তিন টন বোমার শক্তি নিয়ে চাঁদে আঘাত হানছে রকেট, প্রভাব পড়বে কি পৃথিবীতে
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৪০ পিএম
ফাইল ছবি
মানুষের তৈরি প্রায় পাঁচতলা ভবনের সমান একটি পরিত্যক্ত রকেটের অংশ ঘণ্টায় প্রায় ৫ হাজার ৪০০ মাইল গতিতে চাঁদের পৃষ্ঠে আছড়ে পড়তে যাচ্ছে।
গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (৫ আগস্ট) সংঘটিত হতে যাওয়া এই আঘাতের শক্তি প্রায় তিন টন টিএনটি বিস্ফোরণের সমতুল্য হবে।
স্পেসএক্সের ফ্যালকন ৯ রকেটের ওপরের অংশটি একটি চন্দ্রযান উৎক্ষেপণের পর এক বছরেরও বেশি সময় মহাকাশে কক্ষপথে ঘুরছিল। পরে চাঁদের অভিকর্ষজ বলের প্রভাবে সেটি ধীরে ধীরে চাঁদের দিকে ধাবিত হয়। বিজ্ঞানীদের ধারণা, রকেটের অংশটি চাঁদের আলোকিত অংশে অবস্থিত আইন্স্টাইন গহ্বরের কাছাকাছি আঘাত হানবে। এর ফলে প্রায় ২৭ মিটার ব্যাসের এবং প্রায় ৫ মিটার গভীর একটি নতুন গহ্বর সৃষ্টি হতে পারে।
আরো পড়ুন: চীনা বিজ্ঞানীদের মহাকাশ গবেষণায় নতুন দিগন্ত
টেক্সাস ইউনিভার্সিটির গবেষক উইলিয়াম জো বলেন, এই সংঘর্ষের ফলে সৃষ্ট ধুলা ও ধ্বংসাবশেষের মেঘ চাঁদের পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭৫ থেকে ১০০ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে। অন্যদিকে, নিউ মেক্সিকোর লস আলামোস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির গবেষক বেঞ্জামিন ফার্নান্দোর মতে, সংঘর্ষের সময় সৃষ্ট আলোর ঝলকানি এক সেকেন্ডেরও কম স্থায়ী হলেও টেলিস্কোপের মাধ্যমে পৃথিবী ও মহাকাশ থেকে কয়েক মিনিট পর্যন্ত উৎক্ষিপ্ত ধ্বংসাবশেষ পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হতে পারে।
আরো পড়ুন: পৃথিবীতে আবারো একটি গণবিলুপ্তি ঘটবে
চাঁদে বায়ুমণ্ডল না থাকায় এই সংঘর্ষের কারণে পৃথিবী কিংবা ভবিষ্যতের মানব অভিযানের জন্য কোনো ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা নেই। ঘটনার আগে ও পরে চাঁদের পৃষ্ঠের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণে নাসা তাদের ‘লুনার রিকনাইস্যান্স অরবিটার’ ব্যবহার করে ছবি তুলবে। তবে এই ঘটনাটি আবারও মহাকাশে ক্রমবর্ধমান বর্জ্য এবং সেগুলোর কার্যকর ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি সামনে এনে দিয়েছে।
