×

জাতীয়

সড়কে আবারও শুরু টোকেন চাঁদাবাজি

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫৩ পিএম

সড়কে আবারও শুরু টোকেন চাঁদাবাজি

ছবি : সংগৃহীত

দূরপাল্লার পরিবহনে চাঁদাবাজির ধরন বদলে গেছে। আগে মহাসড়কে লাঠি হাতে দাঁড়িয়ে বা গাড়ির দরজায় ধাক্কা দিয়ে প্রকাশ্যে টাকা আদায়ের ঘটনা দেখা গেলেও এখন ব্যবহার করা হচ্ছে টোকেন, কার্ড, স্টিকার কিংবা বিভিন্ন ধরনের সংকেত। নির্দিষ্ট পয়েন্টে চালককে শুধু জিজ্ঞেস করা হয়—‘টোকেন আছে?’ টোকেন থাকলে গাড়ি চলে যায়, না থাকলে শুরু হয় নানা ধরনের হয়রানি।

চালকদের ভাষ্য, প্রকাশ্য চাঁদাবাজির দৃশ্য কিছুটা কমলেও নতুন পদ্ধতিতে চাঁদা আদায়ের পরিমাণ বেড়েছে। নব্বইয়ের দশকে মহাসড়কে টোকেন ব্যবস্থার প্রচলন ছিল বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। পরে নগদ অর্থে চাঁদা আদায়ের পদ্ধতি চালু হলেও সাম্প্রতিক সময়ে আবারও টোকেনভিত্তিক ব্যবস্থায় ফিরেছে চাঁদাবাজি।

বগুড়ার কাঁচামাল ব্যবসায়ী আজমল হোসেন বেপারী দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে স্থানীয় বিভিন্ন বাজার থেকে পণ্য কিনে ট্রাকে করে ঢাকার কারওয়ান বাজারে নিয়ে আসছেন।  তিনি জানান, দেশের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মহাসড়কে পণ্যবাহী ট্রাক ও পিকআপকে বিভিন্ন নামে অর্থ দিতে হয়। কোথাও শ্রমিক সংগঠন, কোথাও স্থানীয় প্রভাবশালী মহল এবং কোথাও পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে এই অর্থ আদায় করা হয়। এর বাইরে থানা, হাইওয়ে ও ট্রাফিক পুলিশের নামেও টাকা দিতে হয় বলে তার অভিযোগ।

আজমল হোসেনের দাবি, আগে বগুড়া থেকে ঢাকায় এক ট্রাক পণ্য আনতে পথে প্রায় ৫ হাজার টাকা চাঁদা দিতে হতো। এখন সেই খরচ বেড়ে ৮ থেকে ৯ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে। এর বাইরে যমুনা সেতুর ওজন টোল প্লাজাতেও নির্ধারিত অর্থের বাইরে টাকা দিতে হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। এমনকি খালি ট্রাক চলাচলের ক্ষেত্রেও টাকা দিতে হয় বলে জানান তিনি।

তার ভাষ্য, টোলের বাইরে এসব অর্থের পরিমাণ ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত। বগুড়ার শাহজাহানপুর থেকে পরিবহন চাঁদার টোকেন দেওয়া হয়। টোকেনের ধরনও প্রতিদিন এক রকম থাকে না। কখনো কোমল পানীয়ের বোতলের মুখ, কখনো সিগারেটের প্যাকেট, দিয়াশলাই, মোমবাতিতে কলম দিয়ে লেখা নম্বর কিংবা কোনো কোড ব্যবহার করা হয়। পুলিশের নামে চাঁদা আদায়ের ক্ষেত্রেও আলাদা টোকেন দেওয়া হয় বলে অভিযোগ তার।

এ বিষয়ে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির গণমাধ্যমকে বলেন, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। মহাসড়কে চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও ডাকাতি বন্ধে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পুলিশ সদর দপ্তরে জেলা পুলিশ সুপারদের সঙ্গে ভার্চুয়াল আইনশৃঙ্খলা সভায় চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা জানানো হয়েছে।

