×

অর্থ শিল্প বাণিজ্য

সিপিডির গবেষণা : বিদ্যুতের বাড়তি দামে ভোক্তার চাপ বাড়বে

Icon

প্রকাশ: ১৪ মার্চ ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

সিপিডির গবেষণা : বিদ্যুতের বাড়তি দামে ভোক্তার চাপ বাড়বে
কাগজ প্রতিবেদক : বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ফলে বাসা বাড়িতে গড়ে বাড়তি বিল দিতে হবে। বিদ্যুতের দাম বাড়ানো অযৌক্তিক, এর ফলে ভোক্তার ওপর চাপ পড়বে বলে জানিয়েছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি)। উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ কেনার কারণে সরকার তার দায় ভোক্তার ওপর চাপিয়েছে মন্তব্য করে সংস্থাটি জানায়, গ্যাস থেকে এলএনজি বিদ্যুতে যেতে সরকারের ব্যয় বৃদ্ধির কারণ। এই মূল্যবৃদ্ধি ভোক্তার ওপর বাড়তি চাপ ফেলবে, যা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ক্যাপাসিটি পেমেন্টকে বিদ্যুতের ভর্তুকি সমন্বয়ে প্রথম অগ্রাধিকার দেয়া উচিত বলে মনে করে সংস্থাটি। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে ‘সাম্প্রতিক বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি ভর্তুকি সমন্বয়ের অন্য বিকল্প আছে কি’ এ নিয়ে সিপিডির সুনির্দিষ্ট অবস্থান জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গবেষণার ফলাফল তুলে ধরেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। গতকাল বুধবার অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গবেষণা সহযোগী হেলেন মাশিয়াত প্রিয়তি, মাশফিক আহসান হৃদয়, প্রোগ্রাম সহযোগী ফয়সাল কাইয়ুম প্রমুখ। এ সময় সিপিডির পরিচালিত জরিপের তথ্য তুলে ধরা বলা হয়েছে, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির ফলে বাসা বাড়িতে গড়ে বাড়তি বিল দিতে হবে প্রায় সাড়ে ৯ শতাংশ। শীতে গড়ে মানুষকে অতিরিক্ত ১০৬ টাকা আর গরমকালে ১১৮ টাকা বাড়তি বিল দিতে হবে। সরকার আইএমএফের সঙ্গে যে ঋণ চুক্তি করেছে, সেই চুক্তির একটি শর্ত হলো, জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণে স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া, আরেকটি বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির ক্ষেত্রে সাবসিডি কমিয়ে আনা। এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনকে পাশ কাটিয়ে শুধুমাত্র নির্বাহী আদেশের ভিত্তিতে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে, এতে সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ঘাটতি রয়েছে বলে মনে করে সিপিডি। অনতিবিলম্বে সরকারকে বিদ্যুৎ জ্বালানি অ্যাক্টের ওই ধারা রোহিত করে বিইআরসি এর মাধ্যমে প্রতিযোগিতামূলক বিডিং ও গণশুনানির মাধ্যমে বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয় করতে সরকারকে আহ্বান জানিয়েছে সিপিডি। গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, মূল্য সমন্বয়ের ফলে বিভিন্ন পর্যায়ের ভোক্তার ওপর, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি অভিঘাত পরিলক্ষিত হয়েছে। আগামী দিনেও এই অভিঘাত পড়বে। আমরা আশ্চর্য হচ্ছি সরকার এটাকে মূল্যবৃদ্ধি বলতে চায় না, সমন্বয় বলতে চায়। আমি জানি না, সমন্বয় আর বৃদ্ধির মধ্যে মৌলিকভাবে কোনো পার্থক্য আছে কি না? এটা সরাসরি ভোক্তার ঘাড়ে পড়ছে, যদিও সরকার বলছে তাদের ঘাড়ে তেমন পড়বে না। কিন্তু আমাদের আমাদের বক্তব্য হলো, ভর্তুকি সমন্বয়ের এই উদ্যোগ সরকারের প্রথম প্রাধিকার হতে পারে না। ভর্তুকি সমন্বয়ের জন্য সরকারের প্রথম প্রাধিকার হওয়া উচিৎ হলো, ক্যাপাসিটি পেমেন্ট বা বর্ধিত বিদ্যুতের যে