নিত্যপণ্যের বাজারে উত্তাপ
সবজির দামে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস
প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সবচেয়ে মৌলিক চাহিদার একটি হলো আহার। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে গিয়ে সাধারণ ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের চোখ ছানাবড়া হওয়ার উপক্রম। চাল, ডাল, তেলের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে এবার পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শাকসবজির দাম। নিত্যপণ্যের বাজারে যেন আগুন লেগেছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, কাঁচাবাজারে সবজির দাম এখন সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বা নাগালের একেবারেই বাইরে চলে গেছে।
বর্তমানে বাজারে কোনো সাধারণ সবজিই কেজিপ্রতি ৭০ থেকে ৮০ টাকার নিচে পাওয়া কষ্টকর। বেগুন, করলা, ঢ্যাঁড়শ কিংবা ঝিঙার মতো নিত্যদিনের সবজিগুলোর দামও শতকের ঘর স্পর্শ করছে বা তার কাছাকাছি অবস্থান করছে। এমনকি তুলনামূলক সস্তা হিসেবে পরিচিত আলু ও পেঁয়াজের দামও সাধারণ মানুষকে ভোগাচ্ছে। পুষ্টির চাহিদা মেটাতে যেখানে মাছ-মাংসের ছোঁয়া পাওয়া এমনিতেই দায়, সেখানে সবজির এই লাগামহীন দাম নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য দৈনিক খাদ্যতালিকায় বড় ধরনের কাটছাঁট করতে বাধ্য করছে।
সবজির দাম বাড়ার পেছনে প্রতিবছরই কিছু গতানুগতিক অজুহাত সামনে আনা হয়- কখনো বৈরী আবহাওয়া, বৃষ্টি বা বন্যা, আবার কখনো পরিবহন খরচ বৃদ্ধি। কিন্তু শুধু মৌসুমি অজুহাত দিয়ে এই বিশাল মূল্যের ব্যবধান ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। মূল সমস্যা লুকিয়ে আছে বাজারের অসাধু সিন্ডিকেট, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য এবং পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার চরম দুর্বলতার মধ্যে। কৃত্রিম সংকট তৈরি করে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী যে মুনাফা লুটছে, তার খেসারত দিতে হচ্ছে খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষকে। অথচ খেতের কৃষক তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিতই থেকে যাচ্ছেন। কৃষক যে দামে পণ্য বিক্রি করছেন, খুচরা বাজারে তা পৌঁছাতে পৌঁছাতে দাম বেড়ে দ্বিগুণ বা তিনগুণ হয়ে যাচ্ছে।
সবজির বাজারকে নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে শুধু লোকদেখানো অভিযান চালিয়ে ক্ষান্ত হলে চলবে না। প্রয়োজন একটি দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা।
কৃষকের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ : কৃষক যাতে সরাসরি খুচরা বাজারে বা পাইকারি বাজারে পণ্য বিক্রি করতে পারেন, সে ধরনের কৃষকমুখী বাজারব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
মধ্যস্বত্বভোগীদের লাগাম টানা : পরিবহন খাতের চাঁদাবাজি এবং সিন্ডিকেটের কারসাজি কঠোর হস্তে দমন করতে হবে।
নিয়মিত তদারকি : জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে নিয়মিত ও দৃশ্যমান অভিযান জোরদার করতে হবে।
সবজি বেঁচে থাকার মৌলিক অনুষঙ্গ। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের পাতে সামান্য সবজি দিয়ে ভাত খাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম দায়িত্ব।
