স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী
বেসরকারি শিক্ষকদের জাতীয়করণ আজ হোক, কাল হোক হবেই
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের জাতীয়করণের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, শিক্ষকদের পদমর্যাদা ও জীবনমান উন্নয়নের স্বার্থে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের জাতীয়করণ আজ হোক, কাল হোক—হবেই।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট আয়োজিত সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মীর শাহে আলম বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা, পেনশন ও মান-মর্যাদা বৃদ্ধিতে শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে শিক্ষক-কর্মচারীদের জাতীয়করণের দাবি বাস্তবায়িত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের ছাদে ৫ দশমিক ৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপন করা যাবে।
তার দাবি, এতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের পাশাপাশি ছুটির দিন ও অতিরিক্ত সময়ে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে বিক্রি করে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান মাসে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের সময়ে শিক্ষা বাজেট তিন গুণ এবং স্বাস্থ্য বাজেট দ্বিগুণ করা হয়েছে।
শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদার গুরুত্ব তুলে ধরে মীর শাহে আলম বলেন, ‘শিক্ষকই একমাত্র পেশা, যা পৃথিবীর অন্য সব পেশার জন্ম দেয়।’ শিক্ষকরা সমাজের মূল চালিকাশক্তি ও গণতন্ত্রের বার্তাবাহক উল্লেখ করে শিক্ষকদের মর্যাদা ক্ষুণ্নকারী অপপ্রচারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের বয়স মাত্র সাত মাস। দীর্ঘ আন্দোলনের পর অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত এই সরকার শিক্ষা খাত পুনরুজ্জীবিত করতে কাজ করছে। আর্থিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও ২০২২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত অবসরে যাওয়া প্রায় এক লাখ শিক্ষক-শিক্ষিকার ভাতা পরিশোধে ২ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
শিক্ষক-কর্মচারীদের জাতীয়করণের বিষয়ে মীর শাহে আলম বলেন, এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে বছরে অতিরিক্ত ৭০০ থেকে ৮০০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। এ জন্য সুশৃঙ্খল ও বৃহৎ পরিসরে জাতীয় সমাবেশ করে মানবিক ও গণতান্ত্রিক উপায়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি তুলে ধরার পরামর্শ দেন তিনি। বর্তমান সরকার দাবিটির গুরুত্ব অনুধাবন করবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রতিমন্ত্রী।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষকদের অংশগ্রহণ নিয়ে বিতর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পূর্ণাঙ্গ জাতীয়করণ না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণে আইনি বা নীতিগত কোনো বাধা নেই।
সম্মেলনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল। এছাড়া সংসদ সদস্য ও শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া, শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের মহাসচিব চৌধুরী মুগীস উদ্দিন মাহমুদ এবং বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির মহাসচিব মো. জাকির হোসেনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
