×

প্রথম পাতা

বাসাবাড়ি থেকে ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাসের জন্য হাহাকার

Icon

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

বাসাবাড়ি থেকে ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাসের জন্য হাহাকার

রাজধানীজুড়ে এখন গ্যাসের জন্য হাহাকার চলছে। বাসাবাড়ির পাশাপাশি ফিলিং স্টেশনগুলোতেও একই অবস্থা। ফলে গৃহিণী থেকে গাড়ি চালকদের ক্ষোভ ও অসন্তোষ চরমে পৌঁছেছে। তারা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর আগে এভাবেই কৃত্তিম সংকট তৈরি করা হয়েছিল। এখন আবার গ্যাসের সংকট সৃষ্টি করে গ্যাসের দাম বাড়ানোর পায়তারা করছে সরকার।

তবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, গ্যাসের সরবরাহ আগামী সপ্তাহে কিছুটা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। আর সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরো কিছুটা সময় লাগবে। আগামী সপ্তাহে ৫০ শতাংশ সরবরাহ শুরু হলে পরের সপ্তাহে শতভাগ সরবরাহ হবে।

বেশ কয়েক বছর ধরেই গ্যাস সংকট চলছে। এর মধ্যেও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শিল্প কারখানা ও পরিবহন সেক্টরের জন্য গ্যাস সরবরাহ করা হয়। কিন্তু গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলমান গ্যাস সংকটে ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। অগ্রাধিকার প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোও এখন গ্যাসের অভাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষোভ দেখা যায়। রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানের সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে। ঢাকার কোথাও কোথাও কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে কিছু সময়ের জন্য গ্যাস দেয়া হচ্ছে। এই ব্যবস্থা নির্ভর করে গ্যাসের চাপ থাকা পর্যন্ত। স্বল্প চাপে স্টেশন বন্ধ করে রাখা হয়। শহরজুড়ে এখন সিএনজি চালক, উবার চালকদের গ্যাসের জন্য হাহাকার করতে দেখা গেছে। পাশাপাশি অনেক প্রাইভেটকার চালকও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

পুরান ঢাকার হাজারীবাগ, লালবাগ এলাকার ফিলিং স্টেশনগুলোতে গতকাল সোমবার বেশি ভিড় দেখা গেছে। সিএনজি ও প্রাইভেটকারের দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়। সিএনজি চালক মোতাহার হোসেন অভিযোগ করেন, গ্যাসের অভাবে ট্রিপ মারতে পারি না। অর্ধেকেরও কম গ্যাস পাওয়া যায় দীর্ঘ অপেক্ষার পর। এইভাবে চলা যায় না। কয়েকমাস আগে জ¦ালানি তেলের সংকট তৈরি করে সরকার তেলের দাম বাড়াইছে। এখন আবার গ্যাসের সংকট তৈরি করে গ্যাসের দাম বাড়ানোর পায়তারা করছে।

একই অভিযোগ করেছেন চালক আবু তাহের। তিনি বলেন, তেলের দাম বাড়ানোর পরই সংকট হাওয়া হইয়া যায়। এখন আবার গ্যাসের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করতাছে, এ কারণেই সংকট বানাইছে, এসব আমরা বুঝি।

উবারের প্রাইভেটকার চালক মোস্তফা বলেন, গ্যাসের চাপ কম থাকায় রোজগার হচ্ছে না। দুই ট্রিপ মারার পর আশঙ্কায় থাকি কখন যেন গাড়ি বন্ধ হয়ে যায়। তাই আবার গ্যাসের জন্য এসে লাইন দিই। কয়েকদিন আগে প্রাইভেট কারের ৬০ লিটারের সিলিন্ডারে ৬০০ থেকে ৭৫০ টাকার গ্যাসের ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকার গ্যাস নেয়া যেত। এখন চাপ কম থাকায় ২০০ টাকার বেশি নেয়া যাচ্ছে না, তবে চাপ ভালো থাকলে আরো একটু বেশি গ্যাস পাওয়া যায়। রাজধানীর আসাদগেট, মালিবাগ, গাবতলী, সায়দাবাদ, উত্তরাসহ সব এলাকার ফিলিং স্টেশনগুলোতে একই চিত্র দেখা গেছে।

এদিকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, গ্যাসের সরবরাহ আগামী সপ্তাহে কিছুটা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। আর সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরো কিছুটা সময় লাগবে। আগামী সপ্তাহে ৫০ শতাংশ সরবরাহ শুরু হলে পরের সপ্তাহে শতভাগ সরবরাহ হবে। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের একটি কারিগরি দল অ্যাকসিলারেট এনার্জির সঙ্গে কাজ করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দিনে ৫০ থেকে ৫৫ কোটি ঘনফুট গ্যাসের সরবরাহ বাড়বে। এর মধ্যে আগামী সপ্তাহে ২৮ থেকে ৩০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ শুরু হতে পারে। তাৎক্ষণিকভাবে এই সমস্যার সমাধান দেয়া যাচ্ছে না। দিতে পারছি না, এটা আমাদের সীমাবদ্ধতা। বারবার দুঃখ প্রকাশ করছি। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার। তাই জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করতে ন্যূনতম কোনো দ্বিধা নেই। গ্যাস সরবরাহ পুনরায় শুরুর বিষয়টি অ্যাকসিলারেটের তথ্যের ভিত্তিতে বলছি। দিন-তারিখ সুনির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। কারণ, এর আগে অ্যাকসিলারেট নির্দিষ্ট করে সময় বললেও নানা কারণে কাজ শেষ করতে পারেনি। এটি কারিগরি বিষয়। তাই আগাম সময় বলা কঠিন। এখানে কিছু যন্ত্রাংশ আমদানি করার বিষয় আছে। আমদানি খালাসের বিষয় আছে। তারা উড়োজাহাজে করে এগুলো নিয়ে আসবে। এটি দ্রুত খালাসে সরকার দায়িত্ব নেবে। সব প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।

উল্লেখ্য গত মঙ্গলবার কক্সবাজারে আগুন লেগে অ্যাকসিলারেট এনার্জির টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে সংকট তৈরি হয়। এর প্রভাব পড়েছে দেশজুড়ে। দেশে আমদানি করা এলএনজি রূপান্তর করে সরবরাহের জন্য কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এর একটি টার্মিনাল পরিচালনা করে মার্কিন কোম্পানি অ্যাকসিলারেট এনার্জি, অপরটি দেশের বেসরকারি কোম্পানি সামিট।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দেশে দিনে গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট। যদিও গত বছর থেকে দিনে সরবরাহ করা হচ্ছে গড়ে ২৭০ কোটি ঘনফুট। এলএনজির একটি টার্মিনাল বন্ধ হওয়ায় গ্যাস সরবরাহ কমে ২১৫ কোটি ঘনফুটের নিচে নেমে এসেছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

স্থগিত তেলাপোকাদের আন্দোলন, নেপথ্যে যে শর্ত

স্থগিত তেলাপোকাদের আন্দোলন, নেপথ্যে যে শর্ত

বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন

বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন

আগস্ট থেকে সব গণপরিবহনে জিপিএস বাধ্যতামূলক

আগস্ট থেকে সব গণপরিবহনে জিপিএস বাধ্যতামূলক

খাবার-পানি ছাড়াই ২৯ দিন বন্দি! ভেনেজুয়েলায় অলৌকিক জয় ‘বেইলি’র

খাবার-পানি ছাড়াই ২৯ দিন বন্দি! ভেনেজুয়েলায় অলৌকিক জয় ‘বেইলি’র

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App