‘ভুতুড়ে’ বাড়িতে এক রাত থাকলে ৬৬ হাজার টাকা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ছবি: সংগৃহীত
অন্ধকার রাতে কোনো পরিত্যক্ত বা ‘অভিশপ্ত’ বাড়িতে একা থাকার কথা শুনলে অনেকেই ভয় পান। কিন্তু কোনো ভুতুড়ে বাড়িতে এক রাত কাটানোর বিনিময়ে যদি আপনাকে টাকা দেয়া হয়? জাপানের আবাসন বাজারে ঠিক এমন এক অদ্ভুত ও রোমাঞ্চকর পেশার দেখা মিলছে। এই বিচিত্র পেশার মানুষদের বলা হচ্ছে ‘পেইড হন্টেড হাউস সিটার’। সূত্র : এনডিটিভি।
এই কাজে সাহসী ব্যক্তিদের মোটা অঙ্কের পারিশ্রমিক দিয়ে তথাকথিত ‘ভৌতিক’ বাড়িগুলোতে এক রাত থাকার জন্য নিয়োগ করা হচ্ছে। মাত্র এক রাত অবস্থানের বিনিময়ে কর্মীরা পাচ্ছেন ৮৮ হাজার ইয়েন, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৬৬ হাজার টাকার বেশি।
মূলত কোনো বাড়িতে খুন, আত্মহত্যা, অগ্নিকাণ্ড কিংবা একাকী কোনো বয়স্ক মানুষের রহস্যজনক মৃত্যু হলে সেটিকে জাপানি ভাষায় ‘জিকো বুক্কেন’ বা কলঙ্কিত সম্পত্তি বলা হয়।
জাপানের আইন অনুযায়ী, আবাসন এজেন্টদের জন্য ক্রেতা বা ভাড়াটেদের কাছে বাড়ির অতীত ইতিহাস প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক। ফলে অস্বাভাবিক বা অতিপ্রাকৃতিক কোনো ঘটনা ঘটে থাকলে ভয়ে অনেকেই এসব বাড়িতে পা রাখতে চান না। চমৎকার চমৎকার সব বাড়ি মাসের পর মাস খালি পড়ে থাকে। বাড়ির মালিক ও আবাসন ব্যবসায়ীরা এই লোকসান কাটাতে অভিনব এই উপায় খুঁজে বের করেছেন। তারা সাহসী ব্যক্তিদের ৮৮ হাজার ইয়েন (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৬৬ হাজার টাকার বেশি) দিয়ে একেকটি রাত কাটাতে ভাড়া করেন। অর্থের বিনিময়ে যারা রাত কাটাতে আসবেন, তাদের কিন্তু ঘুমিয়ে রাত কাটানোর সুযোগ নেই, বরং সারা রাত ক্যামেরা ও বিভিন্ন অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি নিয়ে তাদের বাড়িটি পর্যবেক্ষণ করতে হবে। রাত শেষে যদি কোনো অস্বাভাবিক কিছু না ঘটে, তবে তারা বাড়িটিকে ‘ভূতমুক্ত’ বলে একটি প্রশংসাপত্র বা সার্টিফিকেট দেবেন।
এমনকি কোনো কোনো কোম্পানি গ্যারান্টিও দেয়- তাদের সার্টিফিকেট দেয়ার পর যদি কেউ সেখানে সত্যিই ভূতের দেখা পায়, তবে ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে।
জাপানে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা দ্রুতগতিতে বাড়ছে, উদ্বেগজনক হারে কমে গেছে শিশু জন্মহার। এছাড়া পেশাগত কারণে বা অধিক নাগরিক সুবিধার আশায় বহু মানুষ গ্রাম থেকে শহরে চলে যাচ্ছে। এর ফলে জাপানে অনেক বাড়ি এমনিতেই খালি পড়ে আছে। তার ওপর কোনো বাড়ি যদি ‘অভিশপ্ত’ বলে পরিচিতি পায়, তবে সেসব বাড়ি বিক্রি করতে সাধারণত ২০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যছাড় দিতে হয়।
