×

প্রথম পাতা

ভয়ঙ্কর পথে ডেঙ্গুর মোড়

Icon

সেবিকা দেবনাথ

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ভয়ঙ্কর পথে ডেঙ্গুর মোড়

এরই মধ্যে ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে মোড় নিতে শুরু করেছে ডেঙ্গু। ঢাকার বাইরে বাড়তে শুরু করেছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। তবে হটস্পট হিসেবে ইতোমধ্যে চিহ্নিত এলাকাগুলোতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তেমন কোনো তোড়জোড় দেখা যাচ্ছে না। গত বছর সারাদেশের মধ্যে বরগুনা ছিল ডেঙ্গু আক্রান্তের হটস্পট। দেশের মোট আক্রান্তের প্রায় ১০ শতাংশই ছিল এই জেলায়। এ বছরও এই জেলা হটস্পট হিসেবে বিবেচিত হলেও মশার উৎপত্তিস্থল নির্মূলে চারপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার উদ্যোগ প্রায় নেই বললেই চলে।

এদিকে গতকাল সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। যা চলতি বছরে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও খ্যাতনামা কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার মনে করছেন, আগস্টের প্রথম সপ্তাহে ডেঙ্গুর বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব দেখা যাবে। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পিক থাকবে। এ বছর রাজধানীর চেয়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি দেখা যাবে জেলা শহরে। সরকারি তদারকি ও মূল্যায়নের ঘাটতির অভাবে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি জানান, মাঠপর্যায়ে মশার ঘনত্ব, লার্ভার উপস্থিতি, বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা এবং ডেঙ্গু রোগী- এসব তথ্য একত্রে একটি আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম নিয়ে কাজ করছেন তিনি ও তার দল। এই মডেল অনুযায়ী, আগস্টের প্রথম সপ্তাহে ডেঙ্গুর বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব দেখা যেতে পারে। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই প্রবণতা পিকে থাকবে। অক্টোবরে কিছুটা কমতে পারে। পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে তা দীর্ঘায়িতও হতে পারে।

জাতীয়ভাবে গতবারের তুলনায় এ বছর রোগী বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে জানিয়ে এই বিশেষজ্ঞ বলেন, এবার রাজধানী নয়, ডেঙ্গুর মূল প্রকোপ হবে ঢাকার বাইরে। আমরা ইতোমধ্যে দেখছি, বরিশাল, বরগুনা, পটুয়াখালী ও পিরোজপুরে ঝুঁকি বেশি। একইভাবে কক্সবাজার এবং চট্টগ্রামও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। সংক্রামক রোগের বিস্তার একক কোনো কারণে হয় না। এখানে ‘এপিডেমিওলজিক্যাল ট্রায়াঙ্গেল’ কাজ করে। এর ৩টি প্রধান উপাদান হলো- মানুষ (হোস্ট), মশা (ভেক্টর) এবং পরিবেশ। এর সঙ্গে ভাইরাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। উপাদানগুলো অনুকূল অবস্থায় একসঙ্গে উপস্থিত থাকলে রোগ দ্রুত ছড়ায়। জেলা শহরে এখন এসব উপাদানের সমন্বয় বেশি পাওয়া যাচ্ছে। বিপরীতে রাজধানীতে ডেঙ্গুর ইতিহাস দীর্ঘ। ২০০০ সালের পর থেকে বহু মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। ফলে জনসংখ্যার একটি বড় অংশের শরীরে কিছু মাত্রায় রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়েছে। অনেক জেলা শহরে আক্রান্ত কমের কারণে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়নি। ফলে সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি। সাধারণত ১৬ থেকে ৪০ বছর বয়সী তরুণ ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়। পুরুষদের আক্রান্ত হওয়ার হারও বেশি। এর প্রধান কারণ চলাফেরা। যারা বেশি বাইরে যান, কর্মস্থল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করে, তাদের সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি থাকে।

