×

প্রথম পাতা

বঙ্গবন্ধুর শাহাদাত বার্ষিকী

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে কঠোর নিরাপত্তা, মারধর-আটক ৪

Icon

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী ঘিরে রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে কঠোর নিরাপত্তা জোরদার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গতকাল শনিবার দুপুর পর্যন্ত সেখানে শ্রদ্ধা জানাতে আসা চারজনকে আটক করা হয়। এদিকে মব সৃষ্টি করতে এসে ?‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয় দেয়া কয়েকজন যুবক সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের প্রতিবাদের মুখে পালিয়ে যায়।

১৫ আগস্ট ঘিরে গত শুক্রবার দিবাগত রাত থেকেই ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কের বঙ্গবন্ধু ভবন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। পুলিশসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের নজরদারি শুরু হয়। ওই সড়কে কাউকে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। গতকাল শনিবার সকাল থেকে সেখানে আরো বেশি সংখ্যক পুলিশ সদস্যদের মোতায়েন করা হয়।

সকাল থেকে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সংবাদকর্মীরা সেখানে জড়ো হতে থাকে। একই সঙ্গে উৎসুক লোকজনকেও সেখানে ভিড় করতে দেখা যায়। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ব্যাপক উপস্থিতির পাশাপাশি পুলিশের সাঁজোয়া যানও প্রস্তুত রাখা হয়। তার মধ্যেও মারধরের ঘটনা ঘটে।

টাঙ্গাইল থেকে আসা যুবলীগ কর্মী অর্ণব দাস (৩৮) শ্রদ্ধা জানাতে এসে পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন। সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে আসা যুবলীগ কর্মী নিপু মিয়া (৩০) আটক হন। এ ছাড়া আরো দুইজনকে আটক করা হয়। তাদের পরিচয় জানা যায়নি। চারজনকেই ধানমন্ডি থানায় পাঠানো হয়।

গতকাল শনিবার দুপুর ১২টার দিকে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে সড়কের প্রবেশমুখে এ মারধরের ঘটনা ঘটেছে। তাৎক্ষণিকভাবে মারধরের শিকার ব্যক্তিদের নাম ও পরিচয় পাওয়া যায়নি। ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জয় বাংলা স্লোগান দেয়া, মোবাইলে ভিডিও ধারণ ও শিঙাড়া বিলি করার অভিযোগে ওই তিনজনকে মারধর করা হয়। আ ন ম আয়াস নামের এক ব্যক্তির নেতৃত্বে একদল জনতা তাদের মারধর করে। আয়াস ও তার লোকজন নিজেদের ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয় দেয়। আ ন ম আয়াস ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’ (এসডিএফ) নামে একটি সংগঠনের সদস্যসচিব বলে পরিচয় দেয়।

ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ ইমদাদুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অর্ণব দাসের বাড়ি টাঙ্গাইলে। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের সক্রিয় কর্মী বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

দুপুর পৌনে ১২টার দিকে ৩২ নম্বরের প্রবেশমুখে একজন রিকশাচালক তার মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করছেন। একপর্যায়ে আয়াস তার কাছে যান, ফোন চেক করেন। ভিডিওটি যুবলীগের একজনকে পাঠিয়েছেন- এমন অভিযোগ তোলে। এ সময় আয়াসের সঙ্গে থাকা কয়েকজন ওই রিকশাচালককে মারধর করে। পরে পুলিশ এসে ওই রিকশাচালককে আটক করে ধানমন্ডি থানায় নিয়ে যায়। রিকশাচালককে মারধরের সময় সেখানে থাকা আরেক ব্যক্তি ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন। পরে তাকেও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে দৌড়ে পালিয়ে যান ওই ব্যক্তি।

দুপুর ১২টার দিকে বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শিঙাড়া বিলি করছেন- এমন অভিযোগ এনে আরেক ব্যক্তিকে মারধর করা হয়। এ সময় ওই ব্যক্তির হাতে একটি ব্যাগ দেখা গেছে। ভেতরে শিঙাড়া ছিল। মারধরের একপর্যায়ে ওই ব্যক্তিও দৌড়ে সেখান থেকে পালিয়ে যান।

আ ন ম আয়াস সাংবাদিকদের বলেন, নিষিদ্ধ (কার্যক্রম) সংগঠন আওয়ামী লীগ, যুবলীগের নেতা-কর্মীরা যাতে কোনো অপতৎপরতা করতে না পারে, সে জন্য তারা অবস্থান করছেন। কাউকে পেলে পুলিশের হাতে তুলে দিচ্ছেন।

মব সৃষ্টি করে কাউকে মারধর করতে পারেন কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে আয়াস বলেন, তিনি মব সৃষ্টি করছেন না। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ পেলে ধরে শুধু পুলিশের কাছে সোপর্দ করছেন। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে আয়াস সেখান থেকে চলে যান।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের ধানমন্ডি জোনের সহকারী কমিশনার সাদ্দাম হোসেন বলেন, ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত পরিমাণ পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। তারা পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা করছেন।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা বঙ্গবন্ধু ভবনে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। সেদিন বিকাল ৪টা থেকে ভবনটির ভেতর থাকা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রায় সব স্মৃতিচিহ্ন গুঁড়িয়ে দেয়া হয়। সেখানে থাকা মুক্তিযুদ্ধের দুর্লভ স্মৃতিচিহ্নসহ বই ও কাগজপত্র এবং মূল্যবান সামগ্রী পোড়ানো হয় অথবা লুটপাট করা হয়। পাশাপাশি ‘বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টে’র কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত আরো তিনটি বহুতল ভবনে ভাঙচুর করা হয়। ওই দিন বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে ধানমন্ডি লেকসংলগ্ন খোলা চত্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি এবং বই ও স্মারক বিক্রির স্টলসহ অন্যান্য স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেয়া হয়। বঙ্গবন্ধু ভবন-সংলগ্ন ব্যক্তি মালিকানাধীন সান্তুর রেস্টুরেন্টেও ভাঙচুরের পর

আগুন দেয় জুলাই যোদ্ধারা। এ ছাড়া বিভিন্ন ভবনের সামনে পার্ক করা বেশ কয়েকটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। পর দিন ৬ আগস্ট সকালে আগুন নেভাতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর ও আশপাশের ভবনসহ সান্তুর রেস্টুরেন্ট থেকে কমপক্ষে চারটি দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গত বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি রাতে বঙ্গবন্ধু ভবনে আরেক দফা ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালানো হয়। সেই সময় এক্সক্যাভেটর, ক্রেন ও বুলডোজার এনে বঙ্গবন্ধু ভবনসহ সামনে-পেছনের তিনটি ভবনের অবশিষ্ট অংশ, সামনের উঁচু দেয়াল ও লোহার গেটগুলোও গুঁড়িয়ে দেয়া হয়। পরের তিন-চার দিন সেখানে হাতুড়ি, শাবল দিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় জুলাই যোদ্ধারা।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

শিগগিরই ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

শিগগিরই ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ডনের জবানবন্দিতে মিলল সালমান শাহ হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য

ডনের জবানবন্দিতে মিলল সালমান শাহ হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য

রাজশাহীর তাজা মাছ বিদেশে রপ্তানির ব্যবস্থা করা হবে

ভূমিমন্ত্রী রাজশাহীর তাজা মাছ বিদেশে রপ্তানির ব্যবস্থা করা হবে

পে-স্কেল চূড়ান্ত, যা জানা যাচ্ছে...

পে-স্কেল চূড়ান্ত, যা জানা যাচ্ছে...

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App