অস্ট্রেলিয়া সফর
প্রস্তুতি ম্যাচেই বড় ধাক্কা খেল টাইগাররা
প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
কাগজ প্রতিবেদক
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজ শুরুর আগে প্রস্তুতি ম্যাচেই বড় ধাক্কা খেল বাংলাদেশ। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে তিন দিনের ম্যাচে দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হয়ে ইনিংস ও ৩৮ রানে হেরেছে নাজমুল হোসেনের দল। প্রথম ইনিংসে মেহেদী হাসান মিরাজের সেঞ্চুরির পরও দ্বিতীয় ইনিংসে এমন ভয়াবহ ব্যাটিং ধস নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে বাংলাদেশের ব্যাটিং সামর্থ্য নিয়ে।
ডারউইনের মারারা ওভালে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ করেছিল ২৬৩ রান। জবাবে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশ ৩৫৫ রান তুলে ৯২ রানের লিড নেয়। দ্বিতীয় দিনের শেষ বিকালে ১৯ রানে ২ উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপ নিয়েই শেষ করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু তৃতীয় ও শেষ দিনে সেই চাপ সামলানোর বদলে পুরোপুরি ভেঙে পড়ে ব্যাটিং।
মাত্র ১৬-১৭ ওভারের মধ্যেই বাকি আট উইকেট হারায় বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত ৫৪ রানে গুটিয়ে যায় পুরো দল। দ্বিতীয় ইনিংসে তানজিদ হাসান ছাড়া বাংলাদেশের আর কোনো ব্যাটার দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি। আগের দিন অপরাজিত থাকা তানজিদ ৪১ বলে ২২ রান করেন। মেহেদী হাসান মিরাজ করেন ৬, নাজমুল হোসেন, তাসকিন আহমেদ ও ইবাদত হোসেন ফেরেনও কোনো রান না করেই। সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হকও ৬ রান করে আউট হন। সৌম্য সরকার করেন ৫, মুশফিকুর রহিম ২।
বাংলাদেশের এই ব্যাটিং ধসের নায়ক ছিলেন ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বাঁহাতি পেসার ক্যাম্পবেল টম্পসন। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের ১০ উইকেটের আটটিই নিয়েছেন তিনি। বাকি দুটি উইকেট পেয়েছেন অফ স্পিনার কোরি রকিচোলি। টম্পসনের সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক তার অভিজ্ঞতা- আন্তর্জাতিক অভিষেক তো দূরের কথা, প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেও তিনি খেলেছেন মাত্র দুটি ম্যাচ। অথচ এমন অনভিজ্ঞ এক পেসারের সামনেই বাংলাদেশের অভিজ্ঞ ব্যাটিং লাইনআপ পুরোপুরি অসহায় হয়ে পড়ে।
প্রথম ইনিংসেও বাংলাদেশের ব্যাটিং খুব একটা স্বস্তিদায়ক ছিল না। মিরাজের সেঞ্চুরি দলকে ২৬৩ পর্যন্ত নিয়ে গেলেও আর কোনো ব্যাটার ফিফটির দেখা পাননি। ফলে দুই ইনিংস মিলিয়ে মিরাজের সেঞ্চুরি ছাড়া ব্যাট হাতে বলার মতো উল্লেখযোগ্য পারফরম্যান্স বলতে গেলে আর নেই।
সবচেয়ে বেশি হতাশ হয়েছেন দলের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স। ম্যাচ শেষে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পাঠানো ভিডিও বার্তায় তিনি ব্যাটারদের আউট হওয়ার ধরন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তার মতে, প্রস্তুতি ম্যাচে ব্যাট হাতে দল নিজেদের হতাশ করেছে। তবে মূল সিরিজের আগে ভুলগুলো শুধরে নেয়ার সুযোগ এখনো আছে বলেও মনে করেন তিনি।
সিমন্সের বিশ্বাস, টেস্ট ক্রিকেটে কীভাবে ব্যাট করতে হবে, সেটি নিয়ে কাজ করার জন্য হাতে থাকা সময়টুকু কাজে লাগাতে পারবেন ব্যাটাররা। দলের ওপর আস্থা রেখে তিনি জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে খেলোয়াড়রা টেস্টের জন্য নিজেদের গুছিয়ে নিতে পারবেন।
বাংলাদেশের জন্য অবশ্য সময় খুব বেশি নেই। আগামী বৃহস্পতিবার ডারউইনে শুরু হবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচ। এরপর ২২ আগস্ট ম্যাকাইয়ে হবে দ্বিতীয় টেস্ট। অর্থাৎ প্রস্তুতি ম্যাচে ভয়াবহ ব্যাটিং বিপর্যয়ের পর টেস্ট সিরিজের আগে হাতে রয়েছে মাত্র কয়েক দিন।
অস্ট্রেলিয়ার পেস আক্রমণে থাকবেন মিচেল স্টার্ক ও প্যাট কামিন্সের মতো বিশ্বমানের বোলার। সেখানে প্রস্তুতি ম্যাচে মাত্র একটি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলা টম্পসনের কাছেই যদি বাংলাদেশের ব্যাটিং এমনভাবে ভেঙে পড়ে, তাহলে টেস্ট সিরিজের আগে উদ্বেগের কারণ থাকছেই। মিরাজের ব্যাটিং নৈপুণ্য অবশ্যই স্বস্তি দিয়েছে, কিন্তু দলের টপ অর্ডার থেকে মিডল অর্ডার- সবখানেই দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানো এখন জরুরি।
প্রস্তুতি ম্যাচের ফল টেস্টের ফল নয়। তবে অস্ট্রেলিয়ার কঠিন কন্ডিশনে কী ধরনের চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে, তার একটি সতর্কবার্তা অবশ্যই দিয়ে গেল এই ম্যাচ। এখন সেই সতর্কবার্তা থেকে শিক্ষা নিয়ে কতটা দ্রুত নিজেদের বদলাতে পারে বাংলাদেশ, সেটিই দেখার।
