যেসব কারণে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের পে-স্কেলে বেতন পেতে দেরি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২৮ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
নবম জাতীয় পে-স্কেল অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন পেতে আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে অর্থ বিভাগ।
পৃথক প্রজ্ঞাপন ছাড়াই এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেলে বেতন দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবায়নে বিলম্বের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে এমপিওভুক্ত মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণের হিসাব প্রক্রিয়ায় জটিলতার কারণে এ বিলম্ব হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অর্থ বিভাগ সূত্র জানায়, এমপিওভুক্ত মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন হিসাব এখনো হাতে-কলমে করতে হয়। অন্যদিকে, স্কুল, কলেজ ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার হিসাব কম্পিউটারের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়। হিসাব পদ্ধতির এই পার্থক্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে বাড়তি সময় নিতে পারে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেলে বেতন দিতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। আগামী নভেম্বর অথবা ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা সম্ভব হবে কি না, সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের বাদ দিয়ে স্কুল, কলেজ ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের আগে নতুন পে-স্কেলে বেতন দেওয়া সম্ভব কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেন, সবাই একই মন্ত্রণালয়ের অধীন হওয়ায় একসঙ্গেই নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা দেওয়া হবে।
এর আগে গত ১ সেপ্টেম্বর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছিলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদেরও নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন দেওয়া হবে।
বর্তমানে সারা দেশে ছয় লাখের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী এমপিওভুক্ত রয়েছেন। এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে প্রায় চার লাখ, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে প্রায় পৌনে দুই লাখ এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে ২৩ হাজারের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন।
এমপিওভুক্ত কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিজস্ব আয় থেকে শিক্ষক-কর্মচারীদের অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার সক্ষমতা থাকলেও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের সেই সুযোগ নেই। ফলে নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলে বেতন-ভাতায় সম্ভাব্য পরিবর্তন এই শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
