পর্যটনকেন্দ্র থেকে বালু তুলে ঘেরের বাঁধ, অভিযোগ ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে
কামরুল হাসান রুবেল, রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী)
প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৬:০৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার সম্ভাবনাময় পর্যটনকেন্দ্র চর হেয়ার থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে মাছের ঘেরের বাঁধ নির্মাণ ও বিক্রির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউপি সদস্য সাইদুল প্যাদার বিরুদ্ধে।
স্থানীয়ভাবে কলাগাছিয়ার চর নামে পরিচিত এ এলাকায় রয়েছে নিরিবিলি সমুদ্রসৈকত ও মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত পর্যটক এখানে ঘুরতে আসেন। পর্যটনের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি কয়েকটি বেসরকারি সংস্থাও চর হেয়ার নিয়ে কাজ করছে।
সাম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হলে তাতে দেখা যায়, চর হেয়ারের সমুদ্রসৈকতের বালুচর থেকে একটি ট্রলারে বালু তোলা হচ্ছে। ট্রলারের স্টাফ মঞ্জু বিশ্বাসসহ কয়েকজন শ্রমিক বালু উত্তোলন করছেন। একটি ট্রলারে বালু তোলা শেষ হওয়ার পর পাশেই আরেকটি ট্রলার রাখা হয় বালু উত্তোলনের জন্য।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও বোয়িং বিমান কিনবে বাংলাদেশ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাইদুল প্যাদা রাঙ্গাবালী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য। স্থানীয়দের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি ইউপি সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে নিরীহ মানুষকে মারধর ও হয়রানিসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে সাইদুল প্যাদার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সন্ধ্যায় এসে আপনার সঙ্গে দেখা করব মোবাইলে সবকিছু বলা যাবে নাহ। পরে তার বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, ৫ আগস্টের পর ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’-এ রাঙ্গাবালী থানা-পুলিশ সাইদুল প্যাদাকে আটক করে। তবে কয়েক ঘণ্টা পর তিনি মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে মুক্তি পান বলে দাবি স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর।
বালু উত্তোলনের বিষয়ে ট্রলার স্টাফ মঞ্জু বিশ্বাস বলেন, সাইদুল মেম্বারের মাছের ঘেরে বাঁধ নির্মাণের জন্য আমরা বালু নিয়েছি। যে জায়গা থেকে বালু নেওয়া হয়েছে, সেটি এখন ভরাট হয়ে গেছে। বালু নেওয়ায় কোনো সমস্যা হয়নি। পরে একই বিষয়ে আবার জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাছের ঘেরের বাঁধ নয়, গরুর ঘর নির্মাণের জন্য বালু নেওয়া হয়েছে। তবে বালু বিক্রির অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।
চরমোন্তাজ বিট কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন বলেন, আমি সাইদুল মেম্বার নামে কাউকে চিনতাম না। পরে তার ফোন নম্বর সংগ্রহ করে কথা বলেছি। তিনি বালু নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এ বিষয়ে রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান বলেন, আমি ছুটিতে আছি। ২৫ তারিখ অফিস করব। কোনো বিষয় সম্পর্কে না জেনে আমি কিছু বলতে পারি না। আমি বিষয়টি জেনে পরে বলব।
