স্বাস্থ্যসেবা
আস্থার সংকটে রোগী যাচ্ছে বিদেশে, সেই সঙ্গে ডলারও
সেবিকা দেবনাথ
প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়নের কথা প্রায় সময়ই উঠে আসে সরকারসহ বিভিন্ন মহলের বক্তব্যে। একই সঙ্গে তাদের কণ্ঠে রোগীদের বিদেশমুখী প্রবণতার জন্য আক্ষেপও ফুটে ওঠে। কেবল চিকিৎসা নিতেই প্রতিবছর বিদেশমুখী হচ্ছেন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ। বিত্তবানদের পাশাপাশি মধ্যবিত্তদের অনেকেই সেই পথে হাঁটছেন। বিদেশ যাওয়ার এই প্রণতা ক্রমেই বাড়ছে। জটিল রোগের ক্ষেত্রে যেখানে প্রয়োজনীয় দক্ষতা বা প্রযুক্তি দেশে নেই, সেখানে বিদেশে চিকিৎসা নেয়া স্বাভাবিক। সমস্যা তৈরি হয় তখনই, যখন মানুষ দেশে চিকিৎসা থাকা সত্ত্বেও বিদেশমুখী হন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার স্বাভাবিক চিত্র হলো- প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা যখন ভালো হয়, তখন বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবার ঝুঁকি বাড়ে। গড় আয়ু বাড়লে বার্ধক্যজনিত রোগ বাড়বে। অপুষ্টিজনিত রোগ কমলে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, ক্যান্সার, স্থূলতার মতো সমস্যাগুলোর ঝুঁকি বাড়বে। আমাদের যেভাবে বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবার দিকে নজর দেয়ার দরকার ছিল, সেভাবে নজর দেয়া হয়নি। বিভিন্ন দেশ স্বাস্থ্য খাতকে অর্থনৈতিক খাত হিসেবে গড়ে তুলেছে। তারা ‘হেলথ ট্যুরিজম’ শব্দের সঙ্গে পরিচয় করিয়েছে, যা আমরা পারিনি। এছাড়া সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিত্তবানরা নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্যও বিদেশে যাচ্ছেন, যা দেশের স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসকদের প্রতি তাদের অনাস্থারই প্রমাণ দেয়। রাষ্ট্রপতি থেকে শুরু করে মন্ত্রী, এমপি, রাজনৈতিক নেতা, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা হরহামেশা এমনকি নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্যও বিদেশ যাচ্ছেন।
প্রতিবছর কয়েক লাখ রোগীর বিদেশযাত্রা এবং কয়েক বিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য অর্থপ্রবাহ তাই কেবল ‘মেডিকেল ট্যুরিজম’-এর পরিসংখ্যান নয়। এটি বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থার একটি বড় মাপকাঠি এবং একই সঙ্গে দেশের অর্থনীতির জন্য একটি সতর্কসংকেত।
এক্ষেত্রে একটি প্রশ্নই সামনে আসে, কেন এই বিপুল সংখ্যক মানুষ চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখী হচ্ছেন? উত্তরটা সহজ এবং জানা। ‘আস্থার সংকট’। গতকাল শনিবার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালের ভবন-২ উদ্বোধন কালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও বলেছেন, যদি রোগী ও তার স্বজনেরা চিকিৎসকদের ওপর বিশ্বাস ও মর্যাদার সম্পর্ক অনুভব না করেন, তাহলে হাসপাতালের অবকাঠামোগত উন্নয়ন যতই করা হোক, চিকিৎসার জন্য রোগীদের বিদেশমুখিতা বন্ধ করা যাবে না।
বিশেষজ্ঞদের আলোচনাতেও উঠে এসেছে- দেশে চিকিৎসা প্রযুক্তি বা চিকিৎসক থাকা সত্ত্বেও রোগীরা কখনো কখনো বিদেশে যান, কারণ সেখানে তারা নির্দিষ্ট সময়ে চিকিৎসা, সমন্বিত সেবা, স্বচ্ছ প্রক্রিয়া ও রোগীর প্রতি বেশি মনোযোগ পাওয়ার প্রত্যাশা করেন।
এক্ষেত্রে দেশের ভেতরেও বৈষম্য রয়েছে। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৩৬টি বিশেষায়িত হাসপাতালের ১৯টিই ঢাকা জেলায়। ৫ হাজার ৪৬১টি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের মধ্যে ১ হাজার ৮১০টি ঢাকা বিভাগে। ফলে ঢাকার বাইরের রোগীদের জন্য জটিল চিকিৎসা পাওয়া আরো কঠিন হয়ে পড়ে।
কোন রোগে বিদেশে বেশি যাচ্ছে
গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে ১০ ধরনের রোগী চিকিৎসার জন্য বেশি বিদেশ যাচ্ছেন। এর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে হৃদরোগ, ক্যান্সার, অর্থপেডিক সার্জারি, কসমেটিক সার্জারি, বন্ধ্যাত্ব, ইএনটি, নিউরোলজি, চোখের সমস্যা, লিভার রোগ এবং স্থুলতা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের এক গবেষণায় দেখা গেছে, বিদেশে চিকিৎসার জন্য যাওয়া রোগীদের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থায় রয়েছে ক্যান্সার রোগীরা, যা মোট বিদেশগামী রোগীর শতকরা ২১ শতাংশ। এরপর হৃদরোগের জন্য ১৮ শতাংশ বাংলাদেশি বিদেশ যাচ্ছেন। এছাড়া প্রজনন জটিলতা, অর্থোপেডিক, গ্যাস্ট্রোঅ্যান্ট্রোলজি, লিভার, কিডনি, চোখ, কান ও স্নায়বিক চিকিৎসার জন্য ভারতসহ বিভিন্ন দেশে যান বাংলাদেশিরা। এদিকে ১ হাজার ১৯৬ জন পর্যটকের ওপর পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়া রোগীদের মধ্যে হৃদরোগীর হার ১২ দশমিক ২০ শতাংশ। চোখের চিকিৎসায় ১০ দশমিক ৫৩ শতাংশ, কিডনি সমস্যায় ৮ শতাংশ এবং ক্যান্সারের চিকিৎসায় ৭ দশমিক ৫২ শতাংশ রোগী বিদেশে যায়। এছাড়া ফ্র্যাকচার, হাড়ের সমস্যা, পেটের রোগ, লিভার, ডায়াবেটিস ও গাইনি সমস্যার চিকিৎসা নিতেও মানুষ বিদেশমুখী হচ্ছে।
কোন দেশে রোগী বেশি যাচ্ছে
বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়া ৩২২ ব্যক্তির ওপর করা এক সমীক্ষায় দেখা যায়, ৫১ দশমিক ৫ শতাংশ ভারত, ২০ শতাংশ সিঙ্গাপুর এবং ২০ শতাংশ থাইল্যান্ডে গেছে। অন্যান্য দেশে গেছে প্রায় ১০ শতাংশ রোগী। এসব রোগীর ৫২ দশমিক ৫ শতাংশই গেছে সাধারণ স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য। সার্জারির জন্য ২৭ দশমিক ৬ শতাংশ, ক্যান্সার বা টিউমারের চিকিৎসায় ৬ দশমিক ৫ শতাংশ এবং দাঁতের চিকিৎসায় ২ দশমিক ২ শতাংশ রোগী গেছে।
বছরে কত টাকা যাচ্ছে বিদেশে?
বিদেশে চিকিৎসার খরচ মেটাতে বৈধ পথে বৈদেশিক মুদ্রা নেয়ার প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে। এখানেই বিষয়টি স্বাস্থ্য খাত ছাড়িয়ে অর্থনীতির প্রশ্নে পরিণত হয়েছে। সিডিসিআই’র এক আলোচনায় বলা হয়েছে, চিকিৎসার ঘাটতির কারণে বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর প্রায় ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশে চলে যাচ্ছে। একই ধরনের হিসাব বিভিন্ন স্থানীয় গবেষণা ও শিল্পসংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে পাওয়া যায়। গত ১১ জুলাই ঢাকা মেডিকেল কলেজের ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে প্লাস-মাইনাস ৫ বিলিয়ন ডলার বিদেশে চিকিৎসার জন্য চলে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, মাত্র ৪ বছরের ব্যবধানে বৈধ পথে চিকিৎসার অর্থপ্রবাহ বেড়েছে ৯ দশমিক ৬ গুণ। সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিদেশে চিকিৎসার জন্য বৈধ পথে পাঠানো হয়েছে ৩ কোটি ২৭ লাখ ডলার। এর আগে ২০২১-২২ অর্থবছরে পাঠানো হয়েছিল মাত্র ৩৪ লাখ মার্কিন ডলার। ২০২২-২৩ অর্থবছরে তা আরে কমে ১৮ লাখ ডলারে নামে। এরপর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এক লাফে তা দাঁড়ায় এক কোটি ডলারে।
খাত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে হুন্ডি, নগদ বৈদেশিক মুদ্রা ও অন্যান্য অনানুষ্ঠানিক ব্যবস্থায় বিপুল অর্থ বিদেশে যাচ্ছে। ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে সামান্য অংশই ধরা পড়ছে। বিভিন্ন পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশি রোগীরা প্রতিবছর বিদেশে চিকিৎসার জন্য ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ৪শ থেকে ৫শ কোটি ডলার। অন্যদিকে সর্বশেষ অর্থবছরে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে চিকিৎসার জন্য গেছে মাত্র ৩ কোটি ২৭ লাখ ডলার।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ৫ বিলিয়ন ডলার বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য ছোট অঙ্ক নয়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকারের স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ ছিল ৪১ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা, যা প্রায় ৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ। অর্থাৎ ৫ বিলিয়ন ডলারের বিদেশমুখী চিকিৎসা ব্যয়ের হিসাবটি সঠিক হলে, তা সরকারের এক বছরের মোট স্বাস্থ্য বাজেটের চেয়েও বড়।
‘আস্থার সংকট’ সবচেয়ে বড় সমস্যা