বছরের একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু

গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। যা চলতি বছরের মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর সংখ্যা। তাদের মধ্যে ২ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, ১ জন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার, ১ জন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার এবং ১ জন ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ১২৪ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরে বরিশাল বিভাগে ৩৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮ জন, ঢাকা বিভাগে ২ জন, খুলনা বিভাগে ১৪ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ২ জন এবং রাজশাহী বিভাগে ৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া রাজধানী ঢাকার উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৬ জন এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৭ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে ১০০ জন ডেঙ্গু রোগী ছাড়পত্র পেয়েছেন।

অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর পহেলা জানুয়ারি থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। যার মধ্যে ১৮ জুন থেকে ২৯ জুনের মধ্যেই একটি বড় অংশ প্রাণ হারিয়েছেন। ৫ হাজার ৯২৪ ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আর সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৫ হাজার ৪৫৫ জন। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে মাসের শেষ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল। জানুয়ারিতে ২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২ জন, মে মাসে ১ জনের মৃত্যু হয়।

কোন সালে কত রোগী ও মৃত্যু

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, ২০১৯ সালে দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ ছিল। সেই বছর এক লাখ এক হাজার ৩৭৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়। ২০২০ সালে করোনার কারণে ডেঙ্গুর দিকে নজর ছিল না। ২০২১ সালে হাসপাতালে ভর্তি হয় ২৮ হাজার ৪২৯ জন, মৃত্যু হয় ১০৫ জনের। ২০২২ সালে ৬২ হাজার ৩৮২ জন ভর্তি হয়। মৃত্যু হয় ২৮১ জনের। ২০২৩ সালে ডেঙ্গু পরিস্থিত আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করে। এ বছরের মতো আগে কখনোই এত আক্রান্ত বা মৃত্যু হয়নি। ওই বছর হাসপাতালে ভর্তি হয় ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন। মৃত্যু হয় ১ হাজার ৭০৫ জনের। ২০২৪ সালে ২০২৩ সালের তুলনায় হাসপাতালে ভর্তি এবং মৃত্যু কমে আসে। তবে মৃত্যুর দিক থেকে তা ২০১৯, ২০২১ ও ২০২২ এই ৩ বছরের চেয়েও বেশি। ২০২৪ সালে হাসপাতালে ভর্তি হয় ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন। মৃত্যু হয় ৫৭৫ জনের। ২০২৫ সালে ভর্তি হয় ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন। মৃত্যু হয় ৪১৩ জনের।

বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন

কার্যকর সমাধান প্রসঙ্গে ড. কবিরুল বাশার বলেন, আগস্টের সম্ভাব্য ঢেউ মোকাবিলায় এখনই প্রস্তুতি নিতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ জেলার হাসপাতালে চিকিৎসাসামগ্রী, প্রশিক্ষিত চিকিৎসক ও নার্স প্রস্তুত রাখতে হবে। নইলে এবার ডেঙ্গুর সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হতে পারে ঢাকার বাইরের মানুষকে। প্রথমত, কমিউনিটিকে সম্পৃক্ত করতে হবে। শুধু সচেতনতা নয়, মানুষকে দায়িত্ব নিতে হবে। দ্বিতীয়ত, সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যভিত্তিক মশা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। তৃতীয়ত, জাতীয় পর্যায়ে একটি ‘ভেক্টর কন্ট্রোল সেল’ গঠন প্রয়োজন, যা সারাদেশের ডেঙ্গু ও মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম সমন্বয় করবে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী মনে করেন, এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূলে কতগুলো সহজ-সরল কাজ করা দরকার। যেমন রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত একসঙ্গে ২/৩ দিন মশক নিধন অভিযান পরিচালনা করা। প্রতিবছর দুবার এই অভিযান পরিচালিত হবে। এই অভিযানের কাজ হবে- এডিস ইজিপ্টাই ও এডিস অ্যালবোপিকটাস মশার বাসস্থান ও ডিম পাড়ার স্থান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা; সারাদেশে একসঙ্গে মশা ও শূককীট মারার কার্যকর ওষুধ ছিটানো। বড় শহর, মফস্বল শহর, শহরতলি এবং গ্রামাঞ্চলের মাঠ পর্যায়ে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে কার্যকর ওষুধ নির্বাচন করা; স্থানীয় সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্কুল, কলেজের শিক্ষার্থী, আনসার ভিডিপির সদস্য, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, এনজিওগুলোর কর্মকর্তা-কর্মীসহ সমাজের সবধরনের মানুষকে যুক্ত করে মশক নিধন কার্যক্রম চালানো; বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক অনুমোদিত ডেঙ্গুর টিকা দান শুরু করা এবং ডেঙ্গুর প্রকোপ শুরু হওয়ার পরে নয়, সারাবছর ধরে মশা মারা এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধী কার্যক্রম জারি রাখা।

