জিন্নাহর ছবি কেন রাখা হয়েছে, ব্যাখ্যা দিলেন ডাকসু জিএস
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি রাখার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ডাকসু আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে কথা বলেন তিনি।
এস এম ফরহাদ বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন হঠাৎ করে সংঘটিত হয়নি। এর আগে ধারাবাহিকভাবে নানা প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল। জিন্নাহ সরাসরি বাংলা ভাষার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বলেছিলেন, পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু। ভাষা আন্দোলনের পটভূমি তুলে ধরতেই সংগ্রহশালায় তার ছবি ও বক্তব্য রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, ছবির নিচে ইংরেজিতে জিন্নাহর বক্তব্যের সরাসরি উদ্ধৃতিও দেওয়া হয়েছে। এরপর কীভাবে ভাষা আন্দোলনের পরবর্তী প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল, সেটিও সেখানে তুলে ধরা হয়েছে।
ডাকসু জিএস বলেন, ‘জিন্নাহ যে বাংলা ভাষার বিরোধিতা করেছিলেন, তা আমরা লুকাইনি। বরং তার ছবি ও “উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা” এই বক্তব্যের ক্যাপশন দিয়ে বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছি। এখন ছবি ও ক্যাপশন দেওয়ার পরই এর বিরোধিতা করা হচ্ছে।’
ছাত্রদলের প্রতিক্রিয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়েছে, ছাত্রদল পক্ষান্তরে জিন্নাহর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তারা ছবিটি সরিয়ে নিতে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে। এর অর্থ দাঁড়ায়, জিন্নাহ যে বাংলা ভাষার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন, সেই ইতিহাস তারা আড়াল করতে চায়। অথচ আমরা সেখানে সঠিক ইতিহাসই তুলে ধরেছি।’
তিনি আরও বলেন, এ ক্ষেত্রে দুটি বিষয় হতে পারে হয় তারা ইতিহাস জানে না এবং পড়াশোনা করেনি, অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে জিন্নাহর ভূমিকা আড়াল করার চেষ্টা করছে। তার ভাষ্য, সম্ভবত জিন্নাহর প্রতি তাদের আলাদা প্রীতি রয়েছে।
ছবিটি ভাঙচুরের প্রসঙ্গ তুলে এস এম ফরহাদ বলেন, ‘আজ একজন শিক্ষার্থী ছবিটি ভেঙেছেন বলে দেখলাম। শুনেছি, তিনি উর্দু বিভাগের শিক্ষার্থী। আমরা ছবি ও ক্যাপশনের মাধ্যমে দেখিয়েছি যে জিন্নাহ উর্দুর পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। সম্ভবত ওই শিক্ষার্থী চান না, উর্দুর বিষয়ে জিন্নাহর সেই অবস্থান মানুষ জানুক। এ কারণেই তিনি ছবিটি ভেঙে থাকতে পারেন।’
