বোয়িংয়ের পর এবার ১০ এয়ারবাস কিনবে সরকার, চুক্তি কবে
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০৫ পিএম
এয়ারবাসের একটি উড়োজাহাজ। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার পর, এবার ইউরোপীয় নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাস থেকে আরও ১০টি উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী অক্টোবরেই এ বিষয়ে চুক্তি চূড়ান্ত হতে পারে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানান তিনি।
এর আগে গত ২৪ সেপ্টেম্বর বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এর আগে আরও ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়েছিল। সব মিলিয়ে বোয়িংয়ের কাছ থেকে বিমানের মোট ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে।
এয়ারবাস কেনার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, "আমরা এয়ারবাসের কাছ থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কিনছি। ইনশাআল্লাহ, আগামী অক্টোবরেই এ নিয়ে চুক্তি হয়ে যাবে।" তবে নির্দিষ্ট সময়ে উড়োজাহাজ হাতে পাওয়া নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা থাকায় সরকার বিকল্প উপায়েও উড়োজাহাজ সংগ্রহের বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে জানান তিনি।
বিমানের বর্তমান পরিস্থিতি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা:
বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরে ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে দুটি প্রায় গ্রাউন্ডেড হওয়ার পথে থাকায় কার্যকরভাবে প্রায় ১৭টি উড়োজাহাজ দিয়ে ফ্লাইট পরিচালনা করতে হচ্ছে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বহরের বেশ কয়েকটি উড়োজাহাজ পুরোনো হয়ে যাওয়ায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: ৬৮ এসিল্যান্ডকে প্রত্যাহার
বোয়িং থেকে কেনা উড়োজাহাজগুলো একসঙ্গে দেশে আসছে না উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, চুক্তি অনুযায়ী প্রথম উড়োজাহাজটি ২০৩১ সালে আসার কথা এবং পরবর্তীতে ২০৩৫-৩৬ সাল পর্যন্ত এগুলো পর্যায়ক্রমে সরবরাহ করা হবে। নতুন উড়োজাহাজ হাতে পাওয়ার আগ পর্যন্ত বহর সচল রাখতে লিজের মাধ্যমে অন্তত ১০টি উড়োজাহাজ নেওয়ার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, "আমাদের বহরে আরও ১০টি উড়োজাহাজ যোগ হলে অনেকগুলো নতুন স্লট কাজে লাগানো সম্ভব হবে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক রুটে বিদেশি এয়ারলাইনসগুলো বেশি ফ্লাইট পরিচালনা করছে। আমাদের সক্ষমতা বাড়লে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন গন্তব্যে ফ্লাইট বাড়ানো যাবে।"
নতুন রুট ও টিকিটের দাম কমানোর পরিকল্পনা:
নিউইয়র্কে পুনরায় ফ্লাইট চালুর পাশাপাশি সিডনি রুট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। বর্তমানে জাপানে একটি ফ্লাইট চালু থাকলেও সেখানে দ্বিতীয় ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ২৮ হাজার টাকার শাড়ি নিয়ে আদালতে যা বললেন তিশা
এয়ারবাস কেনার পেছনে কোনো রাজনৈতিক বা বাহ্যিক চাপ রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী স্পষ্ট করেন, "আমরা কোনো চাপে কিছু করছি না; বরং আমাদের প্রয়োজন ও অ্যাভিয়েশন খাতের স্বার্থ বিবেচনা করেই নিজস্ব সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। কোন দেশ থেকে কিনলে বাংলাদেশ লাভবান হবে, তা ভেবেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।"
তিনি আশা প্রকাশ করেন, অ্যাভিয়েশন খাত শক্তিশালী হলে যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি দেশের অর্থ দেশেই থাকবে এবং ভবিষ্যতে টিকিটের দামও কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।