এ সম্পর্কে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতি আস্থার সংকটের কারণেই বিদেশমুখী এই প্রবণতা। এর পাশাপাশি দেশে চিকিৎসা ব্যয়ও অনেক বেশি। রোগী এবং স্বাস্থ্য অধিকার নিয়ে যারা কাজ করেন তাদের অভিযোগ, দেশে চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক মানসিকতাই বেশি। রোগ নির্ণয় ও সঠিক চিকিৎসায়ও ঘাটতি রয়েছে। এছাড়া যারা স্বাস্থ্যসেবা দেন, তাদের বেশির ভাগেরই আচরণ আন্তরিক নয়। রোগীকে পর্যাপ্ত সময় ও মনোযোগ দেয়ার মানসিকতা অনুপস্থিত। তাই চিকিৎসা নিতে বিদেশে ছুটছে মানুষ। স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদদের মতে, এর ফলে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে চলে যাচ্ছে। কিন্তু এ পরিস্থিতি উত্তরণের জন্য কর্তৃপক্ষের কোনো নীতিমালা এবং কৌশল নির্ধারণ করা নেই।
প্রখ্যাত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ মনে করেন, বিদেশে চিকিৎসা নেয়ার পেছনে বেশকিছু কারণ রয়েছে। যেমন- হয়রানি ছাড়াই দ্রুত রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসাপ্রাপ্তির জন্য যাচ্ছে। একশ্রেণির মানুষের অনেক অর্থকড়ি থাকায় তারা সামাস্য অসুখেও বিদেশে যাচ্ছেন। প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্রের ঘাটতি রয়েছে। তবে প্রধান কারণ আস্থার সংকট। বিদেশনির্ভরতা বন্ধ করতে হলে, চিকিৎসকদের রোগীবান্ধব হতে হবে। চিকিৎসা নেয়ার ক্ষেত্রে রোগীদেরও সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব থাকতে হবে। হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা দূর করতে হবে। হাসপাতালে সব ধরনের চিকিৎসা সরঞ্জাম, স্বাস্থ্যকর্মী ও জনবল নিশ্চিত করতে হবে।
স্বাস্থ্য অধিকার আন্দোলনের আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. রশীদ-ই-মাহবুব মনে করেন, কিছু চিকিৎসার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের হাসপাতালগুলোতে উন্নত প্রযুক্তি এখনো আসেনি। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া সম্ভব। ৯০ শতাংশ চিকিৎসা আমাদের এখানে সম্ভব।
রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বিদেশে চিকিৎসা নেয়া প্রসঙ্গে তিনি ভোরের কাগজকে বলেন, মানুষ তার ইচ্ছেমতো যেখানে ইচ্ছা সেখানে চিকিৎসা করাতে পারে। করোনার সময় তারা কি বাইরে গেছেন? তখন তো দেশেই চিকিৎসা নিয়েছেন। কিন্তু দেশে চিকিৎসার ব্যাপারে তাদের আস্থা এবং দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতির বিষয়ে ইচ্ছা- দুটোরই ঘাটতি আছে। গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা বিদেশে চিকিৎসা নিতে গেলে জনগণের মধ্যে অনাস্থা তৈরি হবেই। এই সমস্যা সমাধানে রাষ্ট্রের নীতিগত সিদ্ধান্ত থাকতে হবে। রাষ্ট্রের এই জায়গাটাতে দুর্বলতা আছে।
বিদেশমুখী প্রবণতার কারণ সম্পর্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আবদুল হামিদ মনে করেন, বিদেশমুখী হওয়ার প্রধান কারণ হলো পুরো স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থার সংকট। তিনি ভোরের কাগজকে বলেন, বাংলাদেশে দক্ষ চিকিৎসক অনেক থাকলেও রোগীর কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, সঠিকভাবে ইতিহাস নেয়া এবং রোগীকে চিকিৎসা প্রক্রিয়া বোঝানোর ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়েছে। ভুল বা অস্পষ্ট রোগ নির্ণয় হলে রোগীর আস্থা শুধু একজন চিকিৎসকের ওপর নয়, পুরো ব্যবস্থার ওপরই কমে যায়। অর্থাৎ বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত সবসময় ‘উন্নত চিকিৎসা’ পাওয়ার জন্য নয়; অনেক ক্ষেত্রে এটি ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা। সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ভারতে যাতায়াতের সুবিধা, থাকা-খাওয়া ও চিকিৎসা খরচ অনেকাংশে কম এবং ভিসা প্রাপ্তির সহজলভ্যতা, ভাষাগত সুবিধার কারণেও বাংলাদেশের মানুষ ভারতে বেশি যাচ্ছে বলে তিনি মনে করেন এই স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদ।
রোগীদের বিদেশমুখী প্রবণতা প্রসঙ্গে সম্প্রতি সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. জাহিদ হোসেন স্পষ্ট করেছেন যে, সরকার চায় না সাধারণ মানুষ চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাক। দেশেই উন্নত ও বিশ্বমানের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে, যাতে রোগীদের বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা কমে আসে।
