২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল ঘোষণা করা হয়েছিল। ওই বছরের ৭ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিসভায় এর চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। এরপর প্রায় সাড়ে তিন মাস পর ১৫ ডিসেম্বর চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল।

সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদারের মতে, মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়ায় কয়েক সপ্তাহ, এমনকি কখনো কয়েক মাসও লাগতে পারে। তবে দীর্ঘদিন পর নতুন পে-স্কেল ঘোষণার কারণে এবার সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে অপেক্ষা ও উদ্বেগ তুলনামূলক বেশি।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, দ্রুতই পে-স্কেলের খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে। এরপর প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

জিন্নাহর ছবি কেন রাখা হয়েছে, ব্যাখ্যা দিলেন ডাকসু জিএস

জিন্নাহর ছবি কেন রাখা হয়েছে, ব্যাখ্যা দিলেন ডাকসু জিএস

নকল সিগারেট উদ্ধার

নকল সিগারেট উদ্ধার

পে-স্কেলের গেজেট জারি হচ্ছে না কেন, জানা গেল কারণ

পে-স্কেলের গেজেট জারি হচ্ছে না কেন, জানা গেল কারণ

নামাজে মনোযোগ না থাকলে নামাজ ছেড়ে দেওয়া যাবে?

নামাজে মনোযোগ না থাকলে নামাজ ছেড়ে দেওয়া যাবে?

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App