শেখ হাসিনার বিচার নিয়ে কূটনৈতিক বার্তা দিলো যুক্তরাষ্ট্র
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৭ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচার, দেশে ফেরা কিংবা আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান নেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। বরং শেখ হাসিনাকে ঘিরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান প্রত্যাশা করছে ওয়াশিংটন।
নিউইয়র্ক ফরেন প্রেস সেন্টারে দক্ষিণ এশিয়া নিয়ে আয়োজিত এক অন-ব্যাকগ্রাউন্ড ব্রিফিংয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এসব কথা বলেন। তিনি জানান, শেখ হাসানাকে নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনো নির্দিষ্ট কোনো অবস্থান নেয়নি।
ওই কর্মকর্তা বলেন, শেখ হাসিনার বিষয়টি বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিরোধের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই দুই দেশ নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে একটি সমাধানে পৌঁছাবে বলে আশা করছে যুক্তরাষ্ট্র।
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়ে কোনো পক্ষ নিতে চায় না বলেও জানান তিনি। তার ভাষ্য, ওয়াশিংটন বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ করছে এবং দেশটিকে আরও শক্তিশালী, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায়।
বাংলাদেশ একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করছে—এ প্রসঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ওয়াশিংটন বাংলাদেশকে কোনো একটি পক্ষ বেছে নিতে বাধ্য করতে চায় না। তবে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও টেলিযোগাযোগের মতো সংবেদনশীল খাতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য কোনো দেশকে একটি পক্ষ বেছে নিতে বাধ্য করা নয়; বরং সংবেদনশীল খাতে বিকল্প ব্যবস্থা ও সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করা।
এদিকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বর্তমানে ইতিবাচক গতিপথে রয়েছে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন। বাণিজ্য, বিমান খাত ও বেসামরিক পরমাণু সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক অগ্রগতিকে দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে তুলে ধরেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক ব্যুরোর ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি বেথানি মরিসন নিউইয়র্ক ফরেন প্রেস সেন্টারের ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নিয়ে এ মন্তব্য করেন।
মরিসন বলেন, বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও দুই দেশের সম্পর্ক ভালো অবস্থানে রয়েছে। চলতি সপ্তাহে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাক্ষাতের বিষয়টিকেও তিনি উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশের সঙ্গে সাম্প্রতিক বাণিজ্যিক সহযোগিতার প্রসঙ্গে তিনি বোয়িংসংক্রান্ত একটি বড় বাণিজ্যিক চুক্তির কথাও তুলে ধরেন।
এ ছাড়া বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বেসামরিক পরমাণু সহযোগিতা নিয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের প্রস্তুতির কথাও জানান মরিসন। তাঁর মতে, এই উদ্যোগ দুই দেশের সম্পর্কের সহযোগিতার নতুন একটি ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে।
দক্ষিণ এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক নীতি প্রসঙ্গে মরিসন বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন এ অঞ্চলকে আগের তুলনায় বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে ভবিষ্যতে আরও অগ্রগতির সুযোগ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
