মাদকসহ যুবক আটকের ভিডিও ভাইরাল, মামলায় আসামি নেই
মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৩৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
হবিগঞ্জের মাধবপুরে মোটরসাইকেলযোগে মাদক পাচারের সময় এক যুবক আটক হওয়ার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও, পরবর্তীতে থানায় আসামাবিহীন মামলা দায়ের নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে চরম ক্ষোভ ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৯ জুলাই উপজেলার শাহজাহানপুর ইউনিয়নের বনগাঁও গ্রাম দিয়ে মোটরসাইকেলে মাদক (ইস্কাপ) পাচারের সময় স্থানীয়দের সহায়তায় বনগাঁও গ্রামের রায়হান মিয়ার ছেলে আল মামুন নামে এক যুবককে আটক করা হয়। ঘটনার সময় আশরাফ মিয়া নামে এক ব্যক্তি পুরো বিষয়টি ভিডিও করেন, যা মুহূর্তের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে।
ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, আটককৃত যুবকের মোটরসাইকেলের পাশে একটি ব্যাগে বিপুল পরিমাণ নেশাজাতীয় দ্রব্য (ইস্কাপ) রয়েছে এবং কিছু বোতল বাইরে ছড়িয়ে পড়ে আছে। এ সময় পুলিশ কনস্টেবল মোস্তাফিজুর রহমান ওই যুবককে ধরে রেখেছেন এবং পাশেই এক মধ্যবয়সী ব্যক্তি মোটরসাইকেলটি সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। পরে খবর পেয়ে তেলিয়াপাড়া ফাঁড়ির পুলিশ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে মোটরসাইকেল ও মাদক উদ্ধার করে।
আরও পড়ুন: দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকাসহ বিভিন্ন দাবিতে চা শ্রমিকদের বিক্ষোভ
তবে রহস্যের সৃষ্টি হয় মামলা দায়েরের পর। ঘটনার পর ফাঁড়ির এএসআই সহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করলেও তাতে কোনো আসামির নাম উল্লেখ করা হয়নি। বিষয়টি জানাজানি হতেই নেটিজেন ও এলাকাবাসীর মনে প্রশ্ন জাগে—কনস্টেবল মোস্তাফিজুর রহমান যে যুবককে সরাসরি হাতেনাতে আটক করেছিলেন, পরবর্তীতে তাকে কেন এবং কীভাবে ছেড়ে দেওয়া হলো?
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, ঘটনাস্থলে ব্যাগে প্রায় ১০০ বোতল ইস্কাপ ছিল। কিন্তু মামলায় উদ্ধার দেখানো হয়েছে মাত্র ৫০ বোতল।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে কনস্টেবল মোস্তাফিজুর রহমান জানান, আমি ও আমার এক বন্ধু বাগানে ঘুরতে গিয়েছিলাম। হঠাৎ একটি ছেলে আমাদের দেখে মোটরসাইকেল নিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে তাকে ধরে ফেলি। তখন তার পাশে থাকা ব্যাগে মাদক দেখতে পাই। বিষয়টি তাৎক্ষণিক ফাঁড়িতে জানালে টিম এসে মোটরসাইকেল ও মাদক উদ্ধার করে। তবে এরপর কী হয়েছে, সে বিষয়ে আমি কিছু জানি না।
অন্যদিকে মামলার বাদী তেলিয়াপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই সহিদুল ইসলাম দাবি করেন, আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় মাদক ও মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছি। পুলিশ সেখানে পৌঁছানোর পর কাউকে পাওয়া যায়নি।
একজন পুলিশ কনস্টেবল ভিডিওতে আসামী ধরে রাখার পর ফাঁড়ির দল গিয়ে তাকে ‘পরিত্যক্ত’ হিসেবে দেখানোয় পুরো ঘটনাটি নিয়ে ধোঁয়াশা ও জনমনে গভীর অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উন্মোচন ও দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
