পাকিস্তানের সীমান্তে আফগানিস্তানের ড্রোন হামলা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৬ এএম
ছবি : সংগৃহীত
পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশের সীমান্তবর্তী কয়েকটি এলাকায় হামলা চালিয়েছে আফগান সেনাবাহিনী। এ ঘটনায় কেউ নিহত না হলেও কয়েকজন আহত হয়েছেন। বিবিসির।
এ হামলার সত্যতা স্বীকার করে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, আফগান বাহিনীর ছোড়া চারটি সামরিক ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইসলামাবাদ সতর্ক করে বলেছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা হলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
এর আগে গত রোববার (২৮ জুন) আফগানিস্তানের ভেতরে বিমান অভিযান চালায় পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বাহিনী। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় অন্তত ২৮ জন নিহত হন। নিহতরা সবাই ছিলেন বেসামরিক নাগরিক।
অন্যদিকে, আফগানিস্তানের ক্ষমতাসীন তালেবান সরকারের দাবি, পাকিস্তানের ওই বিমান হামলায় ৩৬ জন নিহত এবং ১৬০ জন আহত হয়েছেন। এ হামলাকে ‘কাপুরুষোচিত’ ও ‘নৃশংস’ বলে নিন্দা জানিয়েছে তালেবান সরকার।
আরো পড়ুন : আফগান সীমান্তে পাকিস্তানি বাহিনীর অভিযান, নিহত ২৯
তবে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার দাবি করেন, রোববার রাতে আফগানিস্তানের পাকতিয়া, পাকতিকা ও কুনার প্রদেশে তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর বিভিন্ন ঘাঁটি লক্ষ্য করে বিমান অভিযান চালানো হয়েছিল। তিনি জানান, এতে ২৯ জন নিহত হন এবং তারা সবাই নিষিদ্ধ ঘোষিত টিটিপির সদস্য ছিলেন। পাকিস্তানে এ গোষ্ঠীকে সরকারিভাবে ‘ফিৎনা আল খারিজি’ নামে উল্লেখ করা হয়।
ধারণা করা হচ্ছে, পাকিস্তানের ওই বিমান হামলার জবাব দিতেই মঙ্গলবার রাতে বেলুচিস্তান সীমান্তে আফগান সেনাবাহিনী হামলা চালিয়েছে।
ভাষা, ধর্ম ও সাংস্কৃতিক মিল থাকলেও গত কয়েক বছরে টিটিপিকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সম্পর্ক ক্রমেই অবনতির দিকে গেছে। বিশেষ করে ২০২১ সালে তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা গ্রহণের পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরো বেড়েছে।
ইসলামাবাদের অভিযোগ, পাকিস্তানের ভেতরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাতে টিটিপিকে আশ্রয় ও সহায়তা দিচ্ছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার। তবে কাবুল বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
গত কয়েক বছরে এ ইস্যুতে দুই দেশের মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের মধ্যে একাধিক বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি। এরই মধ্যে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি খাইবার পাখতুনখোয়া সীমান্তে হামলা চালিয়ে কয়েকজন পাকিস্তানি সেনাকে হত্যা এবং কয়েকজনকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে আফগান বাহিনীর বিরুদ্ধে।
ওই ঘটনার পর আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধঘোষণা করে পাকিস্তান। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ অপহৃত সেনাদের উদ্ধারে ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ শুরুর ঘোষণা দেন। পরে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানান, রোববারের বিমান অভিযানও ওই সামরিক অভিযানেরই অংশ ছিল।