আইজিপি বলেন, মহাসড়কে চাঁদাবাজি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঠেকাতে জেলা ও হাইওয়ে পুলিশকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া এবং টহল বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গাড়ি থেকে জোরপূর্বক চাঁদা বা অবৈধ অর্থ আদায় বন্ধে নিয়মিত নির্দেশনাও দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন মহাসড়ক, বাস টার্মিনাল ও স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজির অভিযোগে জড়িত শ্রমিক ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের আটক করে মামলা ও আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

পরিবহন খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চাঁদাবাজি বন্ধে শুধু রাস্তার পাশে অভিযান চালালেই হবে না। অর্থ আদায়কারী ব্যক্তিকে আটকের পাশাপাশি এর পেছনে কারা রয়েছে, কোথায় টাকা জমা হচ্ছে এবং কার নির্দেশে অর্থ আদায় করা হচ্ছে—এসব বিষয়ও তদন্ত করতে হবে। তাদের মতে, নিচের পর্যায়ের কর্মী পরিবর্তন করা সহজ; কিন্তু অর্থের প্রবাহ ও সংগঠকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে একই চক্র আবার সক্রিয় হতে পারে।

চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেকেই হয়রানি বা প্রতিশোধের আশঙ্কায় চাঁদা দেওয়ার বিষয়ে প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে চান না। কারণ একই মহাসড়ক তাদের নিয়মিত ব্যবহার করতে হয়। ফলে প্রতিবাদ করলে পরবর্তী সময়ে সমস্যায় পড়ার আশঙ্কা থাকে বলে তারা জানান।

কারওয়ান বাজার কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমিতির নেতা হাজী ফুল মিয়া বলেন, একটি ট্রাককে বাড়তি টাকা দিতে হলে পরিবহন ব্যয় বাড়ে। পরে সেই বাড়তি ব্যয় পণ্যের দামের সঙ্গে যুক্ত হয়। ফলে শেষ পর্যন্ত এর চাপ পড়ে ভোক্তার ওপর। তার মতে, মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও গোপন তদন্ত চালালে চাঁদাবাজির চিত্র স্পষ্ট হবে।

সমিতির আরেক নেতা আলমগীর হোসেন বলেন, কোন গাড়ি কোথায় চলবে এবং বৈধ টোল কত হবে—তা রাষ্ট্র নির্ধারণ করবে। বৈধ ফি নেওয়া হলে তার রসিদ থাকবে। কিন্তু কোনো গোষ্ঠী নিজেদের নিয়মে গাড়ি চলাচলের জন্য টাকা দাবি করে টোকেন দিলে তা শুধু চালকের ওপর চাপ নয়, রাষ্ট্রের বৈধ ব্যবস্থার প্রতিও চ্যালেঞ্জ।

তার ভাষ্য, মহাসড়কে চাঁদাবাজির পুরোনো রূপ ছিল প্রকাশ্য। এখন টোকেনের মাধ্যমে সেই চাঁদাবাজি আরও আড়ালে চলে গেছে। প্রতিটি ট্রাক থেকে কয়েক হাজার টাকা করে আদায় হলে প্রতিদিন শত শত গাড়ির ক্ষেত্রে এর পরিমাণ বড় অঙ্কে দাঁড়াতে পারে। এর ফলে একদিকে পরিবহন খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে সেই ব্যয়ের প্রভাব পড়ছে বাজারের পণ্যের দামে।

সূত্র : রূপালী বাংলাদেশ

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

টয়লেটে যাওয়ার কথা বলে পালালেন ‘পিচ্চি’ রাজা

টয়লেটে যাওয়ার কথা বলে পালালেন ‘পিচ্চি’ রাজা

সড়কে আবারও শুরু টোকেন চাঁদাবাজি

সড়কে আবারও শুরু টোকেন চাঁদাবাজি

সংবিধানে ফিরছে ‘মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’

সংবিধানে ফিরছে ‘মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’

সাপকে বিশ্বাস করা যায়, কিন্তু জামায়াতকে নয় : ফজলুর রহমান

সাপকে বিশ্বাস করা যায়, কিন্তু জামায়াতকে নয় : ফজলুর রহমান

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App