×

সোশ্যাল মিডিয়া

জিন্নাহকে শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় স্মরণ হাদির ইনকিলাব মঞ্চের, সমালোচনার ঝড়

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:২৪ পিএম

জিন্নাহকে শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় স্মরণ হাদির ইনকিলাব মঞ্চের, সমালোচনার ঝড়

ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা ও দেশটির প্রথম গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহকে ‘শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায়’ স্মরণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়ায় সমালোচনার মুখে পড়েছে শহীদ শরীফ ওসমান হাদির প্রতিষ্ঠিত সংগঠন ‘ইনকিলাব মঞ্চ’। জিন্নাহর ৭৮তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সংগঠনটির এমন পোস্ট ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা।

গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে ইনকিলাব মঞ্চের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে জিন্নাহর একটি সাদাকালো প্রতিকৃতি প্রকাশ করে তাকে স্মরণ করা হয়। পোস্টে তার জন্ম ও মৃত্যুর তারিখ হিসেবে ২৫ ডিসেম্বর ১৮৭৬ এবং ১১ সেপ্টেম্বর ১৯৪৮ উল্লেখ করা হয়।

পোস্টের সঙ্গে দেওয়া আনুষ্ঠানিক বার্তায় বলা হয়, ‘উপমহাদেশের অন্যতম রাজনীতিবিদ, দ্বিজাতিতত্ত্বের প্রবক্তা, পাকিস্তান রাষ্ট্রের অন্যতম স্বপ্নদ্রষ্টা ও পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর মৃত্যুবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ।’ একই সঙ্গে তাকে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের একজন প্রভাবশালী নেতা হিসেবেও উল্লেখ করা হয়।

ইনকিলাব মঞ্চের এই পোস্ট প্রকাশের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। সাধারণ ব্যবহারকারী, অধিকারকর্মী ও রাজনৈতিক সচেতন মহলের অনেকে পোস্টটির সমালোচনা করেছেন। সমালোচকদের একটি অংশের দাবি, বাঙালির ভাষা, সংস্কৃতি ও স্বাধিকার আন্দোলনের ইতিহাসের সঙ্গে জিন্নাহর রাজনৈতিক অবস্থানের যে বিরোধ রয়েছে, তা বিবেচনায় না নিয়ে তাকে ‘শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায়’ স্মরণ করা সংগঠনটির রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

আরও পড়ুন: আদানির গোড্ডা কেন্দ্রের বন্ধ ইউনিট থেকে ফের বিদ্যুৎ সরবরাহ

পাকিস্তানের সরকারি নথি অনুযায়ী, মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ১৮৭৬ সালের ২৫ ডিসেম্বর করাচিতে জন্মগ্রহণ করেন। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার এক বছরের মধ্যে, ১৯৪৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। নতুন রাষ্ট্রটির প্রথম গভর্নর জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি ১৯৪৮ সালের মার্চে ঢাকা সফর করেন।

সফরকালে রেসকোর্স ময়দান, বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে দেওয়া বক্তব্যে জিন্নাহ পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দুর পক্ষে অবস্থান নেন। তার বক্তব্যের বিরোধিতা করে সে সময় উপস্থিত ছাত্ররা ‘নো, নো’ বলে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন।

জিন্নাহর ওই অবস্থান তৎকালীন পূর্ব বাংলার সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। ভাষার অধিকার নিয়ে যে আন্দোলন পরবর্তী সময়ে আরও বিস্তৃত হয়, তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৫২ সালে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলন সংঘটিত হয়।

পোস্ট ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক

ইনকিলাব মঞ্চের পোস্টকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে জিন্নাহর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার এবং তৎকালীন পূর্ব বাংলার সঙ্গে পাকিস্তানি রাষ্ট্রব্যবস্থার সম্পর্ক।

সমালোচকদের ভাষ্য, দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত পাকিস্তান রাষ্ট্রে পূর্ব বাংলার জনগণ দীর্ঘ সময় রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বৈষম্যের শিকার হয়েছিল। ভাষার অধিকার থেকে শুরু করে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে বাঙালির আন্দোলন ধীরে ধীরে স্বাধিকার আন্দোলনে রূপ নেয়।

তাদের মতে, এসব ঐতিহাসিক বাস্তবতার কারণে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে জিন্নাহকে প্রশংসাসূচক ভাষায় স্মরণ করার বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই বিতর্ক তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার আন্দোলন এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে বিষয়টি সাংঘর্ষিক কি না, তা নিয়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

সমালোচকরা আরও বলছেন, পাকিস্তানি রাষ্ট্রব্যবস্থার বৈষম্য ও দমন-পীড়নের ধারাবাহিকতার চূড়ান্ত পরিণতি ছিল ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। ফলে স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে জিন্নাহর রাজনৈতিক ভূমিকা কীভাবে মূল্যায়ন করা হবে, সেটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক আলোচনায় একটি সংবেদনশীল বিষয়।

অন্যদিকে, জিন্নাহকে স্মরণ করার ক্ষেত্রে তার ব্রিটিশবিরোধী রাজনৈতিক ভূমিকা এবং উপমহাদেশের রাজনীতিতে তার ঐতিহাসিক প্রভাবকে আলাদাভাবে বিবেচনা করা যায়—এমন মতও রয়েছে। তবে ইনকিলাব মঞ্চের পোস্টে ব্যবহৃত ‘শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা’ শব্দবন্ধই মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

সব মিলিয়ে, জিন্নাহর মৃত্যুবার্ষিকীতে ইনকিলাব মঞ্চের দেওয়া এই পোস্ট বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক চেতনার সঙ্গে সংগঠনটির অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে পক্ষে-বিপক্ষে নানা মত ও তর্ক।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগ করতে চায় শেভরন

বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগ করতে চায় শেভরন

সাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ট্রাইব্যুনালের বিচার বাধাগ্রস্ত করা যাবে না

চিফ প্রসিকিউটর সাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ট্রাইব্যুনালের বিচার বাধাগ্রস্ত করা যাবে না

অপরাধীদের প্রযুক্তির অপব্যবহার পুলিশের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ

আইজিপি অপরাধীদের প্রযুক্তির অপব্যবহার পুলিশের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ

১২ হাজার প্রবাসীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠাল সৌদি

১২ হাজার প্রবাসীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠাল সৌদি

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App