পানিসম্পদমন্ত্রী
ভারতের সঙ্গে গঙ্গা চুক্তি ডিসেম্বরের আগেই, মার্চের মধ্যে পদ্মা ব্যারাজ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৪ পিএম
ফাইল ছবি
পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, চলতি বছরের ডিসেম্বরের আগে ভারতের সঙ্গে গঙ্গা চুক্তি সম্পন্ন হবে। গঙ্গা চুক্তিতে মূল অগ্রাধিকার থাকবে ১৯৭৭ সালের চুক্তির মতো ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ ফিরিয়ে আনা। আগামী বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি বা মার্চের মধ্যে পদ্মা ব্যারাজের কাজ দৃশ্যমান হবে। এ ছাড়া তিস্তা বহুমুখী প্রকল্পের ফিজিবিলিটি স্টাডি বা সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে আগামী বছরে সরকার মূল কাজ শুরু করতে চায় বলেও জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ঢাকায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) আয়োজিত ‘পানির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন ভাবনা : তরুণ নেতৃত্ব, ন্যায়বিচার ও সহযোগিতা’ শীর্ষক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ প্রত্যাশার কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ মেগা প্রজেক্ট। এটি বাংলাদেশের জন্য মাস্টারমাইন্ড প্রজেক্ট; যেখানে বাংলাদেশের মোট অঞ্চলের তিন ভাগের এক ভাগ মানুষ এর সুফল পাবে। তিনি আরও বলেন, পদ্মা ব্যারাজের কাজ দৃশ্যমান করার জন্য একনেকে পাস হয়েছে। আমরা আশা করছি আগামী জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি বা মার্চের যেকোনো এক সময়ে কাজ দৃশ্যমান হবে।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি একটি খরস্রোতা নদী। ভারত থেকে উজানের পানি যেভাবে ভাটি এলাকায় আসছে, দীর্ঘদিন থেকে এই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়ে ওই অঞ্চলের মানুষ জীবনধারণ করছে। আমরা এই মহাপরিকল্পনার নামে যা আলোচনা করছি, এটা নিয়ে প্রচুর সেমিনার হয়েছে এবং হচ্ছে।
তিনি বলেন, বুয়েটের যেসব বিশেষজ্ঞ সদস্য রয়েছেন, তাদের সঙ্গে কথা বলেছি, মিটিং করেছি এবং দায়িত্ব দিয়েছি। দেশি-বিদেশি অনেক বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলেছি। কারণ, এ ক্ষেত্রে তাদের কারিগরি সহায়তা বা টেকনিক্যাল সাপোর্ট নেওয়া খুবই প্রয়োজন।
শিগগিরই এর ফিজিবিলিটি স্টাডি বা সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ হাতে নিতে হবে জানিয়ে শহীদউদ্দীন চৌধুরী বলেন, স্টাডির ভিত্তিতেই আমরা প্রজেক্টের কাজ শুরু করব। আমরা আশা করছি, এটি সম্পূর্ণ করতে কিছুটা সময় লাগবে। ২০২৭ সালের মধ্যে সব শেষ করে যেন ২০২৭ সালে মূল কাজ শুরু করা যায়, সেদিকে আমাদের বিশেষ নজর রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, গঙ্গা চুক্তি নিয়ে সবাই বেশ উদগ্রীব। ২০২৬ সালের ১২ ডিসেম্বর এই ৩০ বছরের চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। ১৯৭৭ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জীবদ্দশায় প্রথম ৫ বছরের জন্য চুক্তি হয়েছিল, যাতে ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ ছিল। কিন্তু ১৯৯৬ সালে সেই গ্যারান্টি ক্লজ বাদ রেখে চুক্তিটি নবায়ন বা নতুন চুক্তি করা হয়।
আগামী ১২ ডিসেম্বরের আগেই নতুন চুক্তি করতে হবে উল্লেখ করে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, সেই অনুযায়ী বাংলাদেশ এবং ভারত উভয় পক্ষ যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বৈঠকের ভিত্তিতে আমরা আশাবাদী যে ২০২৬ সালের ১২ ডিসেম্বরের আগেই চুক্তি সম্পন্ন হবে। সেখানে আমাদের মূল অগ্রাধিকার থাকবে ১৯৭৭ সালের চুক্তির মতো ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ ফিরিয়ে আনা।
পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা প্রকল্পে বহির্বিশ্বের কোনো চাপ বা প্রতিবন্ধকতা অনুভব করছেন কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, পদ্মা ও তিস্তার পাড়ে যারা বাস করেন, তারা এ দেশেরই মানুষ। দেশের মানুষের স্বার্থ ও চাপই আমার কাছে সবচেয়ে বড় চাপ। সেই চাপকে ধারণ করে দেশের মানুষের কল্যাণই আমাদের মূল লক্ষ্য।
পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, পদ্মা ব্যারাজের স্টাডি সম্পন্ন করতেই ২০০৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় লেগেছিল। পরবর্তী সময়ে তা আর বাস্তবায়িত হয়নি। আমরা দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যে তা চূড়ান্ত করে কাজ হাতে নিয়েছি।
তিস্তার মতো মেগা প্রজেক্টের স্টাডি রাতারাতি বা দু-এক মাসে সম্ভব নয় জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, অতীতে যারা দায়িত্বে ছিলেন, তারা পর্যাপ্ত টেকনিক্যাল সাপোর্ট নিয়ে কাজ শেষ করেননি। তবে সরকার নিজ উদ্যোগেই এই কাজ সম্পন্ন করে প্রকল্পটিকে দৃশ্যমান রূপ দেবে বলে জানান তিনি।
