১০ জনকে চাকরি ৩ জনকে রিকশা উপহার দিলেন প্রধানমন্ত্রী
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
জুলাই আন্দোলনের দুই যোদ্ধাসহ তিন ব্যক্তির আত্মকর্মসংস্থান ও জীবিকা নির্বাহে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা, দুটি ব্যাটারিচালিত রিকশা ও দুটি প্যাডেল রিকশা উপহার দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে গতকাল শনিবার আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাদের হাতে এসব উপহার তুলে দেন। এছাড়া জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ও গুরুতর আহত ১০ ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব গাজী শাহরিয়ার পামির বলেন, উপহার তুলে দেয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী প্রত্যেকের সঙ্গে আন্তরিকভাবে কথা বলেন। তাদের শারীরিক অবস্থা, পরিবার ও জীবিকা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
এর মধ্যে সিএনজিচালিত অটোরিকশা পেয়েছেন নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার বাসিন্দা এবং মিরপুর বাংলা কলেজের সমাজকর্ম বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আজিজ শেখ। তিনি সিএনজি চালিয়ে নিজের পড়াশোনার পাশাপাশি পরিবারের ভরণপোষণ করেন। জুলাই অভ্যুত্থানে মিরপুর-১০ এলাকায় অংশ নিয়ে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। তার শরীরে ৩৬টি গুলির স্প্রিন্টার বিদ্ধ হয়। উপহার দেয়ার সময়ে প্রধানমন্ত্রী তাকে বলেন, অবশ্যই পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হবে।
এদিকে কুষ্টিয়ার আলমডাঙ্গা উপজেলার বাসিন্দা মো. গফফারকে দুটি প্যাডেলচালিত রিকশা উপহার দেয়া হয়। জুলাই অভ্যুত্থানের সময় তিনি রাজধানীর মহাখালী এলাকায় আন্দোলনকারীদের নিয়মিত পানি সরবরাহ করেছেন এবং নিজের রিকশায় আহতদের হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছেন। তিনি জানান, উপহার পাওয়া রিকশা ঢাকাতেই চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করবেন তিনি। আরেকটি রিকশা ভাড়া দেবেন।
এছাড়া বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাসিন্দা ৬৫ বছর বয়সী আসাদুল হক বিশুকে দুটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা উপহার দেন প্রধানমন্ত্রী। কর্মসংস্থানের অভাবে অনেক কষ্টে জীবনযাপন করছিলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী নিজে
উপস্থিত থেকে উপহার পাওয়া বাহনগুলো কীভাবে পরিচালনা করা হবে তা প্রত্যক্ষ করেন। পাশাপাশি তারা কীভাবে নিরাপদে এসব বাহন নিয়ে নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছাবেন, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ (সালেহ শিবলী) এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
১০ ব্যক্তিকে চাকরির নিয়োগপত্র : এদিকে গতকাল শনিবার তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জুলাই ২০২৪-এর অভ্যুত্থানে শহীদ ও গুরুতর আহত ১০ ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি হাসান শিপলু এ তথ্য জানিয়েছেন।
নিয়োগপত্র পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন- শহীদ মো. সোহাগের স্ত্রী সাবিনা আক্তার রিমা, শহীদ মো. শাহরিয়ারের স্ত্রী রাজিয়া খাতুন, শহীদ মো. আব্দুল্লাহ কবিরের স্ত্রী আফসানা আক্তার, শহীদ মো. মোস্তফা কামাল রাজুর স্ত্রী আকলিমা আক্তার, শহীদ মো. জুয়েলের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার সুবর্ণা, শহীদ মিরাজের বোন সামিয়া ইসলাম পপি, শহীদ আহসান কবিরের স্ত্রী হাফিজা আক্তার হ্যাপি এবং শহীদ ওমর নুরুল আবছারের স্ত্রী ফারজানা আক্তার রাণী। এ ছাড়া গুরুতর আহত মো. আব্দুল মতিনের স্ত্রী সাবানা আক্তার এবং গুরুতর আহত মো. জুলফিকার আলমের স্ত্রী মোছা. আরজু আক্তারও চাকরির নিয়োগপত্র পেয়েছেন।
স¤প্রতি চাকরিতে যোগ দিয়েছেন শহীদ আব্দুল্লাহ বীন জাহিদের মা ফাতেমা তুজ জোহরা ও আহত জুলাই যোদ্ধা সোহেলি তামান্না। অনুষ্ঠানে এসে তারাও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন। চাকরির নিয়োগপত্র পেয়ে অনুষ্ঠানে শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত জুলাই যোদ্ধারা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সুন্দর ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, জুলাই অভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন সময়ে দেশের মানুষের আত্মত্যাগের মূল লক্ষ্য ছিল এমন একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে মানুষ আরো ভালোভাবে বসবাস করতে পারবেন। দেশের মানুষের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা এবং তাদের প্রত্যাশার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেকেই জুলাইয়ের আন্দোলনে সরাসরি অংশ নিয়েছেন। আবার কারো আপনজন এই আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। তাদের নিজেদের বা আপনজনদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজ বাংলাদেশের মানুষ একটি মুক্ত পরিবেশে বসবাস করতে পারছেন। রাষ্ট্র ও সরকারের নানা সীমাবদ্ধতার কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সীমাবদ্ধতার মধ্যেও দেশকে বাস্তবতার নিরিখে এগিয়ে নিতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা কী পেলাম, সেটিই সবচেয়ে বড় কথা নয়। বরং আমরা দেশকে কী দিতে পারলাম, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। এই লক্ষ্য সামনে রেখে ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে পারলে আগামী দিনে আমরা যে বাংলাদেশ চাই, সেই প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়নের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং আমরা বিএনপি পরিবারের সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন উপস্থিত ছিলেন।