অন্তত ২৭ জেলায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি জটিল হওয়ার আশঙ্কা

গত বছর ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়েছিল বরগুনায়, এবার সে রকম হতে পারে বাগেরহাটেও। এছাড়া গত বছর যে ৩২ জেলায় ৫০০ থেকে ১০ হাজারের কাছে রোগী ছিল, তার মধ্যে ১১ জেলায় গতবারের তুলনায় এবার এখন পর্যন্ত রোগী বেশি। তবে ৩২ জেলার মধ্যে ৯ জেলায় ভর্তি রোগী কমলেও তা উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। তাতে সব মিলিয়ে এবার অন্তত ২৭ জেলায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত বছর দেশের ৩২ জেলায় ডেঙ্গু রোগী বেশি ছিল। এর মধ্যে ৮ জেলায় ডেঙ্গুর প্রকোপ ছিল ভয়াবহ; রোগী ছিল ২ হাজার থেকে ১০ হাজারের মধ্যে। এবার নতুন করে ৭ জেলায় তুলনামূলকভাবে বেশি রোগী ভর্তি হচ্ছে; সবচেয়ে বেশি ভর্তি হচ্ছে বাগেরহাটে। গত বছর বরগুনায় বেশি হলেও এবার বাগেরহাটে রোগী বেশি হতে পারে বলে, বলছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। গত বছর যে ৩২ জেলায় ৫০০ থেকে ১০ হাজার মধ্যে রোগী ছিল সেগুলো হলো বরগুনা, গাজীপুর, চট্টগ্রাম, পটুয়াখালী, বরিশাল, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, মানিকগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, চাঁদপুর, পিরোজপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কক্সবাজার, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী, রাজশাহী, টাঙ্গাইল, যশোর, মাদারীপুর, খুলনা, সিরাজগঞ্জ, ফেনী, ঢাকা, ভোলা, ঝালকাঠি, বান্দরবান, জামালপুর, বগুড়া, কুষ্টিয়া, পাবনা, ল²ীপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া। আগের ৩২ জেলার মধ্যে ১১ জেলায় এবার আরো বেশি রোগী বেড়েছে। সেগুলো হলো- ময়মনসিংহ, পিরোজপুর, নরসিংদী, যশোর, খুলনা, সিরাজগঞ্জ, ফেনী, ঝালকাঠি, বান্দরবান, বগুড়া ও কুষ্টিয়া।

৭টি জেলায় রোগী বাড়ছে। বাগেরহাট ছাড়া সেই জেলাগুলো হলো- হবিগঞ্জ, লালমনিরহাট, শেরপুর, মাগুরা, নওগাঁ, নাটোর। এছাড়া গতবারের চেয়ে বরগুনা, চট্টগ্রাম, পুটয়াখালী; বরিশাল, চাঁদপুর গাজীপুর, কুমিল্লায়, কক্সবাজার, মাদারীপুরে ডেঙ্গু রোগী কমলেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে রাজউকের ১১ পরামর্শ

ঢাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপ ও এডিস মশার বিস্তার রোধে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) একটি জরুরি সচেতনতামূলক বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। রাজউকের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এই বিজ্ঞপ্তিতে নাগরিক ও ভবন মালিকদের জন্য ১১টি সুনির্দিষ্ট পরামর্শ ও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে ভবনের চারপাশ পরিষ্কার রাখা থেকে শুরু করে নির্মাণাধীন ভবনে পানি জমে থাকা বন্ধ করতে কড়া নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

রাজউকের দেয়া পরামর্শগুলো হলো- নিজের বাড়িঘর, বাগান এবং নির্মাণাধীন বা নির্মিত ভবনের চারপাশ সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। নির্মাণাধীন ভবনে কিউরিং করার সময় পানি জমিয়ে রাখা যাবে না। জমে থাকা পানি প্রতি ২ দিন পরপর অবশ্যই পরিবর্তন করতে হবে। সরকারি, বেসরকারি, মালিকানাধীন কিংবা ডেভেলপার কর্তৃক নির্মাণাধীন বা নির্মিত ভবনের আন্ডারগ্রাউন্ড (ভূ-গর্ভস্থ তল), ভবনের অভ্যন্তর, বারান্দা, উন্মুক্ত পানির হাউজ, ভেতরের খোলা ড্রেন এবং চারপাশ পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। নির্মাণাধীন ও নির্মিত উভয় ধরনের ভবনের দরজা এবং জানালায় মশা আটকানোর জন্য নেট বা জাল ব্যবহার করতে হবে। ফুলের টব, প্লাস্টিকের পাত্র, পরিত্যক্ত টায়ার, টিনের কৌটা, ডাবের খোসা, ভাঙা হাঁড়ি-পাতিল, বালতি কিংবা যেকোনো কনটেইনারে যেন কোনোভাবেই পানি জমে না থাকে, সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে। এসি ও ফ্রিজের পানি অপসারণ- সিপ্লট এসির ইনডোর ইউনিট এবং ফ্রিজের নিচে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার ও অপসারণ করতে হবে। ভবনের বা ইমারতের ভেতরে এবং আশপাশে যাতে কোনো ধরনের পানি জমে থাকতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। যে সব ডোবা, নালা বা নর্দমায় মাছ কিংবা অন্য কোনো জীবন্ত প্রাণী নেই, সেখানে নিয়মিত মশক নিধন ওষুধ ছিটিয়ে এডিস মশার লার্ভা ধ্বংস করতে হবে। ভবনের ছাদের ওভারহেড ট্যাংক এবং মাটির নিচের আন্ডারগ্রাউন্ড পানির রিজার্ভারের মুখ সবসময় শক্তভাবে ঢেকে রাখতে হবে। যে সব স্থানে এডিস মশা ডিম পাড়তে বা জন্মাতে পারে, সেসব জায়গায় কোনো অবস্থাতেই পানি জমতে দেয়া যাবে না। ঘরের ভেতরে ঝুলিয়ে রাখা জিনিসপত্র, আসবাবপত্রের নিচের অংশ এবং ঘরের অন্ধকার কোণগুলো নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

রাজউকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঢাকা শহরকে ডেঙ্গুমুক্ত রাখতে এবং এডিস মশার প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস করতে এই নির্দেশনাগুলো মেনে চলা প্রতিটি নগরবাসীর নাগরিক দায়িত্ব। নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

‘দেশের ১১ শতাংশ মানুষ আর্সেনিক ঝুঁকিতে’

‘দেশের ১১ শতাংশ মানুষ আর্সেনিক ঝুঁকিতে’

ফেনী জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আর নেই

ফেনী জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আর নেই

‘হাসিনার বক্তব্য প্রচার না করতে গণমাধ্যমকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবে সরকার’

‘হাসিনার বক্তব্য প্রচার না করতে গণমাধ্যমকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবে সরকার’

৪ দিনেই ১০০ কোটির ক্লাবে ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’

৪ দিনেই ১০০ কোটির ক্লাবে ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App