ক্যাপাসিটি তৈরি হচ্ছে তার জন্য সরকারকে যে পেমেন্ট দিতে হচ্ছে, সেটিকে কীভাবে সমন্বয় করা যায়। যদিও সেদিকে সরকার এখনো কোনো উদ্যোগ নেয়নি। সিপিডির এ গবেষণা পরিচালক বলেন, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি গত এক বছর ধরে অব্যহাতভাবে হচ্ছে। ২০২৩ সালের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি এবং মার্চে পাঁচ শতাংশ করে করে প্রতিমাসে বাড়ানো হয়েছে। এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে এসে সাড়ে ৮ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে। বলা হচ্ছে এই মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে, আরও দুই ধাপে এই বৃদ্ধি করা হবে। এটা আমাদের জন্য বড় রকম দুশ্চিন্তার কারণ। বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি ভর্তুকি সমন্বয়ের বিকল্প প্রস্তাবনার বিষয়ে তিনি বলেন, সরকার যে মূল্য সমন্বয় করেছে, তাতে সরকারের মাত্র দুই হাজার ৬৫০ কোটি টাকা ভর্তুকি সমন্বয় হবে। এরপরও সরকারকে বিদ্যুতখাতে প্রায় ৩৯ হাজার কোটি টাকা বর্ধিত ভর্তুকি দিতে হবে। সরকার যদি পুরোটাই ভোক্তার ওপরে চাপ দিয়ে করার পরিকল্পনা করে থাকে, তাহলে এখনকার সময়ে ১৬ দশমিক ৪০ টাকা আগামী দিনে এটা আরো বেড়ে যাবে। এই চাপ ভোক্তার ওপরে দেয়ার কথা নয়। যদিও আইএমএফের হিসেবে অনুযায়ী বলা হচ্ছে, এই মূল্য ১২ দশমিক ১১ টাকা, আগামী দুই তিন বছরে এই দাম থাকবে না। এটা বেড়ে হবে ১৬ দশমিক ৪০ টাকা। সরকারের পরিষ্কার কোনো রোডম্যাপ আমরা দেখছি না। সমন্বয় যদি পুরোটাই ভোক্তাকেন্দ্রিক হয়, তাহলে আমাদের প্রবল আপত্তি থাকবে। সিপিডি বলেছে, আমরা মূলত চারটি বিকল্প সরকারের কাছে তুলে ধরতে চাই। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে চারটি কৌশলের মাধ্যমে সরকার ভর্তুকি সমন্বয় করতে পারে, সরকার তার পরিকল্পনা মত যে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে ফেজ আউট করতে চায়, কুইক রেন্টালগুলোতে ফেজ আউট ঘোষণা হয়েছে, সময়মত সেগুলো থেকে ফেজ আউট করবে। নতুন যে বিদ্যুৎকেন্দ্র হচ্ছে সেগুলোতে ‘নো ইলেক্ট্রিসিটি নো পে’, পুরনোগুলোর চুক্তি শেষ হওয়ার পরে সেগুলো সব নো ইলেক্ট্রিসিটি নো পে এরমকম ভাড়ায় চুক্তি করবে। যে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ফেজ আউট হবে, সরকার বলছে ৪০ শতাংশ নবায়নযোগ্য বিদ্যুতে যেতে চায়, সে লক্ষ্যে যাওয়ার ক্ষেত্রে ধারাবাহিকভাবে বন্ধ বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে নবায়নযোগ্য বিদ্যুতকেন্দ্র দিয়ে রিপ্লেস করতে হবে, যেটা সরকারের পরিকল্পনারই অংশ। এই চারটি বিষয়কে বিবেচনায় নিয়ে যদি সরকার তার পরিকল্পনা ঘোষণা করে, তাহলে ২০২৯ সালের ভেতরে সরকারকে আর ভর্তুকি দিতে হবে না।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

বড় ধরনের ঝুঁকিতে যুক্তরাষ্ট্র, যেসব কারণ নেপথ্যে

বড় ধরনের ঝুঁকিতে যুক্তরাষ্ট্র, যেসব কারণ নেপথ্যে

ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের ভিডিও ভাইরাল, অতঃপর যা বললেন ওসি

ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের ভিডিও ভাইরাল, অতঃপর যা বললেন ওসি

সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড: ২ বাংলাদেশির বিষয়ে ‘গোপনীয়’ নথিতে যা আছে

সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড: ২ বাংলাদেশির বিষয়ে ‘গোপনীয়’ নথিতে যা আছে

সরকার ইচ্ছা করে আওয়ামী লীগকে ঢোকার পথ করে দিচ্ছে

মিয়া গোলাম পরওয়ার সরকার ইচ্ছা করে আওয়ামী লীগকে ঢোকার পথ করে দিচ্ছে

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App