১৫৩ রানে এগিয়ে
ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশের দাপট
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ডারউইন টেস্টের দ্বিতীয় দিনটিও নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ। তানজিদ হাসানের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি, অধিনায়ক নাজমুল হোসেনের ৮৪ রানের ইনিংস এবং শেষদিকে মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদের দৃঢ়তায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বড় লিডের পথে এগিয়ে গেছে টাইগাররা। দ্বিতীয় দিন শেষে প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেটে ৩৫১ রান করেছে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের ১৯৮ রানের জবাবে বাংলাদেশের লিড দাঁড়িয়েছে ১৫৩ রানে।
ডারউইনে প্রথম দিনেই হাসান মাহমুদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে গুটিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ। এরপর দ্বিতীয় দিন ব্যাট হাতে শুরু থেকেই দাপট দেখায় সফরকারীরা। দিনের শেষ সেশনে অস্ট্রেলিয়া তিনটি উইকেট তুলে নিয়ে কিছুটা স্বস্তি পেলেও দিনটি শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশেরই হয়েছে।
বাংলাদেশের বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন তানজিদ হাসান ও মুমিনুল হক। দ্বিতীয় উইকেটে দুজন যোগ করেন ১০২ রান। ফিফটি থেকে মাত্র এক রান দূরে থাকতে জশ হ্যাজলউডের বলে কট বিহাইন্ড হয়ে ফেরেন মুমিনুল। তবে তার বিদায়ের পরও থামেনি বাংলাদেশের রান তোলার গতি।
ক্যারিয়ারের মাত্র দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নেমে তানজিদ তুলে নেন প্রথম সেঞ্চুরি। ১৯৭ বলে ১০১ রানের দারুণ ইনিংস খেলেন এই ওপেনার। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্টে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটারের এটিই প্রথম সেঞ্চুরি। তার ইনিংসে ছিল ১৩টি চার ও একটি ছক্কা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের এই বড় মঞ্চে এমন ইনিংস দিয়ে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়েছেন তানজিদ।
তানজিদের সঙ্গে এরপর জুটি বাঁধেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন। তৃতীয় উইকেটে দুজন যোগ করেন ৯৩ রান। তানজিদ সেঞ্চুরি করার পরই ফিরে গেলেও নাজমুল এগিয়ে যাচ্ছিলেন নিজের শতকের দিকে। তবে শেষ পর্যন্ত ১২৬ বলে ৮৪ রান করে আউট হন তিনি। নাথান লায়নের বলে এক রান নিয়ে ৭৪ বলে ফিফটি পূর্ণ করেছিলেন নাজমুল। টেস্টে এর আগে ১৫ বার ফিফটি করে নয়বারই সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। ফলে ডারউইনেও তার ব্যাটে আরেকটি তিন অঙ্কের ইনিংসের আশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু জশ হ্যাজলউডের নতুন বলের বাড়তি বাউন্সে সেই আশা শেষ হয়। অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ব্যাট চালিয়ে স্লিপে ক্যাচ দেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
নাজমুল ফেরার পর দ্রুত আরো দুটি উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ৩ উইকেটে ২৯৭ রান থেকে মাত্র পাঁচ ওভারের মধ্যে ৬ উইকেটে ৩০৮ রানে পরিণত হয় বাংলাদেশের স্কোর। কামিন্স ও মিচেল স্টার্কের বলে লিটন দাস ও মুশফিকুর রহিম ফিরে গেলে কিছুটা চাপে পড়ে বাংলাদেশ। তখন মনে হচ্ছিল, দিনের শেষেই হয়তো বাংলাদেশকে অলআউট করে দিতে পারবে অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু সেই সম্ভাবনা উড়িয়ে দেন মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদ। সপ্তম উইকেটে দুজন মিলে ২৪ দশমিক ৩ ওভার ব্যাট করে দিন শেষ করেন। তাদের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে এসেছে ৪৩ রান।
ব্যাট হাতে হাসান মাহমুদের লড়াই ছিল বিশেষভাবে নজরকাড়া। আগের দিন বল হাতে ছয় উইকেট নেয়া এই পেসার এবার ব্যাট হাতে অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের হতাশ করেছেন। ৭৬ বল খেলে দুটি বাউন্ডারিতে ১৬ রানে অপরাজিত আছেন তিনি। অন্য প্রান্তে মিরাজ অপরাজিত ৩২ রানে। তিনি খেলেছেন ৭৩ বল। শেষ দিকে হাসান ও মিরাজকে ভাঙতে নানা চেষ্টা করেছে অস্ট্রেলিয়া। স্লেজিং করেও তাদের মনোযোগ নষ্ট করার চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু কোনো কিছুতেই কাজ হয়নি। শেষ পর্যন্ত আর কোনো উইকেট না হারিয়েই দিন শেষ করে বাংলাদেশ।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে জশ হ্যাজলউড ও মিচেল স্টার্ক দুটি করে উইকেট নিয়েছেন। প্যাট কামিন্স নিয়েছেন একটি উইকেট। তবে বাংলাদেশের ব্যাটারদের দাপটে দিনটি শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার জন্য হতাশারই ছিল। এখন বাংলাদেশের সামনে বড় সুযোগ। তৃতীয় দিনে দ্রুত আরো রান যোগ করে লিড বাড়ানোর পর অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে চাপ তৈরি করতে পারলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরো শক্তভাবে নিজেদের হাতে নিতে পারবে টাইগাররা। আর প্রথম দুই দিনের পারফরম্যান্স বলছে, ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন দেখতেই পারে বাংলাদেশ।
