সেই ছাত্রদল নেতার মরদেহ নিয়ে থানা ঘেরাও
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৫০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
রংপুরের পীরগাছা থেকে এক কিশোরীকে উদ্ধারে গিয়ে সাভার থানা ছাত্রদলের এক নেতার মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পুলিশের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে লাশ নিয়ে পীরগাছা থানার সামনে বিক্ষোভ করেছেন নিহতের স্বজনেরা।
শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ৮টার দিকে পীরগাছা থানার সামনে নিহতের লাশ রেখে সড়ক অবরোধ করেন বিক্ষুব্ধ স্বজনেরা। পরে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
নিহত মনোয়ারুল বকসি (৩০) সাভার থানা ছাত্রদলের সহসভাপতি ছিলেন। তিনি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের দক্ষিণ হাতীবান্ধা গ্রামের জাফর বকসির ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ জুলাই পীরগাছা উপজেলার কৈকুড়ি ইউনিয়নের মোংলাকুটি গ্রাম থেকে মিমি আক্তার (১৫) নামে এক কিশোরী নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় তার বাবা পীরগাছা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
আরও পড়ুন: চিঠির মাধ্যমে বিএনপি নেতাকে হত্যার হুমকি
পরে প্রযুক্তির সহায়তায় কিশোরীর অবস্থান শনাক্ত করা হয়। শুক্রবার পীরগাছা থানা পুলিশ ও সাভার থানা পুলিশের যৌথ সহযোগিতায় ঢাকার সাভারে বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) স্টাফ কোয়ার্টারে অভিযান চালানো হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযান চলাকালে ভবনের ছাদ থেকে কিছু একটা নিচে পড়ে যাওয়ার শব্দ শোনা যায়। পরে সেখানে গিয়ে মনোয়ারুল বকসিকে নিচে পড়ে থাকতে দেখা যায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
তবে নিহতের স্বজনেরা এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছেন। তাদের ভাষ্য, নিখোঁজ কিশোরী মিমির সঙ্গে মনোয়ারুলের ভাগনে শাহরিয়ার কবির সৌমিকের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তাঁরা স্বেচ্ছায় বিয়ে করে সাভারে অবস্থান করছিলেন।
স্বজনদের অভিযোগ, কিশোরীকে উদ্ধারে অভিযানের সময় পুলিশের সঙ্গে মিমির বাবা ও আরও একজন ব্যক্তি পুলিশের পোশাক পরে সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তাদের দাবি, ওই ব্যক্তিরাই মনোয়ারুলকে হত্যা করে ছাদ থেকে ফেলে দিয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে শনিবার সকালে পীরগাছা থানার সামনে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে নিহতের স্বজনেরা লাশ নিয়ে থানার সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন।
পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক বলেন, নিহতের স্বজনদের মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মামলা ও তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে। তিনি বলেন, ‘এই ঘটনায় পুলিশ সদস্যদের কোনো ধরনের অবহেলা বা সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